দেশে করোনায় নতুন মৃত্যু ৩৭, শনাক্ত ২৭৭২

আগের সংবাদ

ভারত-বাংলাদেশ সুসম্পর্ক অটুট থাকবে: রীভা গাঙ্গুলি

পরের সংবাদ

করোনাকালে নার্সদের সুরক্ষা অতি গুরুত্বপূর্ণ

প্রকাশিত: জুলাই ২৭, ২০২০ , ২:৪৯ অপরাহ্ণ আপডেট: জুলাই ২৭, ২০২০ , ২:৪৯ অপরাহ্ণ

ঢাকা-৯ আসনের সাংসদ ও বন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভাপতি সাবের হোসেন চৌধুরী বলেছেন, করোনা মোকাবেলায় নার্সদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা অতি গুরুত্বপূর্ণ। কেননা ডাক্তারের চেয়ে নার্সরা করোনা রোগীর সন্নিকটে বেশি থাকে এবং তাদেরকেই ২৪ ঘন্টা দায়িত্ব পালন করতে হয়। এজন্য সবচেয়ে সামনের সাড়ির সম্মুকযোদ্ধা হিসাবে নার্সদের সুরক্ষা নীতি গ্রহনের পাশাপাশি সবার উচিত হবে তাদের পাশে দাড়ানো।

সোমবার সকালে রাজধানীর কাকরাইলস্থ এইচআর ভবনের এইচআর অডিটরিয়ামে কোরিয়ান ইন্টারন্যাশনাল কোঅপারেশন এজেন্সীর (কইকা) পক্ষ থেকে নার্সদের ৩ হাজার পিপিই হস্তান্তর অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন তিনি। একই সময় কইকার পক্ষ থেকে ঢাকা-৯ আসনের অন্তর্গত রাজধানীর মুগদা এলাকার ১৮০০ পরিবারের জন্য খাদ্যদ্রব্য ও স্যানিটাইজার সামগ্রী হস্তান্তর করা হয়। সাবের হোসেন চৌধুরী সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন, সম্প্রতি বাংলাদেশে নিয়োগপ্রাপ্ত কোরিয়ার রাষ্ট্রদূত লি জ্যাং কেয়ান, বিশেষ অতিথি হিসাবে নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরের পরিচালক (শিক্ষা) মোহাম্মদ আবদুল হাই ও কইকা বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ইয়াং আহ দোহ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানের শেষে মুগদা এলাকার স্থায়ী জনপ্রতিনিধি হিসাবে ৫ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর লায়ন চিত্ত রঞ্জন দাস, ৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর বি এম সিরাজুল ইসলাম, ৭১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর খায়রুল ইসলাম, ৭২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর শফিকুল আলম শামীম ও ৭০,৭১,৭২ নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর সেলিনা খান প্রমুখ ত্রাণ সামগ্রী গ্রহন করেন।

সাবের হোসেন চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশের সুসময় ও দুঃসময়ে কোরিয়া সব সময় পাশে থেকেছে। একজন ভালো বন্ধু হিসাবে এই করোনাা মহামারীর মধ্যেও তারা সহযোগীতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে। যার প্রমান আজকে এই ৩ হাজার নার্সকে পিপিই ও ১৮০০ পরিবারকে ত্রাণ সামগ্রী দেয়া। তিনি বলেন, আমরা ইচ্ছা করলে এ অনুষ্ঠানটি অনেক বড় পরিসরে করতে পারতাম। কিন্তু গণজমায়াতে করোনা সংক্রমনের ঝুঁকি থাকে বলেই ছোট পরিসরে করা হচ্ছে।

ঢাকা-৯ আসনের সাংসদ বলেন, কইকা সবসময় বাংলাদেশের পাশে থেকে সহযোগীতা অব্যাহত রেখেছে। এতে দুদেশের মানুষের মধ্যে সম্পর্ক আরো দৃঢ় হচ্ছে। এছাড়াও অনেক দেশ হয়তো প্রয়োজনে ডাক্তার ও নার্স পাঠায়। কিন্তু কোরিয়া বাংলাদেশে নার্স তৈরি করছে। যারা সারা বিশ্বের যেকোনো জায়গায় সেবা দেয়ার যোগ্যতা রাখে। এতে বাংলাদেশকে এ দিক দিয়ে সামলম্বী হয়ে উঠছে। আমরা আশা করি কোরিয়া দুঃসময়ে যেমন পাশে দাড়াচ্ছে সুসময়েও পাশে থাকবে। বাংলাদেশে নিয়োগ পেয়ে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাতের আগেই এ ধরনের উদ্যগে যোগদানের জন্য কোরিয়ান রাষ্ট্রদূতকে বিশেষ ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন সাংসদ সাবের হোসেন চৌধুরী।

কোরিয়ার রাষ্ট্রদূত লি জ্যাং কেয়ান বলেন, বাংলাদেশে নিয়োগ পাওয়ার পর প্রথম অনুষ্ঠান হিসাবে এ ধরনের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে পেরে গর্ববোধ করছি। কইকার এ ধরনের উদ্যগ নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। অতীতের নেয় কোরিয়া সব সময় বাংলাদেশের পাশে থাকবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরের পরিচালক (শিক্ষা) মোহাম্মদ আবদুল হাই বলেন, দেশে ৪৫ হাজার নার্স রয়েছে। এদের মধ্যে প্রায় ৬ হাজার নার্স ও ২ হাজার চিকিৎসক করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। এরপরেও নার্সরা সাহসিকতার সঙ্গে সার্বক্ষণিক চিকিৎসা সেবা দিয়ে যাচ্ছে। চিকিৎসক ও নার্সদের সহযোগীতায় সরকার সফলতার সঙ্গে করোনা পরিস্থিতি সামাল দিতে পারছে বলেই সংক্রমনের হার এখনো নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। স্বাভাবিক রয়েছে জনজীবন। কইকা বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ইয়াং আহ দোহ বলেন, মুগদা এলাকা আমাদের কাছে কোরিয়ার মতোই। এখানকার মানুষদের সামান্য পরিমানে সহযোগীতা করতে পেরে আমরা গর্ববোধ করছি।

এসএইচ

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়