শিরোপার আরো কাছে রিয়াল

আগের সংবাদ

এন্ড্রু কিশোরকে উৎসর্গ করে ফিরলো অদিতারিয়ানস

পরের সংবাদ

সাবিনা ইয়াসমিন

কিশোরের এ মাটি, জল বাতাসের প্রতি ঋণ ছিল

প্রকাশিত: জুলাই ১১, ২০২০ , ১০:৪২ পূর্বাহ্ণ আপডেট: জুলাই ১১, ২০২০ , ১০:৪২ পূর্বাহ্ণ

কিশোর সব সময় আমাকে একটা কথা বলত, আপনার গান শুনতে গিয়ে আমি যে মার খেয়েছিলাম! তখন আমি জিজ্ঞেস করতাম, কি রকম বলো তো? তখন কিশোর বলত, আপনি যখন রাজশাহীতে গান গাইতে গিয়েছিলেন- আমি তখন গান গাইতাম না। হাজার হাজার লোক এসেছে আপনাকে দেখতে। আমিও ছিলাম। হঠাৎ তার মাঝে একটা ঢিল এসে আমার মাথায় লাগল! কিশোরের এ কথা শুনে আমি আফসোস করে জিজ্ঞেস করতাম, আহারে! আমার গান শুনতে গিয়ে এ অবস্থা হয়েছিল? তখন কিশোর বলত, হ্যাঁ আপা! এ ঘটনাটা আমি কখন ভুলতে পারব না।
কিশোরের সঙ্গে অনেক অনেক স্মৃতি। তার থেকে নির্দিষ্ট করে একটি ঘটনা বলা আসলে সম্ভব নয়। কিশোরের প্রথম ডুয়েট গান আমার সঙ্গে, আলম ভাইয়ের লেখা। তখনই পরিচয় হলো, নতুন একটা কণ্ঠ পেলাম এবং কিশোরের গান শুনে অবাক হলাম- এত সুন্দর কণ্ঠ! সিনেমার গানের জন্য একদম উপযুক্ত গলা ছিল ওর। এরপর কিশোর আমি কত যে গান গেয়েছি তার ঠিক হিসাব নেই।
হাসিখুশি একটা মানুষ ছিল। আমার প্রতি অত্যন্ত শ্রদ্ধা, ভক্তি। এমনকি আমিও অসম্ভব স্নেহ করতাম। কিশোর আমার শুধু সহকর্মী ছিল না- আমার বন্ধু, আমার ছোট ভাই। কিশোর খুবই ভোজন রসিক ছিল। তবে আমার খাওয়ার ব্যাপারে সব সময় খেয়াল রাখত। আপা এটা খান, ওটা খান করে একেবারে অস্থির। চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুর যাওয়ার পর প্রতিদিনই কিশোরের সঙ্গে আমার কথা হতো। মাঝে আমি তো একবার সিঙ্গাপুর যাই। ওর জন্য পছন্দের কিছু খাবার নিয়ে গেলাম। অসুস্থতার জন্য তেমন খেতে পারেনি। কিন্তু সেই আগের মতো, আমাকে এটা ওটা খেতে বলে দিচ্ছিল। কিশোর যাবার আগেও মমিনকে বলে গিয়েছে, আপাকে দেখে দেখে রাখিস। এরপর আমরা কয়েকজন মিলে সিঙ্গাপুরে একটা অনুষ্ঠান করি। বাংলাদেশ থেকে আমরা কয়েকজন যাই। কিশোরও ছিল। হুইল চেয়ারে করে এসে অসুস্থ শরীর নিয়েই গান গাইল। ‘জীবনের গল্প আছে বাকি অল্প’ গানটা গাইল। অসম্ভব ভালো গেয়েছে- যা আমরা কল্পনাও করতে পারিনি। হাসি-আনন্দ, কান্না সব মিলিয়ে একটি অন্য রকম পরিবেশ তৈরি হয়েছিল সে অনুষ্ঠানে।

কিশোর চলে যাবার আট/নয় দিন আগে আমাকে হঠাৎ ফোন করে বলছে, আপা! মাফ করে দিয়েন। আমি তো থমকে গেলাম এবং জিজ্ঞেস করলাম, কেন? বলল, না আপা ভুলত্রুটি হলে মাফ করে দিয়েন। আমি তারপর বললাম, বাজে কথা রাখো তো! এরপর তো দেশে চলে এলো। দেশে আসার পর আমি বললাম, আগে ঢাকাতে ডাক্তারের অবজারভেশনে থেকে তারপর না হয় রাজশাহী যেও। সে একদম পাগলের মতো রাজশাহী চলে গেল। আসলে দেশের প্রতি ভালোবাসা না থাকলে শেষ সময়ে এসে কেউ এভাবে ছুটে আসতে পারে না। কিশোরের এ মাটি, জল, বাতাসের প্রতি ঋণ ছিল- তাই সে বুঝতে পেরেছিল শেষ সময়ে তাকে এখানেই ফিরে আসতে হবে। সেজন্যই ফিরে এসেছিল দেশে। এবং শেষ নিঃশ্বাসটাও রাজশাহীর বাতাসেই মিশে গেল। আসলে এ কথাগুলো ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। আমি তো কয়েক দিন ফোন বন্ধ করে রেখেছিলাম। স্বাভাবিকভাবে নিতে পারছিলাম না। সে তো আমার ছোট ভাইয়ের মতো। কিশোরের এ শূন্যতা পূরণ করার মতো নয়। কিশোর তার গান দিয়ে কালকে জয় করে নিয়েছে। বাংলাদেশ যতদিন থাকবে, কিশোরও ততদিন থাকবে।

এসআর

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়