উজবেকিস্তানে রাষ্ট্রদূত নিযুক্ত হলেন জাহাঙ্গীর আলম

আগের সংবাদ

করোনার ছোবল পড়েনি ১২ দেশ-অঞ্চলে, কেন!

পরের সংবাদ

ভেঙেছে শহররক্ষা বাঁধ

‘একাত্তরের মুক্তাঞ্চল’ পানির নিচে

মাসুদ পারভেজ: রৌমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি

প্রকাশিত হয়েছে: জুলাই ১৬, ২০২০ , ৬:৩৮ অপরাহ্ণ

অবশেষে শহররক্ষা বাঁধটি ভেঙে একাত্তরের মুক্তাঞ্চল খ্যাত রৌমারী উপজেলা প্লাবিত হলো পানিতে। এতে পানিবন্দী হয়ে পড়েছে উপজেলা চত্বরসহ ৬টি ইউনিয়নের ৩ লক্ষাধিক মানুষ। ভেসে গেছে দুই শতাধিক পুকুরের মাছ। সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সরকারি-বেসরকারি অফিস আদালত, উপজেলা প্রেসক্লাব এবং পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে। প্রায় ১ হাজার হেক্টর জমির বিভিন্ন ফসল পানিতে তলিয়ে গেছে। ভেঙে পড়েছে যোগাযোগ ব্যবস্থা। বানভাসি মানুষ তাদের আসবাবপত্র নিয়ে আশ্রয় নিচ্ছে উঁচু রাস্তায়। দেখা দিয়েছে খাবারের সংকট।

বুধবার সন্ধ্যা ৭টায় বন্দবেড় ইউনিয়নের বাগমারা গ্রামের আব্দুল জলিলের পুকুর পাড় স্থানে শহররক্ষা বাঁধটি ভেঙে উপজেলা সদরে পানি প্রবেশ করে। পরদিন বৃহস্পতিবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, গত বছরের ভয়াবহ বন্যায় বিভিন্ন এলাকার বেড়িবাঁধ ও সংযোগকারী রাস্তাগুলো ভেঙে গেছে।

এক বছর অতিবাহিত হলেও বাঁধ ও সংযোগকারী রাস্তাগুলো মেরামত করা হয়নি। ফলে কয়েক দিনের ভারীবর্ষণে ও উজান থেকে নেমে আসা ভারতীয় পাহাড়ি ঢলে ব্রহ্মপুত্র নদ ও জিঞ্জিরাম নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে নদের দুকুল উপচে বিভিন্ন এলাকায় সহজেই পানি প্রবেশ করেছে। আগের বন্যার পানি কিছু শুকালেও হঠাৎ নতুন করে আবারো পানি বৃদ্ধি পেয়ে তলিয়ে যায় উপজেলার ৬টি ইউনিয়ন।

চাতাল আর লোকালয়ে ঢুকে পড়েছে পানি

অস্বাভাবিকভাবে পানি বৃদ্ধি হওয়ায় প্রথমে শহররক্ষা বাঁধের উপর দিয়ে পানি গড়তে থাকে। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জিও ব্যাগের মাধ্যমে মাটি ভরাট করে উপচেপড়া পানি বন্ধ করার চেষ্টা করা হয়। ধীরগতিতে কাজ ও জনবল সংকটের কারণে শেষ চেষ্টা করেও রক্ষা করা সম্ভব হয়নি বাঁধটিকে।

বন্দবের গ্রামের বানভাসি মোকছেদুল ইসলাম বলেন, আমার ঘরে কোমড় পানি। রান্না করতে না পারায় উপোস থাকতে হচ্ছে। শুকনো খাবারও ঘরে নাই। কলেজপাড়ার আবু তালেব জানান, ঘরবাড়ি তলিয়ে যাওয়ায় পরিবার পরিজন নিয়ে খুবই বিপদে আছি। এখন পর্যন্ত সরকারি কোনো ত্রাণ পাইনি।

উপজেলা পরিষদ চত্বরে পানি

খাঁনপাড়া গ্রামের বাসিন্দা আজাহার আলী অভিযোগ করে বলেন, আমি চারদিন ধরে ঘরে পানিবন্দি হয়ে আছি। মেম্বার ও চেয়ারম্যানরা এখনও দেখতে আসেনি। স্ত্রী-সন্তান নিয়ে কষ্টে আছি। ফলুয়ারচর গ্রামের আব্দুর ছবুর জানান, আমার বাড়িতে মাথা পর্যন্ত পানি। তাই বাড়ির লোকজন উঁচু জায়গায় আশ্রয় নিয়েছি। ঘরে খাবারের সংকট থাকায় দিশেহারা আমি।

শহররক্ষা বাঁধ ভেঙে প্লাবিত রৌমারী। ছবি: মাসুদ পারভেজ রুবেল।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকতার্ আজিজুর রহমান বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের নামের তালিকা করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ৬টি ইউনিয়নে ১২ মেট্রিকটন চাউল, শিশু খাদ্য ১৫ হাজার, গোখাদ্য ১৫ হাজার ও জিআরের ৩০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার আল ইমরান বলেন, নতুন করে বন্যার পানি বৃদ্ধি হওয়ায় এলাকার অনেক ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা করা হচ্ছে।

এমআই