লাইসেন্স নবায়নে গরজ নেই বেসরকারি হাসপাতালের

আগের সংবাদ

রাজনীতিরই কোয়ারেন্টাইনে চলে যাওয়া উচিত

পরের সংবাদ

করোনায় আটকা চাঞ্চল্যকর অনেক মামলার বিচার

তানভীর আহমেদ 

প্রকাশিত হয়েছে: জুলাই ২৫, ২০২০ , ৯:২২ পূর্বাহ্ণ

বৈশ্বিক মহামারি করোনা ভাইরাসের (কোভিড-১৯) প্রাদুর্ভাবে উচ্চ আদালতের স্বাভাবিক কার্যক্রম বন্ধ থাকায় চাঞ্চল্যকর অনেক মামলার বিচার আটকে গেছে। চ‚ড়ান্ত নিষ্পত্তির অপেক্ষায় আছে গুরুত্বপূর্ণ কিছু মামলা। অপরদিকে, ঢাকার বিচারিক আদালতে অনেক চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলার পাশপাশি আলোচিত দুর্নীতি মামলার বিচার প্রক্রিয়াও থমকে গেছে। এমন অবস্থায় কবে নাগাদ স্বাভাবিকভাবে আদালতের কার্যক্রম শুরু হবে তা নিয়ে শঙ্কায় সংশ্লিষ্টরা।
উচ্চ আদালতে চাঞ্চল্যকর এসব মামলার মধ্যে রয়েছে, ফেনীর নুসরাত হত্যার ডেথ রেফারেন্স, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার ডেথ রেফারেন্স, জামায়াত নেতা এটিএম আজহারের রিভিউ ও সৈয়দ মুহম্মদ কায়সারের চ‚ড়ান্ত রায়, রমনার বটমূলে বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে বোমা হামলা মামলার ডেথ রেফারেন্স, দশ ট্রাক অস্ত্র মামলার ডেথ রেফারেন্স, হলি আর্টিজানে হত্যা মামলার আপিল, গাইবান্ধার এমপি হত্যা মামলার আপিল, বাসচাপায় শিক্ষার্থী মীম-রাজিবের মৃত্যুর মামলার আপিল, জাহালমের ক্ষতিপূরণ নিয়ে রিটের রায়, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে বিচারিক তদন্তের ওপর শুনানি ও গ্রিনলাইন পরিবহনের বাসচাপায় পা হারানো রাসেল সরকারকে ক্ষতিপূরণ প্রশ্নে রিটের রায়সহ বেশ কিছু মামলার রায় অপেক্ষমাণ রয়েছে।
করোনার কারণে ঢাকার আদালতে বুয়েটের ছাত্র আবরার ফাহাদ হত্যা মামলার শুনানি, ত্রিশ বছর আগের গৃহবধূ সগিরা মোর্শেদ হত্যার বিচার, রানা প্লাজার নিহতদের মামলা, অভিজিৎ হত্যা, নায়ক সালমান শাহ হত্যাসহ চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলার বিচার স্থবির হয়ে আছে। নাইকো, গ্যাটকো, বড়পুকুরিয়া কয়লাখনিসহ বড় বড় দুর্নীতির মামলা চার্জ গঠনের পর্যায়ে থাকলেও তা এখন বন্ধ রয়েছে। এছাড়া বরগুনায় রিফাত শরীফ হত্যার বিচার ও ফরিদপুর মেডিকেলে পর্দা কেনায় দুর্র্নীতি ও রূপপুর বালিশ কেনায় দুর্নীতির মামলার বিচার বন্ধ রয়েছে।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, অনেক মামলা রয়েছে যার বিচারিক আদালতের রায় শেষে হাইকোর্ট বিভাগে এখন বিচারাধীন। আবার কোনোটি বিচারিক আদালতে শুনানির জন্য অপেক্ষায় রয়েছে। এমন মামলার সংখ্যা কয়েক’শ।
এদিকে, ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে জামিনযোগ্য মামলার অনেক আসামি পলাতক রয়েছে। তারা বর্তমানে বিচারিক ভার্চুয়াল আদালত অথবা উচ্চ আদালতে আত্মসমর্পণ বা জামিনের জন্য আবেদন করতে পারছে না। ভার্চুয়াল আদালতে আগাম জামিন বা আত্মসমর্পণ করার সুযোগ নেই। এছাড়া উচ্চ আদালতে জনস্বার্থে দায়ের করা অর্ধশতাধিক রিটের রায় ঘোষণার দিন ইতোমধ্যে পার হয়েছে। এসব মামলার বিচার দ্রুত নিষ্পত্তি নিয়ে হতাশ সংশ্লিষ্টরা। সারাদেশে বিচার কার্যক্রম স্থবির হওয়ায় মামলাজট সৃষ্টি হয়েছে বলে মনে করেন আইনজীবীরা।
আইনজীবীরা বলছেন, করোনা পরিস্থিতিতে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার বিকল্প নেই। কবে সবকিছু স্বাভাবিক হবে তাও নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। এ অবস্থায় চাঞ্চল্যকর মামলার চ‚ড়ান্ত নিষ্পত্তি নিয়ে শঙ্কা তো থাকবেই। তবে করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে রাষ্ট্রপক্ষ এসব মামলা দ্রুত শুনানির উদ্যোগ নিতে পারে।
গুরুত্বপূর্ণ এসব মামলা নিষ্পত্তিতে বিশেষ কোনো উদ্যোগ নেয়া হবে কিনা জানতে চাইলে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, করোনা ভাইরাসের কারণে আদালত বন্ধ থাকায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে এসব গুরুত্বপূর্ণ মামলা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শুনানির উদ্যোগ নেয়া যেতে পারে। সাবেক আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ বলেন, আদালত বন্ধের প্রেক্ষাপট এখন ভিন্ন। এ অবস্থায় আমাদের একটু ধৈর্য ধরা ছাড়া উপায় নেই। তবে বিশেষ মামলার ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপক্ষ থেকে উদ্যোগ নেয়া দরকার।
সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী সুপ্রিম কোর্টসহ দেশের সব অধস্তন আদালতে প্রায় ৩৭ লাখ মামলা বিচারাধীন। এর মধ্যে সাড়ে সাতশ’ মামলায় মৃত্যুদণ্ডাদেশপ্রাপ্ত ১৮০০ আসামি কারাগারের কনডেম সেলে চ‚ড়ান্ত রায়ের অপেক্ষায় রয়েছে।

এসএইচ