ঈদে মৌসুমি অপরাধী ঠেকাতে প্রস্তুত পুলিশ

আগের সংবাদ

ঈদুল আজহার জামাত কোথায়, কখন...

পরের সংবাদ

ঈদ বোনাস পেয়েছেন ৯৬ শতাংশ পোশাক শ্রমিক

মরিয়ম সেঁজুতি

প্রকাশিত হয়েছে: জুলাই ৩১, ২০২০ , ১১:৪০ পূর্বাহ্ণ

বিজিএমইএ সদস্যভুক্ত পোশাক কারখানার ৯৬ শতাংশ শ্রমিকের ঈদ বোনাস পরিশোধ করা হয়েছে। এছাড়া সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী ৯৪ শতাংশ পোশাক কারখানা তাদের শ্রমিকদের জুলাই মাসের অর্ধেক বেতন পরিশোধ করেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার এ তথ্য জানিয়েছে বিজিএমইএ।
এদিকে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অধীন কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর এবং শ্রম অধিদপ্তরের মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের নিরলস প্রচেষ্টায় ঈদের আগে শ্রম পরিস্থিতিতে সন্তোষ প্রকাশ করেন শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী বেগম মন্নুজান সুফিয়ান। তিনি ঈদের আগের নির্দিষ্ট সময়ে শ্রমিকদের প্রতিশ্রæত বেতন বোনাস পরিশোধ করায় মালিকদের ধন্যবাদ জানান। তিনি করোনা দুর্যোগময় পরিস্থিতি বিবেচনায় নিজেদের সুরক্ষার কথা মাথায় রেখে কর্মস্থল ত্যাগ না করতে শ্রমিকদের প্রতি আহŸান জানান।
শ্রম ও কর্মসংস্থান সচিব কে এম আব্দুস সালাম বলেন, করোনা ভাইরাস সংক্রমণের পর প্রতিমন্ত্রীর নির্দেশে শ্রম পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে আমাদের দুটি অধিদপ্তরের কর্মকর্তা এবং মালিক-শ্রমিকদের সমন্বয়ে ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্ট কমিটি গঠন করা হয়। সারাদেশে গঠিত ২৩টি কমিটি আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করছে। ঈদের আগে শ্রম পরিস্থিতি শান্তিপূর্ণ রাখতে মালিক শ্রমিক সবাই আন্তরিক।
এর আগে গত ২০ জুলাই শ্রমিকদের ঈদের আগে চলতি মাসের বেতন ও ঈদ বোনাস বিষয়ে পোশাক কারখানার মালিক ও শ্রমিক প্রতিনিধিদের নিয়ে বৈঠক করে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়। সে বৈঠকে পোশাক মালিকদের শীর্ষ সংগঠন বিজিএমইএর সভাপতি ড. রুবানা হক প্রতিশ্রæতি দিয়েছিলেন যে ২৭ জুলাইয়ের মধ্যে শ্রমিকদের ঈদ বোনাস ও চলতি মাসের বেতনের অর্ধেক পরিশোধ করা হবে। প্রতিশ্রæতির সময়সীমা তিনদিন অতিবাহিত হলেও বিজিএমইএর হিসাবেই গতকাল বৃহস্পতিবার পর্যন্ত তাদের সদস্যভুক্ত ৭৭টি কারখানা ঈদ বোনাস দেয়নিÑ যা শিল্প পুলিশের হিসাবে ৮৮৩টি। শিল্প পুলিশ বলছে, পোশাক খাত সংশ্লিষ্ট ১ হাজার ৪৪২টি কারখানার ঈদ বোনাস এখনো বকেয়া।
বিজিএমইএর মুখপাত্র খান মনিরুল আলম শুভ জানান, বিজিএমইএর সদস্যভুক্ত এক হাজার ৮৯৮টি কারখানা রয়েছে। এর মধ্যে শ্রমিকদের ঈদ বোনাস পরিশোধ করেছে এক হাজার ৮২১ বা ৯৬ শতাংশ কারখানা। এছাড়া জুলাই মাসের অর্ধেক বেতন পরিশোধ করেছে এক হাজার ৭৮৮ বা ৯৪ শতাংশ কারখানা। তিনি বলেন, যেসব কারখানা বেতন বোনাস পরিশোধ করতে পারেনি সেসব কারখানা নানা সমস্যায় রয়েছে। তবে তারা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। আশা করছি, ঈদের ছুটির আগেই বোনাস পরিশোধ করা সম্ভব হবে। জুলাইয়ের আগাম বেতন পরিশোধ কার্যক্রমও চলমান আছে বলে জানান তিনি।
এদিকে এখনো ঈদ বোনাস না পেয়ে হতাশ কারখানার শ্রমিকরা। আদৌ তারা বোনাস পাবেন কিনা তা নিয়েই সন্দেহ দেখা দিয়েছে। বোনাসের টাকা না পেয়ে তারা ঈদের কেনাকাটাও করতে পারছেন না। তবে এখন পর্যন্ত মালিকপক্ষ তাদের আশ্বস্ত করে যাচ্ছেন, ছুটির আগে বোনাস দেয়া হবে।
ঈদের আগে বেতন বোনাস বিষয়ে শ্রম পরিস্থিতি নিয়ে কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের মহাপরিদর্শক শিবনাথ রায় জানান, এবার ঈদুল আজহার আগে বেতন বোনাস নিয়ে শ্রম অসন্তোষ নেই বললেই চলে। সারাদেশে বিশেষ করে শ্রমঘন শিল্প এলাকা ঢাকা, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ এবং চট্টগ্রামে দুচারটে কারখানায় শ্রম অসন্তোষের আশঙ্কা থাকলেও আমাদের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করেছেন এবং আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন। ঢাকা, গাজীপুর এবং চট্টগ্রামে তিনটি কারখানার বেতন বোনাসের সমস্যা নিয়ে তিন আঞ্চলিক কার্যালয়ের উপমহাপরিদর্শকরা মালিকদের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন।

এসএইচ