সাহেদের দুর্নীতি: বাংলাদেশ ব্যাংকের নথি তলব

আগের সংবাদ

নন-ক্যাডার পদের আবেদন শুরু আজ

পরের সংবাদ

চট্টগ্রামে বসছে ৭টি পশুরহাট, করোনা সংক্রমণের আশঙ্কা

প্রীতম দাশ, চট্টগ্রাম অফিস :

প্রকাশিত হয়েছে: জুলাই ১৪, ২০২০ , ১০:২৭ পূর্বাহ্ণ

করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি ঠেকাতে কুরবানির পশুরহাট না বসানোর সুপারিশ অগ্রাহ্য করেই চট্টগ্রাম নগরীর ৭টি জায়গায় পশু বেচাকেনার হাট বসছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের প্রবল বিরোধিতা উপক্ষো করে বসা এই হাটগুলো জমে উঠলে করোনা সংক্রমণের মাত্রা আরো বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। এদিকে চট্টগ্রামে পশুরহাট না বসানোর জন্য জাতীয় পরামর্শক কমিটি যে সুপারিশ করেছে তা এখন পর্যন্ত পেঁৗঁছায়নি বলে দাবি করেছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) কর্মকর্তারা। এদিকে কুরবানির পশুরহাটে স্বাস্থ্যবিধি না মেনে পশু কেনাবেচা করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে জেল-জরিমানাসহ কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানিয়েছে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন। কিন্তু তা কতটুকু মানা বা বাস্তবায়িত হবে তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। এদিকে পশুরহাটে নিরাপত্তা নিশ্চিতের পাশাপাশি ব্যাপক লোক সমাগম ঠেকাতে এবং সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিতে পুলিশ কাজ করবে।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এমনিতেই মানুষের মধ্যে হাত ধোঁয়া, সামাজিক দূরত্ব মেনে চলা বা মাস্ক পরার মতো বিষয়ে উদাসীনতা রয়েছে। তাই পশুরহাটে কোনোভাবেই করোনা প্রতিরোধের এই তিনটি বিষয় মেনে চলা কতটুকু সম্ভব- তা নিয়ে সন্দিহান তারা। এর মধ্যে গত ১০ জুলাই এক অনলাইন সভায় চট্টগ্রাম, ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুরে পশুরহাট না বসানোর সুপারিশ করে কোভিড-১৯ বিষয়ক জাতীয় পরামর্শক কারিগরি কমিটি। স্বাস্থ্য মহাপরিচালকের কাছে সুপারিশ আকারে এ পরামর্শ দেয় ওই কমিটি।

জাতীয় পরামর্শক কমিটির সুপারিশ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে চসিকের প্রধান নির্বাহী মোহাম্মদ সমসুদ্দোহা ভোরের কাগজকে বলেন, আমাদের কাছে এধরনের কোনো নির্দেশনা আসেনি। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সবসময় কথা হচ্ছে, সেখান থেকে বেশি পরিমাণে পশুরহাট বসানোর জন্য বলা হচ্ছে। কেননা, যত বেশি পশুরহাট হবে, হাটে মানুষের সমাগম কম হবে। কিন্তু খালি জায়গা না থাকায় বেশি হাট বসানো যাচ্ছে না। চসিকের এই কর্মকর্তা বলেন, চট্টগ্রাম নগরীতে কুরবানি উপলক্ষে মোট ৭টি পশুরহাট বসবে। নগর পুলিশের আপত্তি থাকায় ৩টি হাট বাদ দেয়া হয়েছে। হাটগুলো কুরবানি ঈদের আগের ১০ দিন বসবে। বাজারে প্রবেশ ও বের হওয়ার জন্য আলাদা আলাদা পথ থাকবে। ক্রেতা-বিক্রেতা সবাইকে অবশ্যই মাস্ক পরতে হবে। পরিবারের বয়স্ক এবং শিশুদের বাজারে প্রবেশাধিকার থাকবে না। স্বাস্থ্যবিধি কেউ অমান্য করলে তার বিরুদ্ধে চসিক পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালত ব্যবস্থা নেবে। নগরীর তিনটি স্থায়ী পশুরহাট সাগরিকা গরুর বাজার, পোস্তারপাড় ছাগলের বাজার ও বিবিরহাট গরু বাজার। এর বাইরে বসানো হবে ৪টি অস্থায়ী হাট। এগুলো হলো কর্ণফুলী পশুরহাট, কমল মহাজনহাট গরুর বাজার, সল্টগোলা গরুর বাজার ও পতেঙ্গা বাটার ফ্লাই পার্কের দক্ষিণে টিকে গ্রুপের খালি মাঠ।

কুরবানির পশুরহাটে স্বাস্থ্যবিধি না মেনে পশু কেনাবেচা করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে জেল জরিমানাসহ কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। চট্টগ্রামের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ড. বদিউল আলম বলেন, ভিড় কমাতে পশুরহাটে একটি পশু কিনতে দুইজনের বেশি আসতে পারবেন না। তিনি বলেন, নগরের সব পশুরহাটে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হবে। কোথাও অনিয়ম বা স্বাস্থ্যবিধি না মানার প্রমাণ পেলে দায়ীদের জেল-জরিমানা করা হবে।

নগর পুলিশ জানিয়েছে কুরবানির পশুরহাটে নিরাপত্তার পাশাপাশি সামাজিক দূরত্ব যাতে বজায় থাকে তা নিয়ে তারা কাজ করবে। নিয়মিত জীবাণুনাশক স্প্রে ও সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে ইজারাদারকে নির্দেশনা দেয়া হবে। হাটে আগত ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়কে মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক করা হবে।

ডিসি