জায়েদ খানের বিরুদ্ধে মাঠে নামছেন শিল্পীরা

আগের সংবাদ

সিটিকে হারিয়ে ফাইনালে আর্সেনাল

পরের সংবাদ

এবার ভার্চুয়ালে জমবে কুরবানির পশুরহাট

প্রকাশিত: জুলাই ১৯, ২০২০ , ১০:৫৬ পূর্বাহ্ণ আপডেট: জুলাই ১৯, ২০২০ , ১০:৫৭ পূর্বাহ্ণ

প্রতি বছর কুরবানির ঈদের আগে গরু নিয়ে খামারিরা রাজধানী ঢাকায় পাড়ি দেন। করোনা ভাইরাসের কারণে এবার তারা ঢাকার পশুরহাটে গিয়ে ঝুঁকি নিতে চাইছেন না। গ্রাম থেকে গরু বিক্রির চেষ্টায় আছেন তারা। খামারিরা এলাকার বাইরে না গেলে কুরবানির হাটে পশুর সরবরাহ কম থাকতে পারে। তাই এবার কুরবানির ঈদে ক্রেতা-বিক্রেতা অনেকেরই ভরসাস্থল হতে যাচ্ছে ভার্চুয়াল পশুরহাট।
করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের আগে কয়েক বছর ধরে অনলাইনে কুরবানির পশু বেচাকেনা চলছিল। অনেকে ব্যক্তি উদ্যোগে, অনেক বড় খামারি ফেসবুকে লাইভওয়েটে কুরবানির পশু বিক্রি করতেন। তবে করোনার ঝুঁকির কারণে এবার এর চাহিদা অনেকটাই বাড়তে পারে বলে মনে করছেন খামারসংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, করোনার কারণে মানুষের কুরবানি দেয়ার মতো আর্থিক সংগতি কমে গেছে। প্রতি বছর কুরবানির ঈদে বড় বা একাধিক গরু বা পশু যারা কুরবানি দিতেন, তারা ছোট গরুর দিকে ঝুঁকবেন।
ভার্চুয়াল পশুরহাট একটি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। যেখানে অনলাইনে ওয়েবসাইটের মাধ্যমে কুরবানির পশুর ক্রেতা ও বিক্রেতারা একসঙ্গে মিলিত হবেন। বিক্রেতা গরু, ছাগল বা কুরবানি উপযুক্ত পশুর স্থিরচিত্র বা ভিডিও দেখাবেন। গরুর দাম, বয়স, ওজন, কয়টা দাঁত রয়েছে, কোথা থেকে আনা হয়েছে, এমন সব তথ্য থাকবে। পশুরহাটে গিয়ে ক্রেতা যেভাবে গরু যাচাই-বাছাই করেন, ঠিক সেভাবেই দেখা যাবে। পছন্দ হলে ক্রেতা গরু কিনে নিতে পারবেন। ক্রেতা যেখানে চাইবেন, সেখানেই গরু পাঠিয়ে দেয়া হবে।
কুরবানির ঈদ সামনে রেখে পশুর হাটের কার্যক্রম শুরু করেছেন দীপ্ত সাহা। তিনি বলেন, ডিজিটাল প্রযুক্তির মাধ্যমে খামারিদের সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে এবার আমরা অনলাইন হাট নিয়ে এসেছি। যার মাধ্যমে সরাসরি খামারি ও ক্রেতার মধ্যে যোগাযোগ স্থাপন হবে। দালালমুক্ত পরিবেশে খামারি গরুর ন্যায্য দাম পাবেন। ভোক্তাও খামারির কাছ থেকে দেখেশুনে ভালো ও পছন্দের কুরবানির গরুসহ অন্যান্য পশু বেচাকেনা করতে পারেন।
প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯ সালে দেশে কুরবানিযোগ্য গবাদিপশুর সংখ্যা প্রায় ১ কোটি ১৮ লাখ ছিল। কুরবানিযোগ্য ৪৫ লাখ ৮২ হাজার গরু-মহিষ, ৭২ লাখ ছাগল-ভেড়া এবং ৬ হাজার ৫৬৩টি অন্যান্য পশুর ছিল। গতবার ঈদুল আজহায় ১ কোটি ১০ লাখ পশু কুরবানি দেয়া হয়। এর আগের বছর ২০১৮ সালে ঈদে কুরবানিযোগ্য গবাদিপশুর মোট সংখ্যা ছিল ১ কোটি ১৫ লাখ এবং কুরবানি হয়েছিল ১ কোটি ৫ লাখের মতো।
এবার কুরবানিযোগ্য পশুর সংখ্যা আরো বেড়েছে বলে জানান বাংলাদেশ ডেইরি ফারমার্স এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক শাহ ইমরান। তিনি বলেন, করোনা পরিস্থিতির কারণে চার মাস ধরে মাংস বিক্রেতাদেরও বিক্রি কমে গেছে। অবিক্রীত গরু-ছাগলও কুরবানির ঈদে যুক্ত হবে। করোনা পরিস্থিতি চলতে থাকলে হাটেও ক্রেতা-বিক্রেতার সমাগম কম হবে। আর্থিক মন্দা, করোনায় স্বাস্থ্যগত ঝুঁকিসহ নানা কারণে অন্যান্য বারের তুলনায় এবারের কুরবানি ২০ শতাংশের মতো কম হবে। তাই ক্রেতাদের বড় একটি অংশ অনলাইনে গিয়ে পশু কিনতে যেতে পারেন।
করোনার কারণে এবার কুরবানির ঈদে অনেক কম গবাদিপশু বিক্রি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বাংলাদেশ মাংস বিক্রেতা সমিতির মহাসচিব রবিউল আলম। তিনি বলেন, কুরবানির মাংস বিতরণে জনসমাগমের বিষয় থাকে। করোনার কারণে সেই ঝুঁকি অনেকেই নিতে চাইবেন না। তাই কুরবানির ঈদে পশুর চাহিদা কমবে। দাম না পাওয়ার আশঙ্কায় খামারিরাও হাটমুখী হবেন না। নিজ এলাকা থেকেই পশু বিক্রির চেষ্টা করবেন তারা। ক্রেতাদের অনেকে স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়াতে অনলাইনে গরু কিনতে চাইবেন।

এসআর

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়