মশলার বাজারে কোরবানির ঝাঁঝ

আগের সংবাদ

খাওনের পয়সা নাই, মুখোশ পামু কই

পরের সংবাদ

বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্য বাড়াতে চায় ভারত

কাগজ ডেস্ক

প্রকাশিত হয়েছে: জুলাই ১১, ২০২০ , ৯:৪৮ পূর্বাহ্ণ

ইকোনমিক টাইমসের প্রতিবেদন

 বেইজিংয়ের ফুসমন্তরে পড়ে ভুল করে বাংলাদেশ যাতে বেহাত না হয়ে যায়, সেজন্য এবার বহুমাত্রিক একটি নতুন কৌশল হাতে নিতে যাচ্ছে নয়া দিল্লি। অনেক দিনের অচলাবস্থার পর পশ্চিমবঙ্গ সীমান্তপথে বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্য-বিনিময় কার্যক্রম নতুনভাবে শুরুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে তারা। পশ্চিবঙ্গে মমতা ব্যানার্জি পরিচালিত সরকারের আপত্তি থাকা সত্ত্বেও গত সপ্তাহে এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তটি নেয় দেশটির কেন্দ্রীয় সরকার। এরপর গত বুধবার এ বিষয়ে ‘বন্ধন আরো মজবুত’ করার আহ্বান জানিয়ে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে একটি চিঠিও লেখেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শংকর।
উল্লেখ্য, মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগেই বাংলাদেশের জন্য শুল্কমুক্ত বিপুল সুবিধা ঘোষণা করেছে বেইজিং। নয়া দিল্লি যদিও ভাবছে, চীনা এই ছাড় বাংলাদেশকে ‘দ্বৈত ঘাটতি এবং ঋণের ফাঁদে’ ঠেলে দেবে। তাই ভারত চাইছে তার উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোতে বাংলাদেশি পণ্যের অবাধ চলাচল নিশ্চিত করতে। দেশটির সংবাদ মাধ্যম ইকনোমিক টাইমসের এক প্রতিবেদনে একথা বলা হয়েছে।

এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রীয় সরকারের এক শীর্ষ কর্মকর্তা ইকনোমিক টাইমসের কাছে বলেন, মূলত জোর দেয়া হচ্ছে সমুদ্রবন্দর ব্যবহার, অভ্যন্তরীণ নদীবন্দর, রেলওয়ে এবং হাইওয়ে যোগাযোগ অবকাঠামোর আধুনিকায়নের ওপর। এটি করা গেলে ভারতীয় ভূখণ্ডের ওপর দিয়ে ভুটান এবং নেপালের বাজারেও অবাধে পৌঁছে যেতে পারবে বাংলাদেশি পণ্য। পাশাপাশি, ১৯৬৫ সালের আগে দুই দেশের মধ্যে চালু থাকা রেল এবং অন্যান্য পুরনো পথগুলো পুনরুদ্ধার ও সেগুলো পুনরায় চালু করার কাজেও আগে থেকেই উদ্যোগী রয়েছে ভারত-বাংলাদেশ উভয় দেশ।
ভারতীয় বিশ্লেষকরা বলছেন, চীনা ছাড় ঘোষণার এক দশক আগেই কিন্তু বাংলাদেশের অনেকগুলো পণ্যের জন্য শুল্কছাড় ঘোষণা করেছে ভারত। এর ফলে ঢাকা এবং নয়াদিল্লির মধ্যেকার বাণিজ্য ঘাটতি কমানো সম্ভব হয়েছে। তবে বাণিজ্য-ঘাটতি পূরণ থেকে ঋণ দেয়া, সব

ক্ষেত্রেই ভারতের শর্তগুলো বেইজিংয়ের তুলনামূলক অধিক আকর্ষণীয়। অথচ শুধু এটুকু ছাড় ঘোষণা করার জন্যও বছরের পর বছর ধরে ‘মুলামুলি’ চালিয়ে গেছে বেইজিং। এই ছাড় দেশটিকে ঋণের কঠিন ফাঁদে ফেলে দিতে পারে। লাভবান হতে চাইলে বরং বাংলাদেশের উচিত দক্ষিণ এশিয়া এবং দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার বাজারগুলোর দিকে নজর রাখা।
ইকনোমিক টাইমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশের বৃহত্তম বাণিজ্য সহযোগী দেশ ভারত। গত এক দশকে সাবলীলভাবে বেড়েছে দুই দেশের মধ্যেকার বাণিজ্যপরিধি। গত অর্থবছরে বাংলাদেশে ভারতের রপ্তানি ছিল ৯২১ কোটি ডলার এবং বাংলাদেশ থেকে ভারতের আমদানি ছিল ১০৪ কোটি ডলার। অন্যদিকে বেইজিংয়ের সঙ্গে ঢাকার বাণিজ্য ঘাটতি তুলনামূলক অনেক বেশি। ওই একই অর্থবছরে বাংলাদেশে চীনের রপ্তানি ছিল ১ হাজার ৩০০ কোটি ডলারের বেশি অথচ বাংলাদেশ থেকে চীনের আমদানি ছিল মাত্র ৫৭ কোটি ডলার। এমনিতে বাংলাদেশের মোট আমদানির এক চতুর্থাংশই আসে চীন থেকে। গত দুই দশকে এই ঘাটতি ক্রমেই বেড়েছে ১৬ গুণের বেশি।

অন্যদিকে ভারতের মনোভাব এর একেবারেই উল্টো। গত আট বছরে তিনটি লাইন অব ক্রেডিটের (এলওসি) মাধ্যমে বাংলাদেশের সড়ক, রেলওয়ে, জাহাজ নির্মাণ ও বন্দর নির্মাণসহ অবকাঠামো উন্নয়নমূলক বিভিন্ন খাতে দেশটিকে আট বিলিয়ন ডলার দিয়েছে ভারত। বাংলাদেশ হচ্ছে ভারতের বৃহত্তম এলওসি গ্রহীতা দেশ। এছাড়া, আখাউড়া-আগরতলা রেল সংযোগ নির্মাণ, অভ্যন্তরীণ নৌপথ ড্রেজিং এবং ইন্দোবাংলা ফ্রেন্ডশিপ পাইপলাইন নির্মাণসহ বিভিন্ন অবকাঠামো খাতে অনেক ধরনের মঞ্জুরি সহায়তাও দিয়ে আসছে ভারত। ক্ষুদ্র উন্নয়ন প্রকল্পের মাধ্যমেও (এসডিপি) ভারতের উন্নত সহায়তা পাচ্ছে ঢাকা। শিক্ষার্থী আবাসন নির্মাণ, শিক্ষাভবন নির্মাণ, সাংস্কৃতিক কেন্দ্র ও এতিমখানা নির্মাণসহ প্রায় ৫৫টিতে এসডিপিতে তহবিল সরবরাহ করছে ভারত। আশু বাস্তবায়নের প্রক্রিয়ায় রয়েছে আরো ২৬টি এসডিপি।

নকি