বাংলাদেশের জনসংখ্যা ২১০০ সালে অর্ধেক কমে যাবে‍!

আগের সংবাদ

১ আগস্ট থেকে ইতালি যেতে পারবেন বাংলাদেশিরা

পরের সংবাদ

পুঁজিবাদী রাজনীতির খেসারত দিতে হয় প্রকৃতিকে

প্রকাশিত: জুলাই ১৬, ২০২০ , ১২:০৩ অপরাহ্ণ আপডেট: জুলাই ১৭, ২০২০ , ১:১৭ পূর্বাহ্ণ

বিশেষ সাক্ষাৎকার
লিয়াকত আলী লাকী
নাট্যজন ও মহাপরিচালক, শিল্পকলা একাডেমি

লিয়াকত আলী লাকী। ঋত্বিক নাট্যপ্রাণ। একাধারে নাট্যাভিনেতা, নাট্যনির্দেশক, নাট্যকার, সংগীতশিল্পী, সুরকার, সাংস্কৃতিক সংগঠক হিসেবে নিজের আত্মপ্রকাশ ঘটিয়েছেন। যিনি প্রায় ৫৩ বছর ধরে সংস্কৃতির বিকাশে কাজ করছেন। এ পর্যন্ত তিনি অভিনয় করেছেন ৫৮টি নাটকে, নির্দেশনা দিয়েছেন ৭৮টি আর রচনা করেছেন ৮টি নাটক। যিনি শিল্পকলায় অবদানের জন্য ২০১৯ সালে একুশে পদক লাভ করেছেন তিনি।

বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা ১৯৮১ সালে ধানমন্ডির ঐতিহাসিক বঙ্গবন্ধু ভবনে লিয়াকত আলী লাকীকে ডেকে নিয়ে নাটকের দল তৈরি করতে বলেছিলেন। বলেছিলেন, রাজনৈতিক আন্দোলনের পাশাপাশি সাংস্কৃতিক আন্দোলনটাও জরুরি। প্রিয় নেত্রীর অনুপ্রেরণায় গঠিত হলো মঞ্চ নাটকের সংগঠন- লোক নাট্যদল। সেই থেকে একটানা ৩৬ বছর নাটক এবং সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গেই জড়িয়ে আছেন।

এই নাট্য ব্যক্তিত্বের করোনাকাল কেমন কাটছে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, করোনার এই সময়টায় ‘আর্ট এগেইনস্ট করোনা’ নিয়ে একধরণের আন্দোলনে নেমেছি। এই আন্দোলনটা পরিচালনা করতে যে কারণে অনেকটা সময় আমাকে ব্যয় করতে হচ্ছে। কোন শিল্পী যুক্ত করবো, কী কী কাজ করবো। জেলাগুলো কীভাবে করছে সেটা মনিটরিং করা। করোনার যুদ্ধে শিল্প নিয়ে যুদ্ধ করার কাজ করছি। এই কারণে যে শিল্পীরাও যেন বলতে পারেন আমরাও যুদ্ধ করছি, মানুষের মনোবল সুদৃঢ় রাখা, সচেতন রাখার জন্য। এর মধ্য দিয়ে হতাশা যেন কোনোভাবেই আমাদের আক্রমণ করতে না পারে। প্রধানত সেই কাজটিই করছি।

লিয়াকত আলী লাকী

লিয়াকত আলী লাকী বলেন, শিল্পকলা একাডেমির প্রশাসনিক কাজ তো আছেই। মুজিববর্ষ নিয়ে কিছু প্রকাশনার কাজ করছি। নিজে কিছু গান লিখছি। সেই গানগুলো সুরারোপ করে গাওয়ার চেষ্টা করছি। এ পর্যন্ত বঙ্গবন্ধুর ওপর যত গান নির্মিত হয়েছে, সেই গানগুলো একত্রিত করে আমরা সিডি আকারে প্রকাশ করবো। এ ছাড়া নতুন একশটা গানও করবো- এরকম একটা স্বপ্ন নিয়ে কাজ করছি। এ নিয়ে অনেকদিন ধরেই কাজ করছি। লক্ষ্যটা হচ্ছে একশটা গান উপহার দেব। এখন সেগুলোকে সুরারোপ করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

করোনাকালে কী পড়ছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, যখন যেটা প্রয়োজন হয়, তখন সেটাই পড়ি। আমার প্রায় দশ হাজার বইয়ের সংগ্রহ আছে। বই দিয়েই আমার চারপাশ সাজানো। এর অধিকাংশই শিল্পসাহিত্য ও সংস্কৃতির। প্রতিদিনই আমি যেটা করি, প্রতিদিনই বিশ্বের যে শিল্পধারা আছে ঐতিহ্যগতভাবে হাজার হাজার বছর আগেকার ঐতিহ্যের বর্তমান অবস্থাটা এখন কী, বর্তমানে সারাবিশ্ব শিল্পটাকে কীভাবে দেখছে- এর নানারকম আধুনিকতা আছে সেসব দেখা এবং পড়ার চেষ্টা করছি। তাছাড়া সংস্কৃতির যত তত্ত্ব আছে সেসব একটু ঝালাই করছি। এসব বিষয় নিয়ে কারা কীভাবে ভাবতো, সংস্কৃতির যে বিভিন্ন ক্ষেত্র আছে বা কোথায় কোন আর্ট গ্যালারি কীভাবে প্রদর্শনী করছে তা দেখার চেষ্টা করছি।

অর্থাৎ বিশ্ব সংস্কৃতির যে বিভিন্ন দিকগুলো আছে যেখানে বড় বড় ফেস্টিভেল হয়, আর্ট গ্যালারিতে বড় বড় প্রদর্শনীগুলো হয় ইউটিউব চ্যানেলে সেসব দেখার জন্য আমি প্রতিদিনই কিছু সময় রাখি। যে কারণে প্রতি রাতেই তিনটার আগে ঘুমুতে যেতে পারি না। এ ছাড়া বঙ্গবন্ধু উপর কিছু গান লিখছি। সেসব সুরারোপ করার কাজও করছি। পাশাপাশি আমার প্রধান কাজটিই ছিল শিল্পের আলোয় বঙ্গবন্ধু। বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে যতগুলো শিল্পকর্ম নির্মিত হয়েছে এর পেছনে আমার অবদান আছে।

বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে সেই পঁচাত্তরের পর থেকেই নিজেও গান করেছি। ১৯৭৯ সালে আমিই প্রথম বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে ক্যাসেট বের করেছি। কবিতায় গুনদা, মহাদেব সাহা, জাফর ওয়াজেদ, কামাল চৌধুরী প্রতিবাদ করেছিলেন, আর আমার প্রতিবাদ ছিল গানের মধ্য দিয়ে। মূল বিষয়টা ছিল নাটক, শিল্প, সাহিত্য, সংগীতের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুকে তুলে ধরা। যেমন শিল্পকলায় আমি এক হাজার তিনশ বই সংগ্রহ করেছি বঙ্গবন্ধু কর্নারের জন্য। সেসব বই পঞ্চাশজন গবেষককে দিয়ে পাঠ করাচ্ছি। পাঠের পরে পর্যালোচনা হচ্ছে। তারপর বই করা হবে। এর মধ্যে দুটো বই প্রকাশ হয়েও গেছে। আরও বিশটা প্রকাশিত হবে।

আরো একটা কাজের প্রস্তুতি নিচ্ছি। মুক্তিযুদ্ধের সুবর্ণ জয়ন্তী আসছে তা নিয়ে। ৬৪টি জেলার ৬৪টা বধ্যভূমিতেই নাটকগুলো মঞ্চায়ন হবে। কী ঘটেছিল ১৯৭১ সালে সেখানটাতে, তাই বলা হবে। স্ক্রিপ্ট লেখা এবং গবেষণার কাজ চলছে এখন। মুজিববর্ষের আয়োজন ১৭ মার্চ শেষ হবে। এরপর আমরা ২০২১ সালের শুরুর দিকে নাটকের মহড়ার কাজটা শুরু করবো।

লিয়াকত আলী লাকী

করোনার কারণে চেনা পৃথিবীর কতোটা বদল ঘটেছে জানতে চাইলে এই নাট্যজন বলেন, বদল তো অনেকটাই ঘটেছে। আমরা হয়তো অনেকেই বুঝতে পারছি না। এই চিত্র তো আমরা কখনওই দেখিনি, জীবনে দেখতেও হয়নি। এই বদলই আমাদের অনেক কিছুই জানান দিচ্ছে, অনেক কিছু শেখাচ্ছে। আমার মনে হচ্ছে পুরো বিশ্বব্রহ্মাণ্ড, প্রকৃতি, চন্দ্র, সূর্য, গ্রহ, তারা সব কিছুর ভেতরেই তো আমরা আছি। পারস্পরিক অধিকারগুলো সেসব মনে হয় বিঘ্নিত করেছি। মানুষই করেছে। বিশেষ করে যখনই বিশ্বটা অস্থির হয়ে উঠছিল। সবাই দৌড়াচ্ছে, ছুটছে, কারো সময় নেই। শুধুমাত্র অন্নবস্ত্র বাসস্থান চিকিৎসার জন্য অধিকাংশ মানুষকে প্রাণপাত করতে হচ্ছে, যে কারণে সামাজিক সমতাটা ভূলুণ্ঠিত হচ্ছিল।

মানবিক মূল্যবোধগুলো এমন একটা জায়গায় গিয়ে পৌঁছেছিল যে অনেকটা ভোগবাদী সমাজ হয়ে উঠেছিল। আত্মসেবা ছাড়া আর কিছুই তারা চোখে দেখতে পাচ্ছিল না। এই করোনার মধ্যেও একটা উন্নত দেশে বর্ণবৈষম্য বর্ণবাদী তৎপরতা দেখলাম তা মানা যায় না। পৃথিবীটা মুষ্ঠিমেয় কিছু মানুষের হাতে, রাজনীতির হাতে চলে গেছে। পুঁজিবাদী রাজনীতির তো একটা চরিত্র আছেই। যার খেসারত দিতে হয় প্রকৃতিকে, মানুষকে, প্রত্যেক জাতিকে। এটাকে আমার মনে হয় করোনার তাণ্ডব। যে মানুষগুলোকে হারাচ্ছি তাদের চলে যাওয়া খুব দুঃখের সঙ্গে দেখছি। একসঙ্গে এতো মানুষ চলে যাবে ভাবিনি। ভাবতে পারি না।

ডিসি

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়