লকডাউন এলাকা থেকে প্রয়োজন ছাড়া বের হচ্ছেন না কেউ

আগের সংবাদ

ঘুম থেকে উঠে দেখেন গোয়ালে মহিষ নেই

পরের সংবাদ

সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে কোভিডবর্জ্য

মেডিকেল বর্জ্য ব্যবস্থাপনা গাইডলাইন তৈরির দাবি

প্রকাশিত: জুলাই ১১, ২০২০ , ১২:৩০ অপরাহ্ণ আপডেট: জুলাই ১১, ২০২০ , ৫:০০ অপরাহ্ণ

করোনার মহামারিতে সাধারণ মেডিকেল বর্জ্যের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে কোভিড বর্জ্য। বিগত চার মাসে করোনাকালে সারা দেশে কী পরিমাণ কোভিডবর্জ্য উৎপন্ন হয়েছে তার সঠিক কোনো হিসাব নেই। সঠিক ব্যবস্থাপনার আওতায় না আনলে এই বর্জ্য করোনা ভাইরাস ছড়ানোর উৎস হয়ে উঠবে। মেডিকেল বর্জের সঙ্গে কোভিডবর্জ্য মিলে প্রাণ প্রকৃতি ও পরিবেশের বিপুল ক্ষতির কারণ হয়ে উঠছে। পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে গবেষণায় এ তথ্য এখন প্রমাণিত।

শনিবার (১১ জুলাই) সকালে ‘করোনাকালে মেডিকেল বর্জ্য ব্যবস্থাপনা’ শীর্ষক এক অনলাইন সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানানো হয়। পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন (পবা) এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে। পবা’র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. লেলিন চৌধুরী লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন। বক্তব্য দেন জনস্বাস্থ্যবিদ ও বাংলাদেশ মেডিকেল এসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি অধ্যাপক ডা. রশিদ-ই-মাহবুব, জনস্বাস্থ্যবিদ অধ্যাপক ডা. শুভাগত চৌধুরী, ডা. পঙ্কজ কান্তি সূত্রধর, পবার’ চেয়ারম্যান আবু নাসের খান, সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী আব্দুস সোবহান প্রমুখ।

লিখিত বক্তব্যে বলা হয়; কোভিড বর্জ্য মূলতঃ ‘সংক্রামক বর্জ্য’। মেডিকেল বর্জ্য ও কোভিড বর্জ্য- এ দুয়ের সমন্বয়ে মানুষের স্বাস্থ্য ও পরিবেশের স্বাস্থ্য দুটোই বিপদগ্রস্থ। কোভিডবর্জ্য দুই ধরনের। প্রথমত; কোভিড/সন্দেহভাজন কোভিড রোগীর ব্যবহৃত মাস্ক, গ্লাভস,ব্যক্তিগত সুরক্ষা সামগ্রী, হাঁচি-কাশি, কফ ইত্যাদি পরিষ্কার করার কাজে ব্যবহৃত কাপড়, টিস্যু পেপার, তোয়ালে/গামছা ইত্যাদি। দ্বিতীয়ত; কোভিড রোগীর চিকিৎসায় সরাসরি কিছু বর্জ্য তৈরি হয় যেমন- নেজাল ক্যানুলা, অক্সিজেন ক্যানুলা, ব্রিদিং ইনস্ট্রুমেন্ট, অক্সিজেন মাস্ক ইত্যাদি।

রাস্তার দুপাশে প্রতিদিন ফেলে রাখা শতশত মাস্ক গ্লাভস দেখা যায়। রাস্তার মোড়ে মোড়ে আবর্জনার গাদায় ব্যক্তিগত সুরক্ষা সামগ্রী ফেলা হয়। বাড়িতে আইসোলেশনে থাকা কোভিডবর্জ্য কীভাবে কোথায় ফেলতে হয় তা অধিকাংশ মানুষ জানেন না। তারা বেশিরভাগই রাস্তার পাশে এসব ফেলে আসে। যেসব মহল্লায় স্থানীয় উদ্যোগে বাড়ি বাড়ি গিয়ে বর্জ্য সংগ্রহ করা হয় সেখানে অন্যসব বর্জ্যের মতো কোভিডবর্জ্যকে ছেঁড়াফাটা ব্যাগে সংগ্রাহকের হাতে কোনো মতে তুলে দেয়া হয়। যেসব ল্যাবরেটরিতে নমুনা সংগ্রহ ও করোনা পরীক্ষা করা হয় তাদের অনেকেই সঠিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ধার ধারছেনা। বিশেষ করে যেসব স্থানে করোনাপূর্ব কাল থেকেই মেডিকেল বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ছিল না সেসব জায়গার অবস্থা ভয়াবহ।

এটা বিবেচনা করেই জাতিসংঘের পরিবেশ কার্যক্রম গত ১৯ জুন একটি বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ফ্যাক্টশিট প্রকাশ করেছে। সেখানে বিশ্বের দেশসমূহের জন্য একটি প্রয়োগযোগ্য গাইড লাইন প্রনয়ন করেছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা গত ২৩ এপ্রিল কোভিড-১৯ এর কারণে উদ্ভুত অবস্থায় পানি, পয়ঃনিষ্কাশন, জনপরিচ্ছন্নতা ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে একটি অন্তবর্তীকালীন নির্দেশিকা প্রকাশ করেছে। দুটো সংস্থাই তার নির্দেশিকায় মানুষের স্বাস্থ্য, সংক্রমণরোধ ও পরিবেশের দূষণরোধকে মূল ভিত্তি হিসাবে নির্ধারণ করেছে।

এই অবস্থা নিরসনে পবা বেশ কিছু সুপারিশ তুলে ধরে। সেগুলো হলো : বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও জাতিসংঘের পরিবেশ কার্যক্রমের নির্দেশনা অনুযায়ী জরুরি ভিত্তিতে একটি ‘জাতীয় মেডিকেল বর্জ্য ব্যবস্থাপনা’ গাইডলাইন তৈরি করা। এই গাইডলাইন মেনে চলতে প্রতিটি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানকে বাধ্য করা এবং জনসাধারণকেও উদ্বুদ্ধ ও বাধ্য করা। মেডিকেল বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সাথে স্থানীয় সরকার, স্বাস্থ্য অফিস ও পরিবেশ অফিস অবশ্যই যুক্ত থাকবে। উপজেলা/জেলা পর্যায়ে ‘আইনশৃংখলা রক্ষা কমিটি’ মেডিকেল বর্জ্য ব্যবস্থাপনার তত্ত্বাবধানে থাকবে।

মেডিকেল বর্জ্য নদীনালা, খালবিল, পুকুর, ডোবা, ড্রেন, রাস্তার পাশে, খোলা জায়গা ইত্যাদি স্থানে ফেলা দণ্ডনীয় অপরাধ বলে গণ্য হবে। এটি প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তি উভয় ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হবে। উপজেলা থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত মেডিকেল বর্জের জন্য ‘ডাম্পিং স্থান’ এবং ‘ইনসেনিটার বা বিজ্ঞানসম্মত চুল্লী’ স্থাপন করা জরুরি। মেডিকেল বর্জ্য বিশেষ করে এই করোনাকালে সংক্রামক কোভিড বর্জের ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে জনগণকে সচেতন করার লক্ষ্যে গণমাধ্যমকে কাজে লাগাতে হবে। এজন্য জনপ্রতিনিধি, ধর্মীয় নেতা, বিদ্যালয়ের শিক্ষক, মাঠ পর্যায়ের সকল সরকারি ও এনজিও কর্মীদের এই কাজে যুক্ত করতে হবে।

এসআর

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়