প্রধানমন্ত্রীর সহায়তা বঞ্চিত ৯২ ভাগ মানুষ

আগের সংবাদ

তিস্তার পানি এখনও বিপদসীমার উপরে

পরের সংবাদ

চাকরি দেয়ার নামে তরুণীদের দেহ ব্যবসায় বাধ্য করতো

কাগজ প্রতিবেদক

প্রকাশিত হয়েছে: জুলাই ১২, ২০২০ , ৮:২০ অপরাহ্ণ

মোটা অঙ্কের টাকা বেতনে প্রলোভন দেখিয়ে বাংলাদেশ থেকে অল্প বয়স্ক তরুনীদের দুবাইয়ে পাচার করে দেহ ব্যবসায় বাধ্য করতেন আজম খান (৪৫)। দেশের বিভিন্ন থানায় ১৫টি মামলা রয়েছে তার বিরুদ্ধে যার মধ্যে ছয়টিই হত্যা মামলা। গত শনিবার রাতে মানব পাচার চক্রের হোতা আজম খানসহ তিনজনকে গ্রেপ্তারের পর এসব তথ্য পেয়েছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। গ্রেপ্তারকৃত অপর দু’জন হলেন- আলামিন হোসেন ডায়মন্ড (৩৪) এবং আনোয়ার হোসেন ওরফে ময়না (৩০)।

সিআইডির অরগানাইজড ক্রাইম শাখার ডিআইজি ইমতিয়াজ আহমেদ রবিবার (১২ জুলাই) দুপুর ১২টায় রাজধানীর মালিবাগে সিআইডি কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলন এ বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, মানব পাচারকারী এই চক্রটি গত আট বছর ধরে দেশের সহস্রাধিক তরুণীকে দুবায়ে পাচার করেছে বলে প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছি। চক্রের গডফাদার আজম খানের দুবায়ে ফরচুন পারল হোটেল অ্যাণ্ড ড্যান্স ক্লাব, হোটেল রয়েল ফরচুন, হোটেল ফরচুন গ্র্যান্ড ও হোটেল সিটি টাওয়ার নামে চারটি হোটেল রয়েছে। এর মধ্যে তিনটি চার তারকা ও একটি তিন তারকা। এই সব হোটেলে বিভিন্ন পদে মাসিক ৫০ হাজার টাকা বেতনে চাকুরির কথা বলে তরুণীদের দুবাই নিয়ে যেতেন। বিনা খরচে নেয়ার সময় অগ্রিম বেতন হিসেবে ২০-৩০ হাজার টাকাও দিতেন এসব তরুণীদের।

গ্রেপ্তারকৃত অপরাধীরা।

ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, দুবাই যাওয়ার পর প্রথমে তাদের ডান্স বারে নাচতে বাধ্য করতো আজম খান। পরবর্তীতে জোর করে দেহব্যবসা করাতো। এই চক্রের বাংলাদেশে অন্তত ৫০ জন সদস্য রয়েছে যারা বিভিন্ন এলাকা থেকে তরুণীদের সংগ্রহ করতো। গ্রেপ্তার আলামিন ও এই চক্রের অন্যরা নাচের প্রশিক্ষণ দিয়ে তরুণীদের বিদেশে মোটা অঙ্কের বেতনে কাজ পাইয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখাতেন। পরে আজমের মাধ্যমে তাদের দুবাইয়ে পাঠানো হত। মাসে ৫০ হাজার টাকা বেতনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে নিয়ে গেলেও এ চক্রটি ভিকটিমদের কোনো টাকা দেয়নি।

তিনি আরো বলেন, জোরপূর্বক দেহব্যবসা করানোর অপরাধে সম্প্রতি দুবাই সরকার আজম খানকে আটক করে। সেখানে এক মাস জেল খেটে বের হওয়ার পর দুবাইয়ের বাংলাদেশ দূতাবাস আজমের পাসপোর্ট বাজেয়াপ্ত করে তাকে দেশে পাঠিয়ে দেয়। সে দেশে এসে ফের নতুন পাসপোর্ট করে অন্য কোনো দেশে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিল।

সংবাদ সম্মেলনে ইমতিয়াজ বলেন, আজমের মোবাইলে এমন অনেক ভুক্তভোগী তরুণীর কান্নাকাটি ও আহাজারির অডিও রেকর্ড পাওয়া গেছে যা খুবই মর্মস্পর্শী। আজম খানের দুই ভাই এখনো দুবাইয়ে রয়েছে। তারা তার এই অবৈধ ব্যবসার সহযোগী। পুরো বিষয়টি সিআইডি তদন্ত করছে। চক্রের অন্যান্য সদস্যদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

তিনি বলেন, রাজধানীর লালবাগ থানায় গত ২ জুলাই সিআইডি বাদী হয়ে একটি মামলা করেছে। মামলায় আজমকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে। দেশের বিভিন্ন থানায় আজম খানের বিরুদ্ধে ছয়টি হত্যা মামলাসহ ১৫টি মামলা রয়েছে।

দুতাবাসে পাসপোর্ট বাজেয়াপ্ত হয়ে দেশে এসে কীভাবে আজম খান ঘুরে বেড়ালেন ও নতুন পাসপোর্ট করলেন- সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নে ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, দুবাইয়ের দূতাবাস থেকে প্রথমে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আজম খানের পাসপোর্ট বাজেয়াপ্ত করে দেশে পাঠানোর বিষয়টি জানানো হয়নি। পরবর্তীতে জানানো হলে তাকে অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করা হয়।

এমএইচ