জানিয়ে দেয়া হলো প্রিমিয়ার লিগের দলবদলের সময়

আগের সংবাদ

গভর্নর হিসেবে পুনঃনিয়োগ পেলেন ফজলে কবির

পরের সংবাদ

এ কেমন ধর্মান্ধতা?

কবর থেকে শিশুর লাশ উত্তোলন!

আবু আফিয়া আহমদ

প্রকাশিত হয়েছে: জুলাই ১৫, ২০২০ , ৮:০৪ অপরাহ্ণ

যারা ধর্মের নামে অধর্ম করে সমাজ ও দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে তাদের বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। আহমদী-অআহমদী, আস্তিক-নাস্তিক, বিধর্মী সবাই এদেশের নাগরিক, রাষ্ট্রকে সবার মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। শিশুর লাশের অবমাননার বিষয়টি প্রশাসন ও সরকারের পক্ষ থেকে ঔদাসীন্য প্রকাশ করার কোনো সুযোগ আছে বলে মনে হয় না। আমরা চাই এই ন্যক্কারজনক ঘটনার সঙ্গে যারা জড়িত তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করে বাংলাদেশ যে একটি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ তার দৃষ্টান্ত তুলে ধরা।

আহমদিয়া মুসলিম জামাত সদস্যের এক শিশুর লাশ স্থানীয় সরকারি কবরস্থানে দাফন করার পর কবর থেকে লাশ উত্তোলন করে রাস্তায় ফেলে দেয়ার সংবাদটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অবহিত হলে খুবই অবাক হই। ভেবে ক‚ল পাই না, একটি নিষ্পাপ শিশুর লাশ কবর থেকে উত্তোলন করার মতো জঘন্য একটি কাজ কীভাবে সম্ভব হয়?
মানুষের কি এতই অধঃপতন হয়েছে যে, লাশের সম্মান করাও ভুলে গেছে। ৯ জুলাই ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সদর উপজেলার সুহিলপুর ইউনিয়নের ঘাটুরা গ্রামে এ হৃদয়বিদারক ঘটনাটি ঘটে।
জানা যায়, মৃত্যুবরণকারী শিশুটি আহমদিয়া জামাতের সদস্য মোহাম্মদ সাইকুল ইসলামের কন্যা। শিশুটির বয়স মাত্র ৩ দিন। সকাল ৮টার দিকে ঘাটুরা সরকারি কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। লাশ দাফন করার পরপরই গ্রামে এক শ্রেণির বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারী সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী মাইকিং করে উত্তেজনা ছড়িয়ে দেয় এবং আহমদিয়া শিশুর লাশ কবর থেকে তুলে ফেলে দেয়। আহমদী বিরোধীদের অভিযোগ হলো আহমদী মুসলিম সম্প্রদায়ের লোকেরা কাদিয়ানি। তারা মুসলমান নয়। তাই সরকারি গোরস্তানে আহমদীদের মৃত লাশ কবর দিতে দেয়া হবে না। এভাবে আহমদী বিরোধী উত্তেজনা ছড়িয়ে উগ্রপন্থি সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী একত্রে জড়ো হয় এবং জোরপূর্বক কবর থেকে শিশুর লাশ তুলে ফেলে দেয়। অথচ এই শিশুর অনেক আত্মীয়-স্বজনেরই কবর এই সরকারি কবরস্থানে রয়েছে।
পরবর্তী সময় সেই লাশ ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদরে আহমদিয়াদের নিজস্ব কবরস্থানে দাফন করা হয়। যদিও শত বছর ধরে আহমদিয়া মুসলিম জামাতের সদস্যরা ঘাটুরার এই সরকারি কবরস্থানে লাশ দাফন করে আসছে কিন্তু ওই ন্যক্কারজনক ঘটনায় আমরা বিস্মিত হয়েছি। ভাবতে অবাক লাগে এমন গর্হিত কাজ কি ইসলাম ও শ্রেষ্ঠ নবীর আদর্শের অন্তর্ভুক্ত? উগ্র মোল্লাদের দাবি, মৃত শিশু যেহেতু আহমদিয়া সদস্য তাই তারা মুসলমান নয়, আর যেহেতু তারা মুসলমান নয় তাই তাদের মুসলমানদের কবরস্থানে দাফন করার কোনো সুযোগ নেই। ধিক সেসব নামধারী মুসলমানকে যাদের কাছে মৃত শিশু পর্যন্ত নিরাপদ নয়। যারা ধর্মের নামে অধর্ম করে সমাজ ও দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে তাদের বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। আহমদী-অআহমদী, আস্তিক-নাস্তিক, বিধর্মী সবাই এদেশের নাগরিক, রাষ্ট্রকে সবার মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। শিশুর লাশের অবমাননার বিষয়টি প্রশাসন ও সরকারের পক্ষ থেকে ঔদাসীন্য প্রকাশ করার কোনো সুযোগ আছে বলে মনে হয় না। আমরা চাই এই ন্যক্কারজনক ঘটনার সঙ্গে যারা জড়িত তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করে বাংলাদেশ যে একটি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ তার দৃষ্টান্ত তুলে ধরা।

ঢাকা।
[email protected]

এসআর