সেদিন রাগে ব্যাট ভেঙেছিলাম: যুবরাজ

আগের সংবাদ

রৌমারীর ঐতিহাসিক তুরা রোড অবহেলায় ভেঙে যাচ্ছে

পরের সংবাদ

প্রত্যাশা পূরণ হয়নি জলবায়ু বাজেটে

প্রকাশিত: জুলাই ২৭, ২০২০ , ১১:৫৪ পূর্বাহ্ণ আপডেট: জুলাই ২৭, ২০২০ , ১১:৫৪ পূর্বাহ্ণ

চলতি অর্থবছরের মোট বরাদ্দের তুলনায় জলবায়ু খাতে প্রস্তাবিত মোট বরাদ্দ কিছুটা বাড়লেও আনুপাতিক হারে এ বরাদ্দ উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। চলতি অর্থবছরের তুলনায় মোট বরাদ্দ ১ দশমিক ৪২ শতাংশ এবং জলবায়ু সংশ্লিষ্ট বরাদ্দ শূন্য দশমিক ২৯ শতাংশ কমেছে। এ খাতে বরাদ্দ আরো বাড়াতে হবে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। পাশাপাশি জলবায়ু অর্থায়নে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও কার্যকারিতা বাড়াতে অবিলম্বে জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট আইন-২০১০ পরিবর্তন করে জলবায়ু কমিশন গঠনের দাবি করেন তারা।

জানা গেছে, বর্তমান সরকার গত এক দশক ধরে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় যে ধারাবাহিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছে তারই অংশ হিসেবে গত ১১ জুন জাতীয় সংসদে উপস্থাপিত ২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেটের একটি অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ছিল ‘বাজেট প্রতিবেদন ২০২০-২১ : টেকসই উন্নয়নে জলবায়ু অর্থায়ন’ অংশটি।

উল্লেখ্য, নাগরিক সমাজের অব্যাহত দাবির ফলে গত ২০১৭-১৮ অর্থবছর থেকে সরকার এ ‘জলবায়ু বাজেট’ প্রণয়ন করে আসছেন। এবার চতুর্থবারের মতো পেশ করা হলো জলবায়ু বাজেট। এবারের জলবায়ু বাজেটে মোট ২৫টি মন্ত্রণালয়/বিভাগের বরাদ্দ অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। এ বছর এ ২৫টি মন্ত্রণালয়/বিভাগের মোট বরাদ্দ জাতীয় বাজেটের ৫৬ দশমিক ৬৯ শতাংশ (৩ লাখ ২১ হাজার ৯৮৫.০ কোটি টাকা), যার মধ্যে ৭ দশমিক ৫২ শতাংশ (২৪ হাজার ২২৫ দশমিক ৭ কোটি টাকা) জলবায়ু অর্থায়ন বলে উল্লেখ করা হয়েছে। গত অর্থবছরে মোট বরাদ্দের পরিমাণ ছিল ৫৮ দশমিক ১১ শতাংশ (৩ লাখ ৪ হাজার ৩৮ দশমিক ২২ কোটি টাকা) এবং জলবায়ু সংশ্লিষ্ট বরাদ্দ ছিল ৭ দশমিক ৮১ শতাংশ (২৩ হাজার ৭৪৮ দশমিক ৫৩ কোটি টাকা)। অর্থাৎ গত অর্থবছরের তুলনায় এ বছর মোট বরাদ্দ (১৭ হাজার ৯৪৬ দশমিক ৮ কোটি) এবং জলবায়ু সংশ্লিষ্ট বরাদ্দ (৪৭৭ দশমিক ২ কোটি) কিছুটা বাড়লেও আনুপাতিক হারে এ বরাদ্দ উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। এদিকে, গত ২১ মার্চ প্রকাশিত ‘ওয়ার্ল্ড ওয়াটার ডেভেলপমেন্ট রিপোর্ট ২০২০’ শিরোনামে জাতিসংঘের এক সমীক্ষায় বলা হয়েছে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশ ও ভারতে আরো বেশি এবং মারাত্মক বন্যা হওয়ার সম্ভাবনা আছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বন্যার পাশাপাশি দূষণ ও নিম্নমানের ভূগর্ভস্থ পানির উৎসের কারণে বাংলাদেশ খরার প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এ বিষয়ে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ইমেরিটাস আইনুন নিশাত গণমাধ্যমকে বলেন, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বন্যার পরিমাণ বাড়ছে।

বর্তমানে আমরা বছরের প্রথমদিকে যেমন বন্যা দেখি, তেমনি বছরের শেষদিকেও দেখি। চলতি অর্থবছরের বাজেট বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত অর্থবছরের তুলনায় মোট বরাদ্দ ১ দশমিক ৪২ শতাংশ এবং জলবায়ু সংশ্লিষ্ট বরাদ্দ শূন্য দশমিক ২৯ শতাংশ কমেছে। যদিও অর্থ বিভাগ এ প্রতিবেদনে গত অর্থবছরের সংশোধিত বাজেট বরাদ্দ প্রাথমিকভাবে প্রাক্কলিত বাজেটের চাইতে কম উল্লেখ করে এ জলবায়ু সংশ্লিষ্ট বরাদ্দ হ্রাসের হার শূন্য দশমিক ৩ শতাংশ বলে দাবি করেছেন। জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ে সক্রিয় জাতীয় রাজনৈতিক অঙ্গীকার এবং জলবায়ু ন্যায্যতা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশের নাগরিক সমাজের সূদৃঢ় অবস্থান থাকা সত্তে¡ও জলবায়ু পরিবর্তনে সর্বাপেক্ষা বিপন্ন জনগোষ্ঠীদের জন্য অগ্রাধিকারভিত্তিতে অর্থ বরাদ্দের পাশপাশি জলবায়ু পরিবর্তনের মুখে ঝুঁঁকিতে থাকা জনগোষ্ঠীদের এসব জলবায়ু তহবিলে কার্যকর অংশগ্রহণের বিষয়গুলো এখনো অমীমাংসিত অবস্থায় রয়েছে।

এ প্রেক্ষাপটকে বিবেচনায় রেখে এবং বাংলাদেশে জলবায়ু অর্থায়নের ধারাকে ধারাবাহিক ও ক্রমবর্ধমান করতে ১৯টি এনজিও, নাগরিক সমাজর জোট নেটওয়ার্ক অন ক্লাইমেট চেঞ্জ ইন বাংলাদেশের (এনসিসিবি) রিসার্চ এন্ড এডভোকেসি অফিসার মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান বলেন, আমরা সরকারের কাছে সুপারিশ করেছি। বলেছি, প্রতি বছর জিডিপির কমপক্ষে এক শতাংশ জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় বরাদ্দ করতে হবে। জলবায়ু বাজেটের পরিচালন ব্যয় কমিয়ে উন্নয়ন খাতে প্রতি বছর কমপক্ষে ১০ শতাংশ ব্যয় বৃদ্ধি করতে হবে। তিনি আরো বলেন, জলবায়ু অর্থায়নকে একটি তহবিল থেকে পরিচালনার লক্ষ্যে এবং জলবায়ু অর্থায়নে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও কার্যকারিতা বৃদ্ধিতে অবিলম্বে জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট আইন, ২০১০ পরিবর্তন করে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বেসরকারি ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্ত করে একটি জলবায়ু কমিশন গঠনে উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে যা জলবায়ু অর্থায়নকে একটি ট্রাকিং ও মনিটরিং সিস্টেম আনতে সহায়ক ভ‚মিকা পালন করবে।

এসআর

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়