সুন্দরগঞ্জে কৃষক হত্যা: প্রধান অভিযুক্ত রিমান্ডে

আগের সংবাদ

রৌমারীতে বাঁধ ভেঙে সদরেও বন্যার পানি

পরের সংবাদ

রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় চিরনিদ্রায় শায়িত শাজাহান সিরাজ

কাগজ প্রতিবেদক

প্রকাশিত হয়েছে: জুলাই ১৫, ২০২০ , ১০:৫৩ অপরাহ্ণ

স্বাধীনতার ইশতেহার পাঠক, মুক্তিযুদ্ধসহ বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের নানা পর্বের সাক্ষী শাজাহান সিরাজ তিন দফা জানাজা শেষে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় চির নিদ্রায় শায়িত হয়েছেন রাজধানী ঢাকার বনানী কবরস্থানে।

আজ বুধবার সাবেক এই মন্ত্রীর প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয় দুপুর ১২টায় টাঙ্গাইলের এলেঙ্গায়, দ্বিতীয় জানাজা বাদ জহুর কালীহাতীতে এবং তৃতীয় জানাজা বাদ এশা গুলশান সোসাইটি মসজিদে।

৭৭ বছর বয়সী শাজাহান গতকাল মঙ্গলবার বিকেল ৩টা ২৫ মিনিটে রাজধানীর এভার কেয়ার হাসপাতালে (সাবেক অ্যাপোলো) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। এরপর সন্ধ্যায় মরহুমের মরদেহ হাসপাতাল থেকে তার গুলশানের ২৩ নম্বর সড়কের ২৮ নম্বর বাসায় নেওয়া হয়। রাতে রাতে গুলশানের বাসায় লাশবাহীর অ্যাম্বুলেন্সে তার মরদেহ রাখা হয়। আজ বুধবার সকালে ১৯৪৩ সালের ১ মার্চ টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে জন্মগ্রহণ করা শাজাহান সিরাজের মরদেহ তার জন্মস্থানে নেওয়া হয়।

বর্ষীয়ান রাজনীতিক মুক্তিযোদ্ধা শাজাহান সিরাজের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। এক শোক বার্তায় রাষ্ট্রপতি শাজাহান সিরাজের বিদেহি আত্মার মাগফিরাত কমানা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

শাজাহান সিরাজের স্ত্রীকে ফোন করে সান্ত্বনা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে আজ জানানো হয়েছে, শেখ হাসিনা শাজাহান সিরাজের স্ত্রী রাবেয়া সিরাজ ও তার মেয়ে সারওয়াত সিরাজের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন এবং শোকাহত পরিবারকে সান্ত্বনা দেন। শাজাহান সিরাজের মৃত্যুতে শোক ও দুঃখ প্রকাশ করে এক শোকবার্তায় শেখ হাসিনা মুক্তিযুদ্ধে শাজাহান সিরাজের অবদানের কথা শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।

শাহজাহান সিরাজ ডায়াবেটিস, কিডনি জটিলতা, উচ্চ রক্তচাপ আগে থেকে ছিল শাহজাহান সিরাজের। ২০১২ সালে ফুসফুসে ক্যান্সার ধরা পড়ে। এরপর কয়েক বছর পর ক্যান্সার ধরা পড়ে মস্তিষ্কেও। তখন থেকেই রাজনীতিতে নিষ্ক্রিয় শাহজাহান সিরাজ। অবস্থার অবনতি ঘটলে গত সোমবার এভার কেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল।

বাদ এশা গুলশান সোসাইটি মসজিদে মরহুম শাজাহান সিরাজের নামাজের জানাজা অংশ নেন মুক্তিযদ্ধেও অন্যতম সংগঠক গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ও ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিশেষ সহকারী শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, বিএনপি নেতা তাবিথ আউয়াল, ইশরাক হোসেন, ঢাকা বারের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট খোরশেদ আলম মীয়া প্রমুখ। এরপর মুক্তিযোদ্ধা এই সংগঠকের মরদেহ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় বনানী কবরস্থানে শায়িত করা হয়।

শাজাহান সিরাজের জানাজায় অংশ নেওয়ার পর ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, ‘শাজাহান সিরাজের মৃত্যুতে ইতিহাসের আরেকটি পাতা ঝড়ে পড়ল। জাতির দুর্ভাগ্য নতুন প্রজন্মকে এ ইতিহাস জানানো হয় না। আমি এ জন্যেই তাকে সালাম জানাতে এসেছি। ওই সময় দুজন তরুণ একজন আ স ম আবদুর রব, আরেকজন শাজাহান সিরাজ। এরাই তখন দেশের স্বাধীনতার ঝান্ডা তুলে ধরেছেন।’

এর আগে বেলা সাড়ে ১২টায় কালিহাতী উপজেলার এলেঙ্গা সরকারি শামসুল হক কলেজ মাঠে প্রথম এবং ২টা ৩০ মিনিটে কালিহাতী সদরে শাজাহান সিরাজ কলেজ মাঠে দ্বিতীয় নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এখানে জানাজা শেষে বিকালে শাজাহান সিরাজের মরদেহ ঢাকায় আনা হয়। দুপুর সাড়ে ১২ টার দিকে অ্যাম্বুলেন্সযোগে শাহজাহান সিরাজের মরদেহ ঢাকা থেকে এলেঙ্গায় পৌঁছায়। এ সময় স্বজন ও শুভানুধ্যায়ীদের মধ্যে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। তাকে শেষবার এক নজর দেখতে দলমত নির্বিশেষে সর্বস্তরের মানুষ সেখানে জমায়েত হয়। পরে কালিহাতী উপজেলা নির্বাহী অফিসার শামীম আরা নিপার উপস্থিতিতে এই মুক্তিযোদ্ধাকে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। শাজাহান সিরাজের জানাজায় প্রশাসনের কর্মকর্তা ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীসহ সাধারণ মানুষ অংশগ্রহণ করেন। করোনাভাইরাসের কারণে সামজিক দূরত্ব মেনে জানাজা হওয়ায় মাঠে লোক সংকুলান হয়নি। পরে রাস্তায় দাঁড়িয়ে অনেকে জানাজায় অংশ নেন।

জানাজার দুই স্থানেই প্রশাসন, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, শিক্ষা-প্রতিষ্ঠান, পেশাজীবী, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে ফুল দিয়ে মরদেহে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। এ সময় বক্তারা মুক্তিযুদ্ধে তার অবদানের কথা স্মরণ করেন।

পরিবারের পক্ষ থেকে জানাজায় অংশগ্রহণকারীদের উদ্দেশ্যে কথা বলেন শাজাহান সিরাজের মেয়ে ব্যারিস্টার সারওয়াত সিরাজ শুক্লা। জানাজায় অংশগ্রহণ করেন টাঙ্গাইল-৪ (কালিহাতী) আসনের সংসদ সদস্য হাছান ইমাম খান সোহেল হাজারী, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আনছার আলী, উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি মোজহারুল ইসলাম তালুকদার, জেলা কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি রফিকুল ইসলাম রফিক, বিএনপির কেন্দ্রীয় সদস্য লুৎফর রহমান মতিন, জেলা সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ ইকবাল, কারিহাতী উপজেলা আহ্বায়ক শুকুর মাহমুদ, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক ও কালিহাতী পৌরসভার মেয়র আলী আকবর জব্বার, এলেঙ্গা পৌরসভার মেয়র নূর এ আলম সিদ্দিকী ও উজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোজাম্মেল হক হিরো প্রমুখ।

এমএইচ