দেশে ২৪ ঘণ্টায় নতুন মৃত্যু ২১, শনাক্ত ২১৯৯

আগের সংবাদ

চামড়া নিয়ে সমস্যায় পড়লে যে নাম্বারে ফোন করবেন

পরের সংবাদ

রাজধানীতে চামড়া সংগ্রহ শুরু

কাগজ প্রতিবেদক

প্রকাশিত হয়েছে: আগস্ট ১, ২০২০ , ৩:২৫ অপরাহ্ণ

চামড়া সংগ্রহের কাজ শুরু করেছে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার কাওমী মাদ্রাসাগুলো। সকালের ঈদ জামাতের পর থেকেই রাজধানীতে শুরু হয়েছে পশু কোরবানি। এসব চামড়া কোরবানিদাতারা পাঠিয়ে দিচ্ছেন স্থানীয় মাদ্রাসাগুলোতে। মাদ্রাসার শিক্ষার্থী ও ভ্যানচালকরা তা তুলে নিয়ে জড়ো করছেন নির্ধারিতস্থানগুলোতে। সেখানে বসে চামড়া তত্ত্বাবধান করছেন ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ।

শনিবার (১ আগস্ট) ঈদের সকালে মালিবাগ, রামপুরা ও মগবাজার এলাকায় দেখা যায়, কোরবানির চামড়া মৌসুমি ব্যবসায়ী কিংবা ফড়িয়াদের কাছে বিক্রি না করে মসজিদ-মাদ্রাসার উন্নয়ন কাজে দান করে দেয়া হচ্ছে। পশুর শরীর থেকে চামড়া ছাড়ানোর পরপরই তারা মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষকে ফোন করছেন। খবর পেয়ে ভ্যানচালকরা চলে যাচ্ছেন সংশ্লিষ্ট কোরবানিদাতার বাড়িতে। মিরপুরের একটি এপার্টমেন্টে ৪৬ টি গরু কোরবানী করা হয়েছে। এপার্টমেন্টের বাসিন্দা শেখ রাতুল বলেন, কোরবানীর পর পরই সমস্ত চামড়া পার্শবর্তী মাদ্রাসায় দিয়ে দেয়া হয়েছে। তবে এবারেও চামড়ার দাম কিছুটা কম বলে জানান তিনি।

চামড়া রক্ষায় পরামর্শ : কোরবানির পশুর চামড়া সুরক্ষার দায়িত্ব কোরবানিদাতার। চামড়ার ন্যায্য দাম নিশ্চিতের পাশাপাশি তা গরিব-মিসকিন-এতিমের কাছে পৌঁছানোর দায়িত্বও কোরবানিদাতার বলে মনে করে ইসলামিক ফাউন্ডেশন। এ ধরনের বার্তা পৌঁছে দিতে সম্প্রতি সারাদেশে মসজিদ-মাদ্রাসার ইমাম-খতিব-শিক্ষক ছাড়াও চামড়াসংশ্লিষ্ট একাধিক সংগঠনের কাছে চিঠি পাঠিয়েছে ইসলামিক ফাউন্ডেশন। সংস্থাটিকে এমন পরামর্শকে সাধুবাদ জানিয়েছেন চামড়াখাত সংশ্লিষ্টরা। তারা বলছেন, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের পরামর্শ মেনে চললে চামড়া রক্ষা যেমন সহজ হবে, তেমনি গরিব-মিসকিন-এতিমও ন‌্যায‌্য অধিকার পাবে।

গত ৮ জুলাই ফাউন্ডেশনের পরিচালক মোহাম্মদ মহীউদ্দিন মজুমদার স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, কোরবানির পশুর চামড়া ও মাংসে গরিব-মিসকিন-এতিমের হক রয়েছে। এই হক তাদের কাছে পৌঁছানোর জিম্মাদারের দায়িত্ব ইসলাম কোরবানিদাতাকেই দিয়েছে। এই কারণে প্রত্যেক কোরবানিদাতাকেই চামড়া সুরক্ষায় মনোযোগী হতে হবে।

ইমাম-খতিবদের উদ্দেশে বলা হয়েছে, পশু কোরবানির পর সতর্কতার সঙ্গে চামড়া ছাড়াতে হবে। এ প্রক্রিয়ায় চামড়া কেটে গেলে, গভীর বা আংশিক ক্ষত হলে তার মূল্য কমে যায়। এতে এতিম-গরিবরা তাদের হক থেকে বঞ্চিত হয়। তাই সতর্কতার সঙ্গে চামড়া ছাড়াতে হবে। এরপর পচন ঠেকাতে লবণ দিয়ে সংরক্ষণের মাধ্যমে সংশ্লিষ্টদের হাতে তুলে দিতে হবে।

চামড়াসংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোর উদ্দেশে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছে, দেশের মোট কাঁচা চামড়ার ৬০ শতাংশই আসে কোরবানি থেকে। কিন্তু সঠিকভাবে সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও পরিবহনের অভাবে প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ পশুর চামড়া নষ্ট হয়ে যায়। এ কারণে চামড়ার বিক্রয়মূল্যও কমে যায়। এতে গরিব-মিসকিন-এতিমরা তাদের হক থেকে বঞ্চিত হয়। এ কারণে চামড়া রক্ষায় সংশ্লিষ্টদের আরও মনোযোগী হতে হবে।

এসএইচ