করোনাকালে বন্যা, জনজীবনে প্রভাব ও মোকাবিলা!

আগের সংবাদ

নমুনা সংগ্রহ বাড়াতে হবে

পরের সংবাদ

বত্রিশ বছরের আক্ষেপ ঘুচাতে পারবে কি উইন্ডিজ

স্পোর্টস ডেস্ক:

প্রকাশিত হয়েছে: জুলাই ১৫, ২০২০ , ৮:৫৩ অপরাহ্ণ

এই ২০২০ সালের ৩ ম্যাচ টেস্ট সিরিজের আগে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তাদের মাটিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজ কোনো সিরিজের প্রথম ম্যাচে কবে জয় পেয়েছিল হয়তো অনেকের মনে নেই। মনে না থাকারই কথা। কারণ ওয়েস্ট ইন্ডিজ ইংল্যান্ডের মাটিতে কোনো টেস্ট সিরিজের প্রথম ম্যাচে জয় পেয়েছিল ২০০০ সালে। আজ থেকে ২০ বছর আগে। তবে ২ ম্যাচের সেই সিরিজটি জিততে পারেনি ওয়েস্ট ইন্ডিজ। কারণ পরের ম্যাচটিই জিতে নিয়েছিল ইংল্যান্ড। ফলে ১-১ ব্যবধানে ড্র হয়েছিল সিরিজটি। এর মাঝে ২০ বছর কেটে গেলেও ওয়েস্ট ইন্ডিজ আর প্রথম ম্যাচ জিততে পারেনি। এমনকি অবিশ্বাস্যভাবে এই ২০ বছরে তো দূরে থাক গত ৩২ বছরে ইংল্যান্ডের মাটিতে কোনো টেস্ট সিরিজ জিততে পারেনি এক সময়ের ক্রিকেট বিশ্বের প্রতাপশালী ক্যারিবিয়ানরা। তবে ২০ বছর পর অবশেষে ইংল্যান্ডের মাটিতে সিরিজের প্রথম ম্যাচে জয় পেয়ে ৩ ম্যাচের টেস্ট সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। তাই এবারের প্রশ্ন এবার কি পারবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৩২ বছর ধরে সিরিজ না জয়ের আক্ষেপ ঘুচাতে?। আজ সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে খেলতে নামবে দুদল। ম্যানচেস্টারের বিখ্যাত ওল্ড ট্রাফোর্ড মাঠে প্রথম ম্যাচের মতো এটিও দর্শক ছাড়াই অনুষ্ঠিত হবে।

প্রথম ম্যাচটিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজ যেভাবে খেলেছে তাতে করে বলা যায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ এবার সিরিজের শিরোপা নিয়েই হয়তো বাড়ি ফিরবে। তবে সিরিজের প্রথম ম্যাচটিতে ছিলেন না ইংলিশদের অন্যতম নির্ভরযোগ্য ব্যাটসম্যান ও নিয়মিত অধিনায়ক জো রুট। তিনি আজকের ম্যাচটিতে খেলতে নামবেন। শোনা যাচ্ছে জো ডেনলির জায়গায় তিনি খেলবেন। এটি ইংলিশদের বাড়তি শক্তি দেবে তা বলতেই হয়। তাছাড়া প্রথম ম্যাচটিতে পরীক্ষিত বোলার স্টুয়ার্ট ব্রডকে একাদশে রাখেনি ইংল্যান্ড। এই ম্যাচটিতে তিনি নামতে পারেন। যদিও বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, স্টুয়ার্ট ব্রডকে দ্বিতীয় ম্যাচে খেলার ব্যাপারে নিশ্চয়তা দেয়া হয়নি। কারণ ইংল্যান্ড দল চাচ্ছে ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে অন্য পেসারদের পরখ করে দেখবে। অন্যদিকে ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলে কোনো পরিবর্তন দেখা নাও যেতে পারে। কারণ এই দল নিয়েই যেহেতু প্রথম ম্যাচটি ৪ উইকেটে জিতে নিয়েছে, এতে হয়তো তারা উইনিং কম্বিনেশন ভাঙবে না।

এদিকে ইংল্যান্ড তাদের শেষ ১০টি টেস্ট সিরিজের ৮টিতেই প্রথম ম্যাচে হেরেছে। ইংল্যান্ডের অবশ্য প্রথম ম্যাচে হেরেও দারুণভাবে তাদের ঘুরে দাঁড়ানোর রেকর্ড আছে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে খেলার আগে গত ডিসেম্বর-জানুয়ারি মাসে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ৪ ম্যাচ সিরিজের প্রথমটিতে হেরেও পরের ৩টি ম্যাচে টানা জয় তুলে নিয়ে সিরিজ জিতে নিয়েছিল ইংল্যান্ড। তবে এটা সত্য যে, দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজে ৪টি ম্যাচ থাকায় ঘুরে দাঁড়ানোর মতো মানসিকতা ছিল। কারণ তারা জানতো যে, যদি সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচটিতেও হারে তাতেও সিরিজ হাতছাড়া হয়ে যাবে না। ফলে ছিল না কোনো মানসিক চাপ। কিন্তু ওয়েস্ট ইন্ডিজের দিক দিয়ে দেখলে দেখা যায় একটা মানসিক চাপ রয়েছে। কারণ এই ম্যাচটি হারলেই তাদের সিরিজ হাতছাড়া হয়ে যাবে।

এদিকে ওয়েস্ট ইন্ডিজ যদি ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দ্বিতীয় ম্যাচটি জিতে সিরিজ জিতে নিতে পারে তাহলে পুরো উইন্ডিজ দলের খেলোয়াড়রা বাংলাদেশি টাকায় ২৫ লাখ টাকা বোনাস পাবেন। সাধারণত বোর্ডের আর্থিক সমস্যার কারণে ওয়েস্ট ইন্ডিজের খেলোয়াড়রা সিরিজ জিতলেও উইনিং বোনাস পান না। কিন্তু এবারের ব্যাপারটি আলাদা। ইংলিশরা যদি দ্বিতীয় টেস্ট জিতে ঘুরে দাঁড়ায়, তারা ম্যাচ ফি হিসেবেই পাবেন সাড়ে ছয় হাজার পাউন্ড বা ৭ লাখ টাকা। ম্যাচ ও সিরিজ জয়ের বোনাস হিসাব করলে বেন স্টোকসদের প্রত্যেকের পাওয়ার কথা আরো ১৯ হাজার ৫০০ পাউন্ড বা ২০ লাখ টাকা করে। সব মিলিয়ে সিরিজ শেষে ইংলিশদের পকেটে ঢুকবে ৩৪ লাখ ৫৮ হাজার টাকা। ইংলিশদের এত এত বোনাস শুনে দীর্ঘশ্বাসই ফেলতেই পারে ক্যারিবীয়রা। যেখানে দল পাঠানোর আগে ওয়েস্ট উইন্ডিজ ক্রিকেট বোর্ডকে স্বাগতিক ইসিবির কাছ থেকে ২৪ লাখ পাউন্ড ঋণ নিয়েছে। সেখানে ক্রিকেটারদের বড় অঙ্কের বোনাস কীভাবে দেবে তাদের ক্রিকেট বোর্ড!

এমআই