ময়ূর-২ লঞ্চের মালিক গ্রেপ্তার

আগের সংবাদ

ভাঙা বেড়িবাঁধ দিয়ে লোকালয়ে জোয়ারের পানি

পরের সংবাদ

মাস্ক কেলেঙ্কারি

হুমায়ুনকে জিজ্ঞাসাবাদ, হাজির হননি মিঠু

কাগজ প্রতিবেদক

প্রকাশিত হয়েছে: জুলাই ৯, ২০২০ , ১১:২০ পূর্বাহ্ণ

মাস্ক, পিপিই ও অন্যান্য স্বাস্থ্য সরঞ্জাম কেনাকাটায় দুর্নীতির অভিযোগে মেডিটেক ইমেজিং লিমিটেডের পরিচালক হুমায়ুন কবিরকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সকাল সোয়া দশটা থেকে দুদকের প্রধান কার্যালয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করছেন সংস্থাটির পরিচালক মীর মো. জয়নুল আবেদীন শিবলীর নেতৃত্বে চার সদস্যের একটি টিম।

এর আগে দুদকের তলবি নোটিশে সাড়া দিয়ে নির্ধারিত সময় সকাল ১০টার আগেই হুমায়ুন কবির দুদক কার্যালয়ে হাজির হন। একই অভিযোগে এদিন ঢাকা সেন্ট্রাল ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড হসপিটালের চেয়ারম্যান ও লেক্সিকোন মার্চেন্ডাইজ ও টেকনোক্র্যাট লিমিটেডের মালিক মো. মোতাজ্জেরুল ইসলাম মিঠুকে জিজ্ঞাসাবাদ করার কথা থাকলেও তিনি আসেননি। তবে তিনি অসুস্থতার কথা জানিয়ে তার আইনজীবীর মাধ্যমে পত্র পাঠিয়েছেন।

চিঠিতে মোতাজ্জেরুল ইসলাম মিঠু জানিয়েছেন, মাস্কসহ করোনা সুরক্ষা সামগ্রী কেনাকাটায় তার প্রতিষ্ঠান জড়িত নয়, তিনি যুক্তরাষ্ট্রে অসুস্থ হয়ে শয্যাশায়ী।

এর আগে বুধবার একই অভিযোগে জেএমআই হসপিটাল রিক্যুইজিট ম্যানুফ্যাকচারিং লিমিটেডের চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক ও তমা কনস্ট্রাকশনের সমন্বয়কারী মতিউর রহমানকে জিজ্ঞাসাবাদ করে দুদক।

এদিকে জেএমআই চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্টদের জিজ্ঞাসাবাদ প্রসঙ্গে দুদক সচিব দিলোয়ার বখত বলেছেন, সুনির্দিষ্ট অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে মাস্ক-পিপিই দুর্নীতির সঙ্গে কারা জড়িত সে বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। অনুসন্ধান পর্যায়ে সরকারি, বেসরকারি পর্যায়ে যাদের নাম আসবে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। মাস্ক দুর্নীতিতে সরকারি কোনো কর্মকর্তা জড়িত আছে কিনা তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এর আগে গত ১ জুলাই ওই পাঁচজনকে সংশ্লিষ্ট নথিপত্রসহ দুদকের প্রধান কার্যালয়ে আসতে নোটিশ পাঠিয়েছিল দুদক। এছাড়া গত ২১ জুন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও কেন্দ্রীয় ঔষধাগারের যথাক্রমে সচিব, মহাপরিচালক ও পরিচালক বরাবর পাঠানো চিঠিতে করোনাকালীন জরুরি স্বাস্থ্যসুরক্ষা সামগ্রী কেনাকাটার নথিপত্র তলব করা হয়।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম, দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে কোভিড-১৯ এর চিকিৎসার নিমিত্তে নিম্নমানের মাস্ক, পিপিই ও অন্যান্য স্বাস্থ্য সরঞ্জাম ক্রয়সহ বিভিন্ন হাসপাতালে সরবরাহের নামে অন্যান্যদের যোগসাজশে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎপূর্বক অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে। এজন্য অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য তলব করে দুদক। তলবকৃতদের রেকর্ডপত্রসহ সংস্থাটির প্রধান কার্যালয়ে হাজির হতে অনুরোধ করা হয়েছিল। এছাড়া নোটিশে স্মরণ করিয়ে দেয়া হয়, নির্ধারিত সময়ে হাজির হয়ে বক্তব্য দিতে ব্যর্থ হলে বর্ণিত অভিযোগসংক্রান্ত বিষয়ে তাদের কোনো বক্তব্য নেই বলে গণ্য হবে।

মহামারি করোনাভাইরাস প্রতিরোধে ব্যবহৃত এন-৯৫ মাস্ক ও পিপিইসহ বিভিন্ন সুরক্ষামূলক সামগ্রী ক্রয় দুর্নীতির হোতাদের ধরতে গত ১৫ জুন চার সদস্যের টিম গঠন করে দুদক। তার আগে গত ১০ জুন দুদকের প্রধান কার্যালয় থেকে এক জরুরি বৈঠকে করোনাকালে এম-৯৫ মাস্ক, পিপিইসহ বিভিন্ন সুরক্ষামূলক সামগ্রী কেনায় অনিয়ম-দুর্নীতি-প্রতারণা বা জাল জালিয়াতির অভিযোগটি অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেয় সংস্থাটি।

এনএম