ভারতের শিক্ষানীতিতে ব্যাপক সংস্কার সূচনা

আগের সংবাদ

ঈদ বোনাস পেয়েছেন ৯৬ শতাংশ পোশাক শ্রমিক

পরের সংবাদ

ঈদে মৌসুমি অপরাধী ঠেকাতে প্রস্তুত পুলিশ

কাগজ প্রতিবেদক

প্রকাশিত হয়েছে: জুলাই ৩১, ২০২০ , ১১:৩৭ পূর্বাহ্ণ

দরজায় কড়া নাড়ছে ঈদুল আজহা। প্রতিবছরই ঈদের কয়েকদিন আগে এ সময় থেকে অপরাধ তুলনামূলক বেড়ে যায়। ঈদের ছুটিতে সবাই গ্রামে চলে গেলে ফাঁকা ঢাকায় কিছু কিছু অপরাধ সংঘটিত হয়। বিশেষ করে পশুর হাট এবং আবাসিক ও বাণিজ্যিক এলাকায় চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, মলম ও অজ্ঞান পার্টির তৎপরতা বেড়ে যায়। পাশাপাশি ঈদুল আজহার সময় চামড়া সন্ত্রাস ও পশুর হাটে চাঁদাবাজিসহ বেশ কিছু অপরাধী চক্র সক্রিয় হয়ে ওঠে। ফলে ঈদের আগে ও পরে নিরাপত্তা শঙ্কা দেখা দেয়।
এবার ঈদ মৌসুমের এ অপরাধীদের ঠেকাতে সাদা পোশাকে এবং ভার্চুয়ালি নজরদারি বাড়ানোসহ নানা পদক্ষেপ ও বেশ কিছু পরামর্শ দিয়েছে পুলিশ। যে কোনো জরুরি প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট কন্ট্রোল রুম, থানা কিংবা ৯৯৯-এর সহযোগিতা নিতেও নাগরিকদের অনুরোধ জানানো হয়েছে পুলিশের পক্ষ থেকে।
পুলিশ সদর দপ্তর সূত্র জানায়, কুরবানির ঈদে পশুর হাটকে কেন্দ্র করে সক্রিয় হয়ে ওঠে অপরাধী চক্র। ফলে ঢাকা মহানগরসহ দেশের সব পশুর হাটে ভ্রাম্যমাণ কোনো দোকান বসতে না দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। অজ্ঞান পার্টির তৎপরতা রোধ করতে ইজারাদারদের অনুমতি ছাড়া কাউকে অস্থায়ী দোকান বসতে দেয়া হচ্ছে না। প্রতিটি হাটে সাদা পোশাকে নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছাড়াও থাকবে ওয়াচ টাওয়ার ও পুলিশ কন্ট্রোলরুম। প্রতিটি থানায় ও কন্ট্রোলরুমে মানি এসকর্ট টিম স্ট্যান্ডবাই থাকবে। পশু বিক্রির টাকা ছিনতাই প্রতিরোধে পুলিশ তৎপর থাকবে। সার্বক্ষণিক মেডিকেল টিম ও ভেটেরিনারি অফিসার (পশুর ডাক্তার) রাখার জন্য সংশ্লিষ্টদের অনুরোধ জানানো হয়েছে। পাশাপাশি প্রয়োজনে দ্রুত শনাক্তের জন্য গরু নিয়ে হাটে আসা ট্রাকের নম্বর ও ড্রাইভারের নাম-পরিচয় এবং তার ছবি তুলে পুলিশ সংরক্ষণ করবে।
সূত্র আরো জানায়, কুরবানির ঈদের সময় চামড়া সন্ত্রাস বেড়ে যায়। চামড়া কেনাবেচার ক্ষেত্রে কেউ যাতে সিন্ডিকেট তৈরি করে জোর জবরদস্তি করতে না পারে সেজন্য পুলিশ কঠোর অবস্থানে থাকবে। কাঁচা চামড়া পাচার রোধে ঢাকা থেকে বের হওয়ার পথগুলোতে চেকপোস্ট এবং নদীপথে নৌ-টহলের ব্যবস্থা থাকবে। ঢাকার বাইরে থেকেও শুধু কাঁচা চামড়া পরিবহনকারী যানবাহন ঢাকায় ঢুকতে পারবে। কোনো কাঁচা চামড়া পরিবহনকারী যানবাহন ঢাকা থেকে বাইরে যেতে দেয়া হবে না।
করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে চালক, হেলপার ও যাত্রীদের স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ এবং সামাজিক ও শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখতে মাইকিংয়ের ব্যবস্থা করতে সংশ্লিষ্টদের অনুরোধ জানিয়েছে পুলিশ। একইসঙ্গে পুলিশের পক্ষ থেকেও মাইকিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে পুলিশ সদর দপ্তর থেকে জানানো হয়। টিকেট কালোবাজারি ও যাত্রী হয়রানি যাতে না হয় সেজন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে পুলিশের পক্ষ থেকে। প্রয়োজনে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে।
অতিরিক্ত যাত্রী ও মালামাল পরিবহন করা যাবে না। পণ্যবাহী ট্রাকে যাত্রী পরিবহন বাস ও ট্রেনের ছাদে করে ভ্রমণ করা যাবে না। প্রতিটি বাস টার্মিনালে ওয়াচ টাওয়ার এবং প্রতিটি বাস, লঞ্চ টার্মিনাল এবং রেলওয়ে স্টেশনে পুলিশ কন্ট্রোলরুম স্থাপন করা হয়েছে।
এদিকে ফাঁকা ঢাকার নিরাপত্তায় প্রতিটি আবাসিক ও বাণিজ্যিক এলাকায় পুলিশের কঠোর নজরদারি থাকবে। স্বর্ণের দোকান, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, বাসাবাড়ি ও ভাড়াটিয়াদের নিরাপত্তায় সচেতনতামূলক প্রচারণা চালানো হবে। বাসা, অ্যাপার্টমেন্ট ও প্রতিষ্ঠান মালিকদের সিসি ক্যামেরা স্থাপন ও নিজস্ব নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং প্রাইভেট নিরাপত্তা কর্মী নিয়োগ দিতে পরামর্শ দেয়া হয়েছে। ঈদের ছুটিতে আবাসিক ও বাণিজ্যিক এলাকায় অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধের লক্ষ্যে মোবাইল পেট্রল, ফুট পেট্রল ও চেকপোস্টের মাধ্যমে দৃশ্যমান পুলিশিং নজরদারি বাড়ানো হবে।
পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি (মিডিয়া) সোহেল রানা জানান, মানুষের জানমালের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতে পুলিশ সদর দপ্তর থেকে ইতোমধ্যে সারাদেশের সব ইউনিটকে ঈদের আগে ও পরে এবং ঈদের ছুটিতে নজরদারি বাড়াতে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এছাড়া কুরবানির পশুর চামড়া নিয়ে কোনো প্রকার সিন্ডিকেট, চাঁদাবাজি, জোর জবরদস্তি না হয় সেজন্য পুলিশ কঠোর অবস্থানে থাকবে।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার শফিকুল ইসলাম জানান, ঈদে নগরবাসীর নিরাপত্তায় সর্বাত্মক প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। পশু বেচাকেনার টাকা নিরাপদ রাখতে হাটে ব্যাংকের অস্থায়ী বুথ স্থাপনের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে যোগাযোগ করে ব্যবস্থা নেয়া হবে। জালটাকা শনাক্তে হাটে অস্থায়ী পুলিশ কন্ট্রোলরুমে জালটাকা শনাক্তকরণ মেশিন বসানো হবে।

এসএইচ