নিবন্ধিত হজযাত্রীদের জন্য মন্ত্রণালয়ের জরুরি নির্দেশনা

আগের সংবাদ

‘টকশোর’ ভূয়া চিকিৎসককে জেল-জরিমানা

পরের সংবাদ

নিয়োগে সাবধান, দুর্ধর্ষ চুরির এক বছর পর গৃহকর্মী গ্রেপ্তার

আজিজুর রহমমান জিদনী

প্রকাশিত হয়েছে: জুলাই ১২, ২০২০ , ১০:০৭ অপরাহ্ণ

বাসায় ফিরে চিকিৎসক গৃহকর্তী দেখতে পান দরজা খোলা। একটি কক্ষে তার দুধের শিশু পড়ে আছে। অন্য কক্ষে ৬ বছর বয়সী ছেলে আধচেতন অবস্থায় গামছা দিয়ে বাধা। আলমারী এলামেলো, নেই স্বর্ণের গয়না। বুঝতে বাকি থাকে না তার। পরে ছেলে স্বাভাবিক হলে জানায়, বোনের কান্নার শব্দ শুনতে পেলেও বাধা অবস্থায় থাকায় যেতে পারেনি সে।

পুলিশের শরনাপন্ন হয়ে চিকিৎসক জানান, কাজে ঢোকার কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে শিশু এক সন্তানকে ঘরে বেধে ২০ ভরি স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে পালিয়ে গেছেন গৃহকর্মী। অল্পের জন্য বিশাল ক্ষতির থেকে উদ্ধার পেয়েছে তার সন্তান। তবে বিপত্তি বাধে ওই চিকিৎসক যখন জানান গৃহকর্মীর কোনো তথ্য বা ছবিই তার কাছে নেই। তাই মামলা হলেও এক বছর লেগে যায় ওই গৃহকর্মীকে গ্রেপ্তার করতে। একবছর পর গৃহকর্মী আমিনাকে গ্রেপ্তারের বিষয়ে আজ রবিবার ভোরের কাগজের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে এসব তথ্য জানান লালবাগ গোয়েন্দা বিভাগের কোতোয়ালি জোনাল টিমের এডিসি মো. সাইফুর রহমান আজাদ।

তিনি বলেন, দুই সন্তানের জননী চিকিৎসক বিচিত্রা রানী দে পুরান ঢাকার নাজিরা বাজারের বাসিন্দা। ৩৩ম বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে কাজ করছিলেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে। কাজ ও সংসার দুই মিলিয়ে হাপিয়ে উঠছিলেন এ চিকিৎসক। হন্য হয়ে খুঁজছিলেন একজন গৃহকর্মী। এর মধ্যেই তার জন্য আশির্বাদ হয়ে আসেন কোহিনুর নামে এক ব্যক্তি। গৃহকর্মী যোগাড় করে দেয়ার কাজ করেন তিনি। গত বছরের ২৯ জুলাই আমেনা নামে একজনকে কাজের জন্য নিয়ে আসেন তিনি। গৃহকর্মী মিলেছে সন্তুষ্টিতেই পরিচয় না যাচাই করে ৫ হাজার টাকা মাসিক বেতনে কাজে নেন তিনি। নিয়োগের দিনই সকাল ৯ টার দিকে দুই সন্তান গৃহকর্মী আমেনাকে বাইরে থেকে আটেকে রেখে কাজে যান তিনি। আর দুপুরে বাসায় ফিরে দেখেন এ অবস্থা। পরে স্বামীকে নিয়ে ওইদিনই থানায় মামলা করতে এলেও গৃহকর্মীর কোনো তথ্য দিতে পারছিলেন না তিনি। এর পরেও থানা মামলা রুজু করে। একসময় মামলাটি ডিবিতে স্থানান্তরিত হয়।

তিনি আরো বলেন, মামলাটি একটি ক্লুলেস ঘটনা ছিল। কারণ, অপরাধীর নাম ছাড়া আর কোনো তথ্যই ছিল না। প্রথমে দালাল কোহিনুর আটক হলেও দীর্ঘ সময় কথিত গৃহকর্মী আমেনার খোঁজ চালিয়ে যাই আমরা। এমতাবস্থায় গত শনিবার গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে কুমিল্লা দাউদকান্দিতে অভিযান চালিয়ে আমেনাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হই। তার স্বীকারোক্তি মোতাবেক পুরান ঢাকার তাতিবাজার মেসাস ফোরস্টার জুয়েলার্সের মালিক মো. আবুল হাসেমকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার কাছেই ১ লাখ ২৮ হাজার টাকায় ২০ ভরি স্বর্ণ বিক্রি করে দেয় আমেনা। চোরাই স্বর্ণ গলিয়ে চোরাই বাজারে বিক্রি করায় তাকে আটক করা হয়।

এডিসি সাইফুর রহমান আজাদ বলেন, আমেনা একজন পেশাদার চোর। এর আগেও সে একই রকম ভাবে বিভিন্ন বাসায় কাজের বুয়া সেজে চুরি করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাকে আদালতে সোপর্দ করা হলে সে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে। তার অন্যান্য চুরি সম্পর্কে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদেও জন্য ৩ দিনের রিমান্ডও আবেদন করা হয়েছে।

এমএইচ