বন্যায় রোগে আক্রান্ত ১০ সহস্রাধিক

আগের সংবাদ

ঢাকা ঘিরে বন্যার পানি

পরের সংবাদ

এতো সহজে পৃথিবীকে ধ্বংস হতে দিব না

শরীফা বুলবুল

প্রকাশিত হয়েছে: জুলাই ২৭, ২০২০ , ২:১৩ পূর্বাহ্ণ

বিশেষ সাক্ষাৎকার
লুবনা মারিয়াম
নৃত্য গবেষক ও নৃত্যশিল্পী

লুবনা মারিয়াম। বিশিষ্ট নৃত্যগবেষক ও নৃত্যশিল্পী। গবেষণার কাজে প্রায় এক-দেড় বছর দেশের বাইরে ছিলেন। তার আরো একটা বড় পরিচয় তিনি মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রয়াত বীর সেক্টর কমান্ডার লে. কর্নেল কাজী নুরুজ্জামানের মেয়ে। মুক্তিযুদ্ধের সময়ে রচিত ও প্রচারিত একাধিক জনপ্রিয় গানে কণ্ঠ দিয়েছেন লুবনা মারিয়াম। পেশায় চিকিৎসক ও ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ লুবনা মারিয়াম ঢাকার ‘সাধনা’ (এ সেন্টার ফর দ্যা অ্যাডভান্সড অব সাউথ এশিয়ান কালচার) নামের একটি সংগঠনেরও অন্যতম প্রধান।

বিশিষ্ট এই নৃত্য ব্যক্তিত্বের করোনাকাল কেমন কাটছে ভোরের কাগজের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এই করোনাকালে আমার সংগঠন সাধনা থেকে গবেষণার কাজ করছি। মার্চ মাস থেকে এ পর্যন্ত ৬০০ জনকে গবেষণাভিত্তিক কর্মশালা চালিয়ে প্রশিক্ষণ দিয়েছি। ২০০৩ সালে ইউনেস্কোর সনদে বাংলাদেশ একটা চুক্তি করেছিল। এর শর্তানুযায়ী দু’বছরের মধ্যে একটা তালিকা করার কথা ছিল বাংলাদেশের। এর একটা শর্ত হলো- যে রাষ্ট্র সেই সনদটায় স্বাক্ষর করে তাকে একটা তালিকা করতে হবে। রাষ্ট্রের ভেতরে যা যা সাংস্কৃতিক চর্চা হয় সেটার। বাংলাদেশ কখনও সেটা করেনি। আমাদের সংগঠন যেহেতু গবেষণা করে তাই আমরা একটা প্রস্তাব দিয়েছিলাম বছর তিনেক আগে। কীভাবে এই তালিকা সহজে করা যায়। সে অনুযায়ি ১২টি সংগঠন মিলে কাজটা করছি। সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় বলল আমরাও আপনাদের সঙ্গে কর্মশালা করব। এই করোনার মধ্যেই এ কাজের অনেকটাই এগিয়ে গেছে।

লুবনা মারিয়াম

এ ছাড়া করোনাকালেই টরন্টোতে থাকাকালীন গবেষণা শেষে সম্পন্ন করেছি গ্র্যাজুয়েশন। দেশে ফিরেও বর্তমানে নানা ধরনের সাংগঠনিক কাজের মধ্য দিয়ে মহামারীকাল পার করছি। তিনি বলেন, করোনার এই দুর্যোগে আমরা নৃত্যশিল্পীরাও আমাদের জায়গা থেকে চিন্তা করছি। শাস্ত্রীয় নৃত্য এত শক্তিশালী একটা মাধ্যম। এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক মহলে পৃথিবীর কাছে অন্য বার্তা পৌঁছে দেয়া যায় কিনা আমরা ভাবছি।

পড়াশোনা করছেন কীনা জানতে চাইলে এই নৃত্যশিল্পী বলেন, সারাক্ষণই পড়ালেখার মধ্যেই আছি। এ ছাড়া লিখছি কালচারাল স্টাডি, পারফরমেন্স স্টাডিজ, অ্যানথ্রোপলজি নিয়ে লেখালেখি করছি। ‘মালটিপল রিজন অব বাংলাদেশ’ নামে রেডলিফ পাবলিশার্স একটা বই লেখার দায়িত্ব দিয়েছে। সেটাই লিখছি।

এ ছাড়া সংগঠনের নানা কাজ করছি। তার ওপর আমার মেয়ে আনুশেহ বাসার সবাইকে ব্যস্ত রাখছে। নিমপাতার রসসহ অর্গানিক সব খাবার খাওয়াচ্ছে। আমাদের বয়স হয়েছে তো। এরপর প্রতিদিন টানা ৩ ঘণ্টা যোগব্যয়াম, ব্রিদিং ও ধ্যান করাচ্ছে। ব্যস্ত আছি বলে যে ভালো আছি সেটাও বলা যায় না। তবে আমি ভীষণ আশাবাদী। আমি মনে করি, মানুষ অনেক মেধাবী। কিছু একটা উপায় বের করবেই। বিদেশে থাকাকালীন আমার মা মারা গেলেন। আমি তখন টরন্টোতে। আসতে পারিনি। এ নিয়ে বড্ড মনোবেদনা। এটাই তো জীবন!

লুবনা মারিয়াম

লুবনা মারিয়াম বলেন, অনেককে দেখছি অনলাইনে কবিতা পাঠ, নাটক করা এসব নিয়ে অনেক কথা বলছেন। কিন্তু আমি মনে করি সবাই এভাবে বিশেষ সময়ের সদ্ব্যবহার করছে। এগুলো মানসম্পন্ন হওয়ার দরকার নেই। নিজেকে ব্যস্ত এবং সবার সঙ্গে যোগাযোগ রাখাটাই এখন মূল উদ্দেশ্য। তাছাড়া আমাদের সবার মন তো ভেঙে যাচ্ছে ক্ষণে ক্ষণে। নিজের মনকে ভালো রাখতে যদি কেউ নাচ-গান করে, সেটা তো অন্যায় কিছু না। আমি এর আগে আমাদের সংগঠন কল্পতরুর শিক্ষকদের বলেছি অনলাইনে ক্লাস নিতে। খুব ভালো ক্লাস হয়েছে। প্রতি মাসে একটা দিনও ক্লাস মিস করিনি। শিক্ষকদের বেতনও দেয়া হয়েছে। পথশিশুদের নিয়েও একটা স্কুল চালাই। তারা বসে আছে। ভাবছি কীভাবে তাদের স্মার্টফোন দিয়ে অল্প ইন্টারনেট খরচে লেখাপড়া করানো যায়।

চেনা পৃথিবীর কতোটা বদল ঘটেছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমার তো মনে হয় যথেষ্ট বদলায়নি। এখনও মানুষ ভাবছে পুরনো অভ্যাসগুলোতে ফেরত যাবে। তাহলে বদল হলো কোথায়? সেটা হলে তো সামাল দেয়া যাবে না। কেবল পরিপার্শ্ব বদলালে হবে না। মানুষকে তার অভ্যাস পাল্টাতে হবে। তাহলেই আমরা ঘুরে দাঁড়াতে পারব। আমি আশাবাদী মানুষ। আমার মধ্যে নৈর্ব্যক্তিক কোনো চিন্তা নাই। এতো সহজে আমরা এই পৃথিবীকে ধ্বংস হতে দিব না।

এনএম