বত্রিশ বছরের আক্ষেপ ঘুচাতে পারবে কি উইন্ডিজ

আগের সংবাদ

রিজেন্ট-জেকেজির নেপথ্যদের চিহ্নিত করে সাজার দাবি

পরের সংবাদ

নমুনা সংগ্রহ বাড়াতে হবে

কাগজ প্রতিবেদক

প্রকাশিত হয়েছে: জুলাই ১৫, ২০২০ , ৮:৫৭ অপরাহ্ণ

দেশে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ পরিস্থিতি অনুসারে পরীক্ষা, শনাক্ত ও মৃত্যু সব সূচককে ছাপিয়ে বেড়েছে সুস্থতার হার। এমন খবর অবশ্যই আমাদের জন্য স্বস্তিদায়ক। তবে করোনা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ আনতে হলে আক্রান্তদের চিহ্নিত করতে হবে। আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে যারা এসেছেন তাদের বের করতে হবে। এজন্য উচিত জরুরি পরীক্ষা করে নিশ্চিত করা। দেখা যাচ্ছে, করোনা পরীক্ষায় ফি আরোপ, পরীক্ষা করতে গিয়ে মানুষের চরম হয়রানি ও অনেক বিলম্বে পরীক্ষার রিপোর্ট পাওয়া- এসব কারণে মানুষ করোনা পরীক্ষায় আগ্রহ হারাচ্ছেন। জানা গেছে, মে মাসে ৫২টি ল্যাবে যে সংখ্যক করোনার নমুনা পরীক্ষা হয়েছিল, এখন ৭৯টি ল্যাবেও প্রায় একই সংখ্যক নমুনা পরীক্ষা হচ্ছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বলছে, করোনার লক্ষণ-উপসর্গ থাকা রোগীরাই শুধু নমুনা পরীক্ষা করছেন। পরীক্ষার সংখ্যা বাড়াসমনোর প্রচেষ্টা চলছে। তবে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দিনে কমপক্ষে ২০ হাজার করোনার নমুনা পরীক্ষা করতে হবে। কিন্তু স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সেই লক্ষ্যমাত্রায় কখনই পৌঁছাতে পারেনি। তবে পরীক্ষা কমার সবচেয়ে বড় কারণ ফি নির্ধারণ করা। বর্তমানে অধিকাংশ মানুষ অর্থনৈতিক দৈন্যের মধ্যে দিনাতিপাত করছে। এমতাবস্থায় করোনা নমুনা পরীক্ষায় সরকারিভাবে ফি আরোপ অমানবিক। বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা বলে আসছে, এই ভাইরাস নিয়ন্ত্রণের প্রধান কাজ হচ্ছে পরীক্ষা। এরপরও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বাস্তবতা কেন অনুধাবন করছে না- সেটা আমাদের বোধগম্য নয়। পূর্বের সম্পাদকীয়তে আমরা বলেছিলাম, করোনা পরীক্ষার ফি নির্ধারণে দরিদ্র মানুষ পরীক্ষার সুযোগ কম নেবে। এতে সংক্রমণ ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এই দুঃসময়ে দেশের বহু মানুষ কর্মহীন। জীবন-জীবিকা কঠিন হয়ে যাওয়ায় বড় শহর থেকে মানুষ গ্রামে ফেরত যাচ্ছে। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, ৪৩ শতাংশ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে বাস করছে। তিন বেলা আহারে যাদের কষ্ট হচ্ছে সেখানে টাকা দিয়ে পরীক্ষা করানোকে তারা কতটা গুরুত্ব দেবে। এছাড়া রয়েছে নমুনা সংগ্রহে নানা ধরনের বিশৃঙ্খলা। যেসব হাসপাতাল বা বুথে পরীক্ষা করা হচ্ছে সেখানকার পরিবেশ নিয়েও রয়েছে নানা প্রশ্ন। কোথাও গাদাগাদি করে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে ঘণ্টার পর ঘণ্টা। আবার কোথাও একই ঘরের মধ্যে নমুনা পরীক্ষা করতে যাওয়া সবাইকে বসিয়ে রাখা হচ্ছে। সংক্রমণের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা যখন অব্যাহত রয়েছে, তখন পেছন ফিরে তাকিয়ে দেখা উচিত, আমরা কোন কোন ক্ষেত্রে কী কী ভুল করছি, সীমাবদ্ধতাগুলো কী ছিল। পৃথিবীজুড়ে চেষ্টা চলছে এই মহামারি মোকাবিলার জন্য। সবাই দিনে দিনে উন্নতি করছে। আমরা কেন পিছিয়ে পড়ছি? এই মহাদুর্যোগের সময় রাষ্ট্রকে তার নাগরিকের পাশে দাঁড়াতে হবে, প্রান্তিক মানুষকে সুরক্ষা দেয়ার ব্যবস্থা করতে হবে।

এসআর