কাঁঠালবাড়ী ঘাটে ঈদে ঘরমুখো মানুষের ঢল

আগের সংবাদ

ফরিদপুরে মানি লন্ডারিং মামলায় শ্রমিক লীগ নেতা গ্রেপ্তার

পরের সংবাদ

জুলাইয়ে মৃত্যু আর জুনে রোগী বেশি

ঈদের পর সংক্রমণ বাড়ার শঙ্কা

সেবিকা দেবনাথ

প্রকাশিত হয়েছে: জুলাই ৩১, ২০২০ , ৬:৩৫ অপরাহ্ণ

দেশে কোভিড-১৯ সংক্রমণের পর থেকে মাসভিত্তিক তথ্য হিসাব করলে দেখা যায় এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু বেশি হয়েছে জুলাই মাসে। আর সবচেয়ে বেশি রোগী শনাক্ত হয়েছে জুন মাসে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দেশে এ পর্যন্ত করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে ৩ হাজার ১১১ জনের। দেশে করোনা সংক্রমণের শুরু পর থেকে সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে জুলাই মাসে।

জুলাই মাসে মৃত্যু হয় এক হাজার ২২২ জনের এবং ৯২ হাজার ১৭২ জন রোগী শনাক্ত হয়। আর জুন মাসে এক হাজার ১৯৭ জনের মৃত্যু এবং রোগী শনাক্ত হয় ৯৮ হাজার ৩৩০ জন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী মার্চ মাসে মোট আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ছিলো ৫১ জন ও মৃত্যু হয়েছিলো ৫ জনের। এপ্রিলে রোগীর সংখ্যা ছিলো ৭ হাজার ৬১৬ জন ও মৃতের সংখ্যা ১৬৩ জন। মে মাসে আক্রান্ত হয় ৩৯ হাজার ৪৮৬ জন, আর ৪৮২ জনের মৃত্যু হয়েছিলো।

এদিকে স্বাস্থ্যবিধি না মানা, পশুর হাট, ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে মানুষের যাতায়াত দেশে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণের হার বাড়ার আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। লকডাউন শিথিল আর ঈদুল ফিতরের সময় স্বাস্থ্যবিধি না মেনে মানুষের অবাধ যাতায়াতের কারণে জুন মাসে সংক্রমন বেড়েছিলো বলে জানান জনস্বাস্থ্যবিদরা।

কোভিড-১৯ মোকাবেলায় জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটির সদস্য এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য বিশিষ্ট ভাইরোলজিস্ট অধ্যাপক ডা. নজরুল ইসলাম ভোরের কাগজকে বলেন, মানুষের মধ্যে সচেতনতার অনেক অভাব। সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার কোন বালাই নেই। মাস্ক পড়ার সংখ্যাও কমে গেছে। ঈদুল ফিতরের মতো ঈদুল আযহাতেও গ্রামমুখী মানুষের ঢল দেখা যাচ্ছে। গাদাগাদি করে মানুষ ঢাকা ছাড়ছে। ফেরার সময়ও এই চিত্র দেখা যাবে। এই অবস্থা করোনার সংক্রমণ যেমন বাড়বে তেমনি হয়তো বড় ধরণের বিপর্যয়ও ঘটতে পারে।

স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের সভাপতি ও জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটির সদস্য অধ্যাপক ডা. ইকবাল আর্সলানও মনে করেন পশুর হাট ও গ্রামমুখী মানুষের ঢল সংক্রমণের মাত্রা আরো বাড়িয়ে।

জনস্বাস্থ্যবিদ রাজশাহী জেলা স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক ডা. চিন্ময় দাস বলেন, প্রকৃতির নিয়ম অনুসারে সব মহামারীই একসময় স্বাভাবিক নিয়মে চলে যাবে। কিন্তু আমাদের দেশের বিশৃংখল স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা মহামারিকে হয়তো দীর্ঘায়িত করবে।

তবে ২৭ জুলাই এক অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা জানান, রোগতত্ত্ব রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সার্ভে বলছে দেশে করোনা পরিস্থিতি এখন পিকে (চূড়ান্ত সংক্রমণ) নাই। এটি অনেকটা কমতির দিকে।

বৃহস্পতিবার এক অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেন, করোনা সংক্রমণের বিস্তার রোধে বেশকিছু স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে বলা হয়েছে। কিন্তু আসন্ন ঈদকে কেন্দ্র করে কোরবানির পশুর হাটে ও ঈদযাত্রায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলাটা ব্যাহত হতে পারে। এতে করে করোনা সংক্রমণের হার বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া বন্যার কারণে অনেক এলাকায় একসঙ্গে এক জায়গায় অনেক মানুষকে আশ্রয় নিতে হচ্ছে। এতে করেও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলাটা ব্যাহত হতে পারে। এই দুই কারণে করোনা সংক্রমণের হার বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

শুক্রবার করোনা পরিস্থিতি নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত বুলেটিনে অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা কোরবানি ঈদের আগে পশুর হাটে, কোরবানির দিনে এবং কোরবানি পরবর্তী সময়ে কঠোরভাবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার জন্য অনুরোধ জানান। তিনি আরো বলেন, পবিত্র কোরআন শরীফে পশু কোরবানি দেয়ার নিয়ম রয়েছে, তাই পশুর হাট চলছে, তবে পশুর হাটে ক্রেতা-বিক্রেতা সবার জন্য যেসব স্বাস্থ্যবিধি দেয়া হয়েছে এবং কোরবানি চলাকালে বাসা-বাড়িতেও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার জন্য বলা হয়েছে। কোরবানি পরবর্তী সময়ের স্বাস্থ্যবিধি মানতে বলা হয়েছে। এ ব্যাপারে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে এবং গণমাধ্যমে প্রচার করা হচ্ছে। এই রোগ প্রতিরোধের জন্য সবাইকে সচেষ্ট এবং সচেতন থাকার পরামর্শ দেন তিনি।

পিআর