স্বাস্থ্যমন্ত্রী-সচিব বনিবনা নেই, কাজে ঢিলেমি

আগের সংবাদ

সাহারা খাতুনের সংগ্রামী পথচলার অবসান

পরের সংবাদ

বিদেশগামীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা গুরুত্ব পায়নি শাহজালালে

রাশেদ আলী

প্রকাশিত হয়েছে: জুলাই ১১, ২০২০ , ৯:৩৩ পূর্বাহ্ণ

পাল্টাপাল্টি দায় চাপাচ্ছে বেবিচক ও স্বাস্থ্য বিভাগ

বিদেশগামী যাত্রীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষায় ঢিলেঢালা ভাব, জনবল ও যন্ত্রপাতি সংকট আর ভুয়া নেগেটিভ সনদের কারণেই শাহজালাল বিমানবন্দর দিয়ে করোনা পজেটিভ যাত্রীরাও ফ্লাইটে উঠতে পারছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। অন্য দেশের বিমানবন্দরের কড়াকড়িতে শেষ পর্যন্ত ধরা পড়ে ফেরত আসতে হচ্ছে তাদের। মাঝখান থেকে ভাবমূর্তি সংকটে পড়তে হচ্ছে দেশকে।
দীর্ঘ বিরতির পর গত ১৬ জুন থেকে সীমিত পরিসরে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট শুরু হওয়ার মাস না পেরুতেই ইউরোপ ও এশিয়ার কয়েকটি দেশ নতুন করে বাংলাদেশ থেকে বিমান চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। সবশেষ ইতালির বিমানবন্দর থেকে ফিরতে হয়েছে ১৪৭ বাংলাদেশিকে। ৫ অক্টোবর পর্যন্ত বাংলাদেশ থেকে যাত্রী পরিবহনে নিষেধাজ্ঞাও দিয়েছে দেশটি। চীনের সাময়িক নিষেধাজ্ঞার মধ্যে রয়েছে এ দেশের বিমান সংস্থা ইউএস বাংলা ও চায়না সাউদার্ন এয়ারলাইন্স। এসব কারণে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের স্বাস্থ্য পরীক্ষার বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

করোনা রোগী চিহ্নিত না হওয়ার পেছনের কারণ অনেকটাই উঠে এসেছে শাহজালালের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা শাহরিয়ার সাজ্জাদের কথায়। তিনি জানান, এতদিন আমরা বিদেশ থেকে আসা যাত্রীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করতাম। এখন বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ বিদেশগামী যাত্রীদেরও স্বাস্থ্য পরীক্ষার কথা বলছে। এ কারণে জনবল ও অবকাঠামো নিশ্চিত করতে আমরা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে জানিয়েছি।
ডা. শাহরিয়ার সাজ্জাদ বলেন, বিমানবন্দরে করোনা আক্রান্ত ব্যক্তিকে শনাক্ত করা খুবই চ্যালেঞ্জিং। কারণ বিমানবন্দরে তো পিসিআর ল্যাব নেই যে, রক্ষ পরীক্ষা করে কিছুক্ষণের মধ্যে ফলাফল জানা যাবে। আবার শরীরে জীবাণু প্রবেশের ৪-৫ দিন পর্যন্ত রিপোর্ট নেগেটিভ আসতে পারে। তাছাড়া কেউ করোনার নেগেটিভ সার্টিফিকেট নিয়ে এলে সেটিও যাচাই করার ব্যবস্থা নেই আমাদের।
তবে এটি বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের দুর্বলতা বা ত্রুটি নয় জানিয়ে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) সদস্য (পরিচালনা ও পরিকল্পনা) মো. খালিদ হোসেন জানান, আসলে প্রত্যেক দেশই তাদের দেশে আসা যাত্রীদের বিষয়ে

বেশি সতর্ক থাকছে। আমরাও তাই করেছিলাম। মূলত যে দেশে ফ্লাইট যাবে, সে দেশের নিয়ম-কানুন অনুযায়ী যাত্রী বহন করে থাকে এয়ারলাইন্সগুলো। এটাই নিয়ম। একেক দেশের শর্ত একেক রকম। এখন বর্হিগামী যাত্রীদের আরো গুরুত্ব দিয়ে পরীক্ষা করতে স্বাস্থ্য বিভাগকে অনুরোধ জানিয়েছি।
তিনি বলেন, বিমানবন্দরে এলে সেভাবে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা সম্ভব কিনা সেটা এখন তারা ভালো বলতে পারবে। এটা করতে হলে তাদের লোকবল দ্বিগুণ করতে হবে, যন্ত্রপাতি বসাতে হবে। থাকতে হবে জাল সার্টিফিকেট শনাক্তের ব্যবস্থাও। তবে স্বাস্থ্য বিভাগ সেটা কবে পারবে এ নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেন তিনি। বলেন, তারা প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে না পারায় আমরা এখনো কক্সবাজার ও রাজশাহী বিমানবন্দর চালু করতে পারছি না।

হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এ এইচ এম তৌহিদ-উল আহসান জানান, এ দেশের বিমানবন্দর নিয়ে কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। যাত্রীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য বিমানবন্দরে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে পরিচালিত একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্র রয়েছে। স্বাস্থ্যকেন্দ্রের জনবল ও যন্ত্রপাতি সংকটের কারেণ এ কাজেও বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ সহায়তা করছে। বিমানবন্দরে প্রবেশের আগেই যাত্রীর শরীরের তাপমাত্রা পরীক্ষা করা হচ্ছে। ভেতরে প্রবেশের পরও একাধিকবার যাত্রীর তাপমাত্রা পরীক্ষা করা হয়। কারো উপসর্গ আছে কিনা- জানতে চাওয়া হচ্ছে। এখানে কোনো ঢিলেমি নেই।
এ নিয়ে এভিয়েশন খাতের বিশেষজ্ঞ ড. নাজমুল হাসান জানান, আগে বিদেশফেরত যাত্রীদের প্রতি মনোযোগী ছিল বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ ও স্বাস্থ্য বিভাগ। এখন কয়েকটি ঘটনায় টনক নড়েছে। লোকবল ও যন্ত্রপাতির সংকটের কথা তারাই বলছে। এছাড়া সম্প্রতি রিজেন্ট হাসপাতাল, জেকেজিসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ভুয়া সার্টিফিকেট দেয়ার বিষয়ও তো জানা গেছে। আবার বিমানবন্দর বা বিমানের ভেতরেও তো আক্রান্ত হতে পারেন কেউ। তাই বেবিচক, স্বাস্থ্য বিভাগ, এয়ারলাইন্স, এমনকি যাত্রীদেরও আরো সতর্ক হওয়ার পরামর্শ দেন ড. নাজমুল হাসান। নইলে দেশকে মূল্য দিতে হবে বলেও হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন তিনি।

নকি