বিদেশগামীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা গুরুত্ব পায়নি শাহজালালে

আগের সংবাদ

মশলার বাজারে কোরবানির ঝাঁঝ

পরের সংবাদ

জাঁনাজা শেষে বনানী কবরস্থানে দাফন আজ

সাহারা খাতুনের সংগ্রামী পথচলার অবসান

কাগজ প্রতিবেদক

প্রকাশিত হয়েছে: জুলাই ১১, ২০২০ , ৯:৪১ পূর্বাহ্ণ

ত্যাগ-সংগ্রাম-লড়াই-আন্দোলন আর নির্লোভ রাজনীতির কঠিন অগ্নিপরীক্ষায় বিজয়ের সম্মান তাকে পরিণত করেছে কিংবদন্তিতে। দল ও দেশের জন্য নিজেকে ‘শতভাগ উৎসর্গ’ করেছিলেন তিনি। উত্থান-পতনের রাজনীতিতে তিনি ছিলেন দলের দুর্দিনের কর্মী। রাজপথের লড়াকু সৈনিক। একদিকে কাঁটা বিছানো রাজপথের আন্দোলন অন্যদিকে দলীয় নেতাকর্মীদের আইনি সহায়তা। তামাটে বর্ণের একহারা গড়নের দেহে সাদার ওপর কালো প্রিন্টের শাড়ি আর কালো কোটটি দাপিয়ে বেড়িয়েছে রাজপথ, কারাগার, জাতীয় সংসদ। দেশের প্রথম নারী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে তৈরি করেছেন নতুন ইতিহাস। সব ইতিহাস পেছনে ফেলে আজ শনিবার সকাল ১১টায় জানাজা শেষে বনানী কবরস্থানে তার দাফন সম্পন্ন হবে। তিনি আওয়ামী লীগের ত্যাগী, সংগ্রামী, রাজপথের নেত্রী ও ঢাকা-১৮ আসনের সাংসদ এডভোকেট সাহারা খাতুন। গত বৃহস্পতিবার রাত ১২টা ২৬ মিনিটে (বাংলাদেশ সময় রাত ১১টা ২৫ মিনিট) থাইল্যান্ডের বামুনগ্রাদ হাসপাতালে নিভে যায় তার জীবনপ্রদীপ। থেমে যায় ৭৭ বছরের সংগ্রামী পথচলা। গতকাল

শুক্রবার রাত বারটার দিকে ইউএস বাংলার একটি বিমান তার মরদেহ দেশে নিয়ে আসে। ভোরের কাগজকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন তার পিএস মুজিবুর রহমান।
রাজপথ থেকে জাতীয় সংসদ : দেশের প্রতিটি আন্দোলন-সংগ্রামে রাজপথই ছিল তার ঠিকানা। জন্ম ১৯৪৩ সালের পয়লা মার্চ, রাজধানী ঢাকার কুর্মিটোলায়। বাবা আব্দুল আজিজ ও মা টুরজান নেসা। সিদ্ধেশ্বরী গার্লস হাইস্কুল থেকে ১৯৬০ সালে ম্যাট্রিকুলেশন, সিটি নাইট কলেজ থেকে ইন্টারমিডিয়েট পাস করেন। করাচি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি বিভাগে বিএ (ডিগ্রি) অর্জন করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে ভর্তি হলেও রাজনীতির কারণে পরীক্ষা দিতে পারেননি। ছাত্রজীবনে রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত সাহারা খাতুন ১৯৬৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আইনের ছাত্রদের মধ্যে নির্বাচনে ছাত্রলীগের প্রার্থী হিসেবে জয়ী হন। ৬৬ সালে ৬ দফা আন্দোলনে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ৬ দফার লিফলেট বিতরণ করেন। ’৬৯ সালে আওয়ামী লীগের মহিলা শাখায় যুক্ত হন। একাত্তরের ২ মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের দিন এবং ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণের সময় সোহরাওয়ার্দী উদ্যানেও তিনি ছিলেন সামনের সারিতেই। রাজপথে আন্দোলনের জন্য তাকে কারাগারেও যেতে হয়েছে কয়েকবার। পঁচাত্তরে সপরিবারে বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ড ও জাতীয় চার নেতা হত্যাকাণ্ডের পর দলের অন্য অনেক নেতাকর্মীর সঙ্গে গ্রেপ্তার হন তিনিও। ওইসময় দীর্ঘ আড়াই বছর কারাগারে ছিলেন তিনি। পরে আবারো গ্রেপ্তার হন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে।
২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াত জোটে সময় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের নামে মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলায় আইনজীবীদের নিয়ে বিনা পারিশ্রমিকে অধিকাংশ মামলা পরিচালনা করেন। গণআদালতে যুদ্ধাপরাধীদের প্রতীকী বিচার করার জন্য প্রথমে তিনজনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের সেই মামলাতেও দাঁড়িয়েছিলেন সবার আগে।

ওয়ান-ইলেভেনের সময় আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার মুক্তির জন্য আদালত এবং রাজপথের লড়াইয়ে তার ভূমিকা ছিল অগ্রগণ্য। শেখ হাসিনার আস্থা ও বিশ্বাসী ছিলেন তিনি। ২০০৮ সালের নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে সরকার গঠনে ব্যাপক চমক দেখান বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা। পুরস্কার হিসেবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেন সাহারা খাতুনকে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হওয়ার দুই মাসের মাথায় বিডিআর বিদ্রোহের মতো ঘটনার মুখোমুখি হতে হয়েছিল তাকে। দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন ২০১২ সাল পর্যন্ত। পরে মন্ত্রণালয়ের রদবদল হলে নতুন দায়িত্ব পান ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের।
আওয়ামী লীগের এই প্রেসিডিয়াম সদস্য, বাংলাদেশ আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এবং বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। আন্তর্জাতিক মহিলা আইনজীবী সমিতি ও আন্তর্জাতিক মহিলা জোটের সদস্য ছিলেন। এছাড়া আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির আইন সম্পাদক, নগর আওয়ামী লীগের মহিলা সম্পাদক, মহিলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক, সাধারণ সম্পাদিকা, নগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতির দায়িত্বও পালন করেছেন তিনি।

সারাদেশে শোকের ছায়া : সাহারা খাতুনের মৃত্যুতে মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমেছে সারাদেশে। গভীর শোকপ্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী। শোকবার্তায় রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ বলেন, সাহারা খাতুনের মৃত্যুতে দেশ এক ত্যাগী, নিরলস রাজনীতিককে হারাল। আরেক শোকবার্তায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সৈনিক হিসেবে সাহারা খাতুন গণতন্ত্র পুনর্প্রতিষ্ঠা ও মানুষের অধিকার আদায়ের সংগ্রামে আজীবন কাজ করে গেছেন। দলের দুঃসময়ে নেতাকর্মীদের পাশে থেকে আইনিসহ সব ধরনের সাহায্য-সহযোগিতা করেছেন। তার মৃত্যুতে দেশ ও জাতি একজন দক্ষ নারীনেত্রী, সৎ জননেতাকে হারাল। আমি হারালাম এক পরীক্ষিত ও বিশ্বস্ত সহযোদ্ধাকে।

সাহার খাতুনের মৃত্যুতে শোকপ্রকাশ করেছেন সংসদ উপনেতা সাজেদা চৌধুরী, স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী, ডেপুটি স্পিকার ফজলে রাব্বী মিয়া, আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, প্রেসিডিয়াম সদস্য মতিয়া চৌধুরী, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, ড. আব্দুর রাজ্জাক, সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. আব্দুল মোমেন, মুক্তিযুদ্ধবিষয়কমন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান, তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী, স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক, খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার, শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন, বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম, পরিবেশ বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন, রেলমন্ত্রী মো. নূরুল ইসলাম সুজন, ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ইয়াফেস ওসমান, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী ইমরান আহমদ প্রমুখ।

নকি