বর্ষায় বেড়েছে টাঙ্গা জালে মাছ শিকার

আগের সংবাদ

বন্যার পানি কমার পরই ভাঙন শুরু

পরের সংবাদ

এফডিসিতে ভবন ভেঙে হচ্ছে বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান

বিনোদন প্রতিবেদক

প্রকাশিত হয়েছে: জুলাই ১০, ২০২০ , ১:৪১ অপরাহ্ণ

পুরোনো ভবন ভেঙে চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশনে (এফডিসি) নির্মাণ হবে বহুতল কমপ্লেক্স। এ জন্য বিএফডিসি’র ৩ ও ৪ নম্বর ভবন ভাঙার কাজ চলছে। জানা যায়, ওই জায়গাতেই নির্মিত হবে ১৫ তলার একটি বাণিজ্যিক ভবন। যেখানে থাকবে ব্যাংক ও বিমা করপোরেশনসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। বিএফডিসি কর্তৃপক্ষ মনে করেন, এফডিসি’র আয় বাড়ানো ও আধুনিকায়নের অংশ হিসেবেই এমন কমপ্লেক্সের নির্মাণ দরকার। কিন্তু চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এফডিসিতে এ ধরনের বাণিজ্যিক ভবন নির্মিত হলে এফডিসি স্বকীয়তা হারাবে।
এফডিসি’র পরিচালক কে এম আইয়ুব আলী (কারিগরি ও প্রকৌশল) জানান, ৩২০ কোটি টাকা ব্যয়ে তৈরি হচ্ছে এটি। এফডিসিকে আধুনিকভাবে গড়ে তুলতে ২০১৮ সালের ৩ অক্টোবর প্রকল্পটি অনুমোদন করে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। পরিকল্পনা অনুযায়ী ১৫ তলা ভবনের বেসমেন্টের তিনটি তলায় থাকবে গাড়ি পার্কিং। বাকি ১২ তলার তিনটি তলায় আবাসিক হোটেল, দুটি তলায় বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান, ব্যাংক ও বিমা কার্যালয়, একটি তলায় চলচ্চিত্র প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের কার্যালয়, দুটি তলায় বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেলের কার্যালয়, দুটিতে থাকবে শুটিং স্পট এবং উপরের দুটি তলায় থাকবে সিনেপ্লেক্স। তিনি বলেন, ‘দু-তিনটি কারণে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো, বিল্ডিং দুটির মেয়াদ শেষ হয়ে এসেছে। যেকোনো সময় ভেঙে বা ধসে পড়ার ঝুঁকি আছে। তা ছাড়া কমপ্লেক্স নির্মাণ করে আয় বাড়ানোর উপায়ও আছে। পর্যাপ্ত সিনেমা হল নেই, ঢাকার প্রাণকেন্দ্রে সিনেপ্লেক্সও হল। শুটিং ফ্লোরও থাকছে। শুধু আয়ই একমাত্র উদ্দেশ্য নয়।’
কিন্তু যে দুটি ভবন ভাঙা হচ্ছে সেগুলোতে জড়িয়ে আছে শিল্পীদের নানা স্মৃতি। ভবন ভাঙা হচ্ছে এ বিষয়ে অবগতও নন তারা। রূপালি পর্দার গুণী অভিনেত্রী সারাহ্ বেগম কবরী এবং অভিনেতা আলমগীর ও সোহেল রানা জানান, নতুন কমপ্লেক্স নির্মাণের খবর তারা জানেন না। আলমগীর বলেন, ‘এই ধরনের বিল্ডিং ১০০ বছরের আগে ভাঙা হয়, তা আমার জানা নেই। যদি কোনো সমস্যা থাকে, সংস্কার করুক। খুব কষ্ট লাগছে। এটা যদি শুধু এফডিসির কর্মকর্তা-কর্মচারী ভাইবোনদের বেতনের নিশ্চয়তার জন্য হয়, এর চেয়ে দুঃখজনক আর কিছু নেই। চলচ্চিত্রকে ধ্বংসেরও একটা পদক্ষেপ বলা যায় এটা।’
কবরী বলেন, ‘এই এফডিসি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হাতে গড়া। এখানে লাভ-লস দুই-ই হবে। সরকারকে প্রণোদনা দিয়ে চালাতে হবে। কোনো কিছু না করা গেলে জাদুঘর করে রাখবে। এটা আমাদের এফডিসি, এফডিসিকে তার মতোই রাখতে হবে।’ এই অভিনেত্রী আরো বলেন, ‘এই ধরনের কিছু একটা যে হচ্ছে, তা আমাদের জানানো হয়নি। এখানে কোনো অবস্থায় বাণিজ্যিক ভবন নির্মাণ ঠিক হবে না। সরকার একদিকে অনুদানের মধ্য দিয়ে সিনেমা তৈরির পৃষ্ঠপোষকতা করছে, অন্যদিকে সিনেমা তৈরির কারখানায় ফ্লোর ভেঙে বাণিজ্যিক ভবন নির্মাণ করছে! বিষয়টা পরস্পর বিরোধী।’
ডিসি
বিষয়: