গৃহবধুকে ধর্ষণ: পুলিশের সোর্স গ্রেপ্তার

আগের সংবাদ

করোনার থাবার মধ্যেও রেমিটেন্সে রেকর্ড

পরের সংবাদ

ফ্রিজ মেরামত করেন বিশ্বের ৩য় সেরা বোলার

খেলা ডেস্ক

প্রকাশিত হয়েছে: আগস্ট ৩, ২০২০ , ৭:১৪ অপরাহ্ণ

প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে খেলেছিলেন ১৯৯৫-৯৬ সালে। তখনও ক্রিকেটকে ভবিষ্যত হিসেবে বেছে নেননি তিনি। তবে কপাল খুলে যায় ১৯৯৯-২০০০ সালে। তৎকালীন সময়ে শ্রীলঙ্কা সফরে গিয়ে বিপাকে পড়ল জিম্বাবুয়ে দল। অফ ফর্ম এবং চোটের কারণে দলের বাইরে থাকেন পল স্ট্র্যাং, অ্যাডাম হাকল, অ্যান্ড্রু হুইটল। জাতীয় দলের নির্বাচকদের নজরে থাকায় দলে সুযোগ পেলেন স্পিনার প্রাইস। এর পর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে। তবে, ক্রিকেট যুদ্ধে সর্বোচ্চ অবস্থান করে নিতে পারলেও জীবন যুদ্ধের মাঠে তার গল্পটা নির্মম। পড়াশোনার পাশাপাশি শিখেছিলেন রেফ্রিজারেটর এবং এয়ারকন্ডিশনিং মেশিন সারাইয়ের কাজ। সেটাই পরবর্তী জীবনে হয়ে দাঁড়াল বেঁচে থাকার উপায়।

পুরো নাম উইলিয়াম রেমন্ড প্রাইস। জন্ম ১৯৭৬-এর ১২ জুন। জন্মের কয়েক মাস বয়সেই মেনিনজাইটিস। তার বেঁচে থাকার আশা প্রায় ছেড়েই দিয়েছিলেন চিকিৎসকরা। তাঁদের আশঙ্কা ভুল প্রমাণ করে প্রাইস বেঁচে থাকলেন। কিন্তু হারালেন শ্রবণক্ষমতা।
তিনি যে কিছু শুনতে পারছেন না, সেটা অনেক পরে বুঝতে পেরেছিলেন বাড়ির লোক। চার বছর বয়সে জটিল অস্ত্রোপচারে ফিরে আসে প্রাইসের শ্রবণক্ষমতা। কিন্তু বেশ কিছু শারীরিক সমস্যা তার আজীবনের সঙ্গী হয়ে থাকে। তার বয়সিদের তুলনায় বেশ কিছুটা দেরি করেই শুরু হয়ে তার স্কুলপর্ব। এমনই যুদ্ধ চলতে থাকে তার জীবনজুড়ে।

নিজের মেরামতের দোকানে উইলিয়াম রেমন্ড প্রাইস

২০০৩-এ প্রথমে ইংল্যান্ড, তার পর অস্ট্রেলিয়া সফরে নজর কেড়ে নিলেন প্রাইস। সেই সময় থেকে সমসাময়িক বিশ্বমানের স্পিনারদের সঙ্গে আলোচনায় উঠে আসে প্রাইসের নামও। ২০০৪ সালে সুর কাটল কেরিয়ারে। তৎকালীন অধিনায়ক হিথ স্ট্রিকের সঙ্গে প্রাইস-সহ বেশ কয়েক জন ক্রিকেটার বিদ্রোহ ঘোষণা করেন জিম্বাবুয়ে ক্রিকেট দলের বিরুদ্ধে। প্রাইস ইংল্যান্ডে কাউন্টি ক্রিকেট খেলতে চলে যান। ইংল্যান্ডের জাতীয় দলে খেলার ইচ্ছে প্রকাশ করেন। ২০০৬-এ তিনি আবার জিম্বাবুয়ে ফিরে আসেন। জাতীয় পর্যায়ে বেশ কিছু ম্যাচ খেলেন। হয়তো তার উদ্দেশ্য ছিল পরের বিশ্বকাপে খেলা। কিন্তু ২০০৭ বিশ্বকাপ ক্রিকেটের দল বাছাইয়ের সময় তার দিকে ফিরে তাকাননি নির্বাচকরা।

বিশ্বকাপে প্রত্যাখ্যাত প্রাইস এ বার ঠিক করলেন তিনি আবার জিম্বাবুয়ের হয়েই খেলবেন। সাড়ে তিন বছর কাউন্টি ক্রিকেট খেলার পরে নির্দিষ্ট সময়ের এক বছর আগেই উর্সস্টারশায়ার কাউন্টির সঙ্গে চুক্তি ভঙ্গ করলেন। ২০০৭-এ জিম্বাবুয়ের জাতীয় দলে ফিরলেন প্রাইস। দেশের হয়ে কেরিয়ারের দ্বিতীয় ইনিংসে নিজের বিগত পারফরম্যান্সকে ছাপিয়ে গেলেন প্রাইস। ২৭টি ওয়ানডে ম্যাচে ৪৫ উইকেট নিয়ে আইসিসি-র তালিকায় তিনি উঠে এলেন বিশ্বের তৃতীয় সেরা বোলার হিসেবে। এর পর তিনি হয়ে ওঠেন জাতীয় দলের নিয়মিত সদস্য। ২০১৩-র মার্চে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সঙ্গে সিরিজ চলাকালীন ক্রিকেট থেকে অবসর ঘোষণা করেন প্রাইস। কেরিয়ারে মোট ২২ টেস্টে তিনি উইকেট পেয়েছেন ৮০টি। ইনিংসে ৫ উইকেট পেয়েছেন পাঁচ বার। সেরা বোলিং পারফরম্যান্স ৬/৭৩।

খেলার সরঞ্জামাদির দোকান দিয়েছিলেন উইলিয়াম রেমন্ড প্রাইস

১০২টি ওয়ানডে ম্যাচে তার শিকার ১০০ উইকেট। সেরা পারফরম্যান্স ২২ রানে ৪ উইকেট। কিন্তু তার নিজের দেশেই প্রাইস অনুচ্চারিত থেকে গিয়েছেন। টেস্টে তিনি জিম্বাবুয়ের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ উইকেট সংগ্রাহক। জিম্বাবোয়ের যে চার জন বোলার ওয়ান ডে তে একশো উইকেট নিয়েছেন, প্রাইস তাদের মধ্যে অন্যতম। জিম্বাবুয়ে থেকে দ্বিতীয় ক্রিকেটার হিসেবে তিনি খেলেন আইপিএল-এ। কিন্তু তার পরেও তিনি প্রাপ্য সম্মান থেকে বঞ্চিত রয়ে গিয়েছেন বলে অভিমত বহু ক্রিকেটপ্রেমীর।

অবসর নেওয়ার পরে প্রাইস প্রথমে ব্যবসা শুরু করেছিলেন। খেলার সাজসরঞ্জাম পাওয়া যায়, এ রকম একটি দোকান খুলেছিলেন। কিন্তু সেই ব্যবসা বেশি দিন ভাল চলেনি। দোকানটি এখনও আছে। পাশাপাশি, অর্থোপার্জনের জন্য এখন রেফ্রিজারেটর মেরামতের কাজ করেন বিশ্বের প্রাক্তন তিন নম্বর বোলার, রে প্রাইস।

এমআই