বন্যা-করোনায় ধুঁকছে মানুষ

আগের সংবাদ

নাপোলির বিপক্ষে বিশেষ বুট পরবেন মেসি

পরের সংবাদ

সড়ক আন্দোলনের প্রাপ্তি ও অপ্রাপ্তি

শাহীদুল ইসলাম আপন

প্রকাশিত হয়েছে: জুলাই ২৯, ২০২০ , ৯:০২ অপরাহ্ণ

আঠারো আমার চেতনা, আঠারো আমার প্রেরণা। এই স্লোগানে গড়ে উঠেছিল স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে ২০১৮ সালের নিরাপদ সড়ক আন্দোলন। আর এই আন্দোলনই ছিল বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ছাত্র আন্দোলন। ২৯ জুলাই সেই আন্দোলনের ২য় বছর পূর্ণ হলো। ঠিক দুই বছর আগে শহীদ রমিজ উদ্দীন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের সামনে এমইএস বাসস্টপে জাবালে নূর বাসের রেষারেষিতে প্রাণ যায় রাজীব, দিয়া নামের দুই শিক্ষার্থীর। আমার কলেজের ছোট ভাই-বোনের মৃত্যুর কথা আমার মনে প্রবলভাবে নাড়া দিয়েছিল সে সময়। নিজেকে আর ধরে রাখতে পারিনি। ভাই-বোনের মৃত্যুর বিচারের দাবিতে সবার সঙ্গে আমিও শামিল হয়েছিলাম সেদিন।

দিয়া-রাজীব হত্যার ঘটনার বিচার চেয়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা কয়েকটি দাবি জানিয়েছিল। তাদের সেই দাবিগুলোকে একত্রিত করে ৩০ জুলাই জাতির উদ্দেশ্যে গণমাধ্যমের সামনে ঐতিহাসিক ৯ দফা দাবি জানিয়েছিলাম। তারপর থেকেই সারাদেশে সব শিক্ষার্থী মাঠে নেমে গিয়েছিল ভাই-বোন হত্যার বিচারের দাবিতে। আমাদের ৯ দফা ছিল সর্বজনগ্রাহ্য। খোদ প্রধানমন্ত্রীসহ সব রাজনৈতিক ও অরাজনৈতিক ব্যক্তিরা আমাদের ৯ দফা দাবির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেছিলেন। আমাদের দাবিগুলোর মূল পয়েন্ট একটাই ছিল সড়কের নিরাপত্তা। সড়ক কীভাবে নিরাপদ রাখা যায়, কীভাবে সড়কে প্রাণহানি কমানো যায় সেদিকটা ভিত্তি করেই ছিল আমাদের সব দাবিদাওয়া। কিন্তু আন্দোলনের দুই বছর পর এসেও মনে হচ্ছে আসলে শিক্ষার্থীরা যে নিরাপদ সড়কের জন্য লড়াই করেছিল, যে সড়কের বিশৃঙ্খলা কমানোর জন্য বুকের তাজা রক্ত ঢেলে দিয়েছিল, সে সড়ক আজো অরক্ষিতই রয়ে গেছে। সড়ক আন্দোলন চলাকালে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের থামানোর জন্য এক শ্রেণির সন্ত্রাসীরা বর্বরোচিত হামলা চালিয়েছিল। সেই হামলায় আহত হয়েছিল অনেক ছাত্রছাত্রী। কেউ কেউ আবার পঙ্গুত্বও বরণ করেছিল। সেই সন্ত্রাসীদের চিহ্নিত করে গণমাধ্যমে বিভিন্ন সংবাদ প্রকাশিত হলেও তাদের বিরুদ্ধে কোনোরকম আইনি ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। অথচ ঠিকই আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের বিনা অপরাধে মামলার পর মামলা দিয়ে তাদের জীবন বিষিয়ে তোলা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন সেসব মামলা আজো চলমান। এ দেশের যত বড় বড় সমস্যার সমাধান হয়েছে তা ছাত্রদের দ্বারাই সম্ভব হয়েছে। দেশের সড়কের নিরাপত্তা বাংলাদেশের প্রতিটি নাগরিকের চাওয়া। এবং সেই লক্ষেই দেশের সড়ক নিরাপদ করণে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। আমরা বিশ্বাস করি আমরা যদি সঠিকভাবে সড়কের আইন মেনে নিজেরা সচেতন হয়ে রাস্তায় চলাচল করি তাহলে একদিন না একদিন ঠিকই আমাদের সড়ক নিরাপদ হবে।

যুগ্ম আহ্বায়ক নিরাপদ সড়ক আন্দোলন।
[email protected]

এমআই