করোনাকালের আর্থসামাজিক পরিবেশ পরিস্থিতি

আগের সংবাদ

নিবন্ধিত হজযাত্রীদের জন্য মন্ত্রণালয়ের জরুরি নির্দেশনা

পরের সংবাদ

শ্রমবাজার সংকট কূটনৈতিক প্রচেষ্টা জোরদার করতে হবে

সম্পাদকীয়

প্রকাশিত হয়েছে: জুলাই ১২, ২০২০ , ৯:১২ অপরাহ্ণ

করোনা পরিস্থিতি-উত্তর বড় ধরনের সংকট ও আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে যাচ্ছে দেশের শ্রমবাজার। মালয়েশিয়া, সৌদি আরব, কুয়েত, ইতালিসহ কয়েকটি দেশ থেকে প্রবাসী শ্রমিকরা দেশে ফেরত আসছে। এমতাবস্থায় বিদেশে শ্রমবাজার সঙ্কুচিত হয়ে আসছে। এমন পরিস্থিতিতে দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখার বিষয়ে সরকারের উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা বাড়বে এটাই স্বাভাবিক। আমরা মনে করি প্রবাসী শ্রমিকদের বিষয়ে সরকারের যথাযথ কর্মসূচি থাকা আবশ্যক; বিশেষ করে নতুন শ্রমবাজার তৈরিতে সরকারকে দৃষ্টি দিতে হবে। মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম দেশ সৌদি আরব, কুয়েত, কাতার ও ইউএই (দুবাই-আবুধাবি) থেকে কমপক্ষে ১৫ লাখ বাংলাদেশি শ্রমিককে ফেরত পাঠানোর শঙ্কা প্রকাশ করছেন দেশগুলোতে থাকা বাংলাদেশ দূতাবাস, প্রবাসী বাংলাদেশি ও অভিবাসন বিশ্লেষকরা। অন্যদিকে কুয়েত সরকার দেশে অভিবাসীদের সংখ্যা কমিয়ে আনতে একটি প্রবাসী কোটা বিল প্রণয়ন করেছে। বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ওই খসড়া আইনে বাংলাদেশি অভিবাসী শ্রমিকদের জন্য মাত্র ৩ ভাগ কোটা প্রস্তাব করা হয়েছে। এই আইন পাস হলে দেশটিতে অবস্থানরত আড়াই লাখের বেশি অভিবাসীকে দেশে ফেরত আসতে হতে পারে। দিন দিন তেলের দাম কমে যাওয়ার কারণে আগামী ৩ থেকে ৫ বছরের মধ্যে সৌদি আরব থেকে ১০ লাখের মতো বাংলাদেশি শ্রমিককে ফেরত যেতে হতে পারে। সৌদি সরকার ৭০ শতাংশ বিদেশি অভিবাসীকে ফেরত পাঠিয়ে সেখানে দেশের নাগরিকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির নীতি গ্রহণ করেছে। দেশটিতে বর্তমানে ২২ লাখ প্রবাসী বাংলাদেশি রয়েছেন। বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শ্রমবাজার সৌদি আরব। জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) তথ্য অনুযায়ী, গত বছরও দেশ থেকে সবচেয়ে বেশি কর্মী গিয়েছিলেন সৌদি আরবে, প্রায় ৫৭ শতাংশ। তালিকার দ্বিতীয় ও তৃতীয় অবস্থানের দেশগুলোও মধ্যপ্রাচ্যের। দেশ দুটি হলো যথাক্রমে ওমান (১০.৩৮ শতাংশ) ও কাতার (৭.১৮ শতাংশ)। বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের অন্যতম ক্ষেত্র হলো রেমিট্যান্স। জনশক্তি রপ্তানি এ ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা পালন করছে। শ্রমিক সংকট উত্তরণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত বুধবার বিশ্বনেতাদের একটি ফোরামে কিছু প্রস্তাব দিয়েছেন। এই সংকটের সময় বিদেশের বাজারে অভিবাসী শ্রমিকদের চাকরি বহাল রাখা; যদি অব্যাহতি দিতেই হয় তবে শ্রমিকদের সুরক্ষা এবং স্বাস্থ্য সুবিধাসহ ক্ষতিপূরণ এবং বরখাস্ত সংক্রান্ত অন্যান্য সুবিধা নিশ্চিত করা; মহামারির পরে অর্থনীতিকে সক্রিয় করতে এই কর্মীদের পুনরায় নিয়োগ দিতে প্রস্তাব রাখেন তিনি। চলমান করোনা সংকটে শ্রমিক সমস্যাগুলো উত্তরণে প্রধানমন্ত্রীর প্রস্তাবগুলো অত্যন্ত সময়োপযোগী। প্রধানমন্ত্রীর উপস্থাপিত প্রস্তাবগুলো সংশ্লিষ্ট দেশ বিবেচনায় নিলে সংকট অনেকটা দূর হবে। আশার কথা, জাপানে নতুন বাজার সৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। জাপানের পাশাপাশি অন্যান্য দেশও খুঁজে যথাযথভাবে কাজে লাগাতে হবে। ২০১৮ সাল থেকে আফ্রিকার দেশ সোমালিয়া, সুদান, উগান্ডা এবং জাম্বিয়া বাংলাদেশকে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির প্রস্তাব দিয়ে আসছে। সেসব প্রস্তাব অনুযায়ী বাংলাদেশের শিল্পোদ্যোক্তা ও বিনিয়োগকারীরা দেশগুলোতে সহজ শর্তে কৃষি, কৃষিভিত্তিক শিল্পপণ্য, কৃষিজ খাদ্যশিল্প এবং তৈরি পোশাক খাতে বিনিয়োগে মনোযোগ দিতে পারে। এসব দেশে আমাদের বড় কর্মসংস্থানের বাজার তৈরির সুযোগ হতে পারে। এজন্য জোরালো কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে।

এমআই