জোরেশোরে চলছে ৩৫ কোটি পাঠ্যবই ছাপানোর কাজ

আগের সংবাদ

কোভিড বর্জ্য বাড়াচ্ছে সংক্রমণের ঝুঁকি

পরের সংবাদ

কর্মী ছাঁটাই নিয়ে এবি ব্যাংকে অস্থিরতা

কাগজ প্রতিবেদক

প্রকাশিত হয়েছে: জুলাই ১২, ২০২০ , ১১:৩৫ পূর্বাহ্ণ

করোনার কারণে চলমান সংকটে ব্যাংকটি আর অতিরিক্ত খরচ বহন করতে পারছে না। তাই ভবিষ্যতে ব্যাংকটি টিকিয়ে রাখার জন্য কর্মী ছাঁটাইয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশের প্রথম বেসরকারি ব্যাংক। এতে কর্মীদের মধ্যে চলছে এক ধরনের অস্থিরতা। ব্যাংকটি তাদের শতাধিক কর্মকর্তাকে ইতোমধ্যেই চাকরিচ্যুত করেছে বলে জানা গেছে। রোববার (১২ জুলাই) এটি কার্যকর করা হবে। সকাল ১১টা থেকে মিটিং শুরু হয়েছে। মিটিংয়ে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

জানা গেছে, চাকরিচ্যুত কর্মকর্তাদের তালিকা করে এক অফিস নির্দেশনা জারি করে এবি ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। যা আজ থেকে কার্যকর হবে। চাকরিচ্যুত বিষয়ে অফিস নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যাদের চাকরিচ্যুত করা হয়েছে, তাদের সব বকেয়া এবং পাওনা পরিশোধ করা হবে। এবি ব্যাংকের নিয়ম অনুযায়ী, তাদের তিন মাসের মূল বেতন পরিশোধ করা হবে। সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কোনো আইনি ব্যবস্থা নিলে তার জন্য নিজেই দায়ী থাকবেন তিনি।

করোনার কারণে চলমান সংকটে ব্যাংকটি আর অতিরিক্ত খরচ বহন করতে পারছে না। তাই ভবিষ্যতে ব্যাংকটি টিকিয়ে রাখার জন্যই এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। করোনার ক্ষতির প্রভাব কাটাতে কিছু ব্যাংক কর্মীদের বেতন কমানোর ঘোষণা দিলেও প্রথম ছাঁটাই প্রক্রিয়া শুরু করল এবি ব্যাংক। এর আগে করোনার আর্থিক ক্ষতি পুষিয়ে নিতে ব্যাংকটি গত মে ও জুন মাসের বেতন ৫ শতাংশ কমায় ব্যাংকটি।

ইচ্ছাকৃত খেলাপিদের ছাড় দিবে না বলে ঘোষণা দিয়েছে দেশের প্রথম বেসরকারি ব্যাংক ‘আরব বাংলাদেশ ব্যাংক লিমিটেড (এবি ব্যাংক)। গত দুই বছরে ১ হাজার ২৭৫ কোটি টাকার খেলাপি ঋণ আদায়ে ১১৪টি মামলা দায়ের করেছে ব্যাংকটি। এসব মামলার বেশির ভাগই করা হয় চেক ডিজঅনার এবং অর্থঋণ আদালতে। বন্ধকি সম্পতি নিলামে তোলার ঘটনাও রয়েছে। অর্থাৎ ইচ্ছাকৃত খেলাপিদের বিরূদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করা হয়েছে।

এবি ব্যাংকের প্রেসিডেন্ট ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) তারিক আফজাল বলেন, হাতেগোনা কিছু ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপি আছেন। যারা ব্যাংকের খারাপ অবস্থার জন্য দায়ী। তারা পারিবারিক জীবনে সব ধরনের ভোগ-বিলাসে মত্ত থাকেন কিন্তু ব্যাংক থেকে টাকা নিয়ে তা আর ফেরত দেন না। এদের কাউকে ছাড় দেয়া হবে না।

ব্যাংক সূত্র জানায়, ২০১৮ সালের শেষে এবি ব্যাংকের খেলাপি ঋণ ছিল ৩৩ দশমিক ০৭ শতাংশ। ২০১৯ সালের শেষে তা কমে দাঁড়িয়েছে ১৮ দশমিক ২৮ শতাংশে। অর্থাৎ এক বছরে খেলাপি ঋণ কমেছে ১৪ দশমিক ৭৯ শতাংশ। এ সময় ব্যাংকের পরিচালন মুনাফা হয়েছে ৬৪৫ কোটি টাকা, যা আগের বছরের চেয়ে ৩০৮ কোটি টাকা বেশি। অর্থাৎ আগের বছরের তুলনায় শত ভাগেরও বেশি। ২০১৯ সালে সাময়িক বিরূপ পরিস্থিতিতেও আমানতকারীরা ব্যাংকের প্রতি আস্থা রেখেছেন। যে কারণে ২০১৯ শেষে আমানতের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়ায় ২৭ হাজার ৯৪৬ কোটি টাকায়। ২০১৮ সালে এর পরিমাণ ছিল ২৩ হাজার ৫৪৪ কোটি টাকা।

এসআর