যে দ্বীপে পুরুষের যাওয়া বারণ

আগের সংবাদ

আজ রাতে গান শোনাবেন ড. মাহফুজুর রহমান

পরের সংবাদ

আড়াই মাস পর হাজারের কম রোগী শনাক্ত

সেবিকা দেবনাথ

প্রকাশিত হয়েছে: আগস্ট ২, ২০২০ , ৫:৩৮ অপরাহ্ণ

দেশে তিন মাসের বেশি সময় পর ৪ হাজারের কম নমুনা পরীক্ষা হয়েছে। আর আড়াই মাসেরও বেশি দিন পর হাজারের কম রোগী শনাক্ত হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ৩ হাজার ৬৮৪টি নমুনা পরীক্ষায় ভাইরাসের উপস্থিতি মিলেছে ৮৮৬টিতে। এর আগে ২৬ এপ্রিল ৪ হাজারের কম নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছিলো। সেই দিন ৩ হাজার ৪৭৬টি নমুনা পরীক্ষা হয়েছিল। আর ১০ মে এক হাজারের কম রোগী শনাক্ত হয়েছিলো। ওই দিন ৮৮৭ জনের মধ্যে করোনায়ভাইরাসের উপস্থিতি মিলেছিলো বলে জানিয়েছিলো স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেয়া তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, জুন মাসের তুলনায় জুলাই মাসে রোগীর সংখ্যা কমেছে। চলতি আগস্টের দুই দিনে যে সংখ্যক রোগী শনাক্ত হয়েছে সেটিরও গড় হিসাব করলে দেখা যায় তা অনেকটাই কম। তবে ঈদের ছুটি থাকায় অনেকেই নমুনা পরীক্ষা করাতে আসছে না বলেও মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

আগস্ট মাসে দুই দিন কোভিড-১৯ সংক্রমিত ব্যক্তি শনাক্ত হয়েছে ৩ হাজার ৮৫ জন। মৃত্যু হয়েছে ৪৩ জনের। গড়ে দৈনিক এক হাজার ৫৪২ জন রোগী শনাক্ত হয়েছে। জুলাই মাসে মৃত্যু হয় এক হাজার ২৬৪ জনের এবং ৯২ হাজার ১৭৮ জন রোগী শনাক্ত হয়। গড় হিসাব করলে জুলাই মাসে দৈনিক ২ হাজার ৯৭৩ জন রোগী শনাক্ত হয়, আর মৃত্যু হয় ৪১ জনের। জুন মাসে রোগী শনাক্ত হয় ৯৮ হাজার ৩৩০ জন, মৃত্যু হয় এক হাজার ১৯৭ জনের। সেই হিসাব করলে জুন মাসে ৩ হাজার ২৭৮ জন রোগী শনাক্ত হয় আর ৪০ জনের মৃত্যু হয়।

এছাড়া স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী মার্চ মাসে মোট আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ছিলো ৫১ জন ও মৃত্যু হয়েছিলো ৫ জনের। এপ্রিলে রোগীর সংখ্যা ছিলো ৭ হাজার ৬১৬ জন ও মৃতের সংখ্যা ১৬৩ জন। মে মাসে আক্রান্ত হয় ৩৯ হাজার ৪৮৬ জন, আর ৪৮২ জনের মৃত্যু হয়েছিলো।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে তথ্য অনুযায়ী শনাক্তের সংখ্যা কমছে। ২৭ জুলাই এক অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা জানান, রোগতত্ত্ব রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সার্ভে বলছে দেশে করোনা পরিস্থিতি এখন পিকে (চূড়ান্ত সংক্রমণ) নাই। এটি অনেকটা কমতির দিকে।

তবে জনস্বাস্থ্যবিদরা বলছেন, পর্যাপ্ত পরিমাণে নমুনা পরীক্ষা হচ্ছে বলেই রোগী কম শনাক্ত হচ্ছে। তবে ঈদ পরবর্তী সময়ে দেশে শনাক্ত রোগীর সংখ্যা বাড়তে পারে বলে আগেই শঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

কোভিড-১৯ মোকাবেলায় জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটির সদস্য এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য বিশিষ্ট ভাইরোলজিস্ট অধ্যাপক ডা. নজরুল ইসলাম ভোরের কাগজকে বলেন, করোনা মহামারির শুরু থেকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা করোনা পরীক্ষার ওপর জোর দিয়ে এসেছে। সংস্থার পক্ষ থেকে সন্দেহভাজন প্রত্যেক মানুষকে পরীক্ষা করার পরামর্শ দিয়েছে। কিন্তু আমরা নানাভাবে নমুনা পরীক্ষা সংকুচিত করেছি।

রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের উপদেষ্টা ও সাবেক প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মুশতাক হোসেন ভোরের কাগজকে বলেন, রোগী শনাক্ত করার জন্য প্রথমে দরকার পরীক্ষা। রোগী শনাক্ত করলেই হবে না, তার সংস্পর্শে কারা এসেছিলেন, সেটিও খুঁজে বের করতে হবে। কনট্যাক্ট ট্রেসিং খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু আমাদের দেশে এই ব্যবস্থাটি এখনো দুর্বল। যেখানে রোগী শনাক্ত করা যাচ্ছে না সেখানে তাদের সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের খুঁজে বের করা প্রায় অসম্ভব। রোগী ও তাদের সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের সঠিকভাবে চিহ্নিত করা যাচ্ছে না বলে কোয়ারেন্টাইনও যথাযথ হচ্ছে না।

এনএম