নাপোলির বিপক্ষে বিশেষ বুট পরবেন মেসি

আগের সংবাদ

তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদের মহাকবির জন্মভূমি পরিদর্শন

পরের সংবাদ

সড়ক পরিবহন আইন বাস্তবায়ন কত দূর?

সম্পাদকীয়

প্রকাশিত হয়েছে: জুলাই ২৯, ২০২০ , ৯:০৫ অপরাহ্ণ

সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে কোনো পদক্ষেপই কাজে আসছে না। দুই বছর আগে নিরাপদ সড়কের দাবিতে দেশেজুড়ে কঠোর আন্দোলন হয়। ছাত্রদের আন্দোলনের মুখে সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮ পাস হয়। এরপরও সড়কে অবস্থার কোনো পরিবর্তন হয়নি। প্রতিদিন গড়ছে সড়কে প্রাণহানি। সড়ক দুর্ঘটনা এখন অন্যতম জাতীয় সমস্যা হিসেবে দেখা দিয়েছে। এ সমস্যা থেকে উত্তরণে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়া জরুরি। দেশের সড়ক-মহাসড়কের নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি রোধ করার তাগিদ অনুভূত হচ্ছে দীর্ঘদিন ধরে। বিশেষজ্ঞ থেকে শুরু করে সাধারণ জনগণ সবাই একটি কার্যকর আইন প্রণয়নের দাবি জানিয়ে আসছে। ২০২৮ সালে ২৯ জুলাই রাজধানীর বিমানবন্দর সড়কে বেপরোয়া বাসচাপায় দুই শিক্ষার্থী নিহতের পর রাস্তায় নেমে আসে তাদের সহপাঠীরা। শিক্ষার্থীদের নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনের মুখে ওই বছর ৫ আগস্ট মন্ত্রিসভার অনুমোদন পায় সড়ক পরিবহন আইন এবং ওই বছরই সেপ্টেম্বর মাসে সংসদে পাসের পর গত ৮ অক্টোবর গেজেট প্রকাশিত হয়। ২২ অক্টোবর এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে গত ১ নভেম্বর থেকে নতুন এ আইন কার্যকর করা হয়েছে। যদিও নতুন আইনের প্রয়োগ কোথাও নেই। এক পরিসংখ্যান থেকে জানা যায়, সড়ক দুর্ঘটনার ফলে বছরে গড়ে বাংলাদেশের জিডিপির শতকরা দেড় ভাগ নষ্ট হয়, যার পরিমাণ ৫ হাজার কোটি টাকা। বিগত ১৫ বছরে সড়ক দুর্ঘটনায় দেশে প্রাণ হারিয়েছেন ৫৫ হাজার মানুষ। আর দুর্ঘটনাজনিত মামলা হয়েছে প্রায় ৭৭ হাজার। এই চিত্রটি কত ভয়াবহ। সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে হলে নতুন আইন বাস্তবায়ন ছাড়া উপায় নেই। এই আইন বাস্তবায়ন করতে হলে মূলে হাত দিতে হবে। বিআরটিএ স্বচ্ছ হলে সড়ক-মহাসড়কে নৈরাজ্য প্রায় কমে আসবে। বিআরটিএ সেবার মান নিয়ে সাধারণ মানুষের অসন্তুষ্টি বহুদিনের। আছে নানা অভিযোগ। গাড়ির রেজিস্ট্রেশন, ফিটনেস, রুট পারমিট, ট্যাক্স টোকেন, ড্রাইভিং লাইসেন্স, মালিকানা বদলসহ বিভিন্ন কাজে বিআরটিএর শরণাপন্ন হতে হয়। কিন্তু হয়রানি, অনিয়ম ও নানামাত্রিক দুর্নীতির কারণে অনেকে এই প্রতিষ্ঠানের প্রতি বীতশ্রদ্ধ হন। সড়ক দুর্ঘটনার বড় কারণ ফিটনেসবিহীন গাড়ি এবং অদক্ষ ও অবৈধ চালক। বিআরটিএ আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে এখনো এ ক্ষেত্রে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠিত করতে পারেনি। এখানে ঘুষ, দুর্নীতি, অনিয়ম, হয়রানি, ভোগান্তি আর দালালদের তৎপরতা চললেও তা দেখার এবং এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার কেউ যেন থেকেও নেই। টাকা দিলে আনফিট গাড়ি ফিট আর না দিলে ফিট গাড়ি আনফিট হয়ে যাবে- এ প্রক্রিয়া বন্ধ হলে সড়ক দুর্ঘটনা কমে যাবে। নতুন আইনটি শুধু কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। এই আইনের বিধিমালাকে যেমন কঠোরভাবে প্রয়োগ করতে হবে, পাশাপাশি এর অপব্যবহার যাতে না ঘটে, সে বিষয়েও সচেতন হতে হবে। সড়ক দুর্ঘটনার হার কমাতে চাইলে সরকারের পাশাপাশি পরিবহন মালিক ও শ্রমিক সংগঠন, স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা এবং গণমাধ্যমসহ সংশ্লিষ্ট সবার সমন্বিত কর্মসূচি নিয়ে অগ্রসর হওয়া উচিত।

এমআই