শহরে কাজ নেই, গ্রামে বন্যা- কোথায় যাবে ওরা?

আগের সংবাদ

দুর্গাপুরে নিখোঁজের ৩ দিন পর বালু শ্রমিকের লাশ উদ্ধার

পরের সংবাদ

ভয়াবহ বন্যার শঙ্কা মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতি নিতে হবে

সম্পাদকীয়

প্রকাশিত হয়েছে: জুলাই ৯, ২০২০ , ৮:৫৪ অপরাহ্ণ

ভারত থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও ভারি বর্ষণে দেশের উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চল নতুন করে প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কার খবর রয়েছে। ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। ঢাকার আশপাশের নদীগুলোতেও পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। এতে রাজধানী ঢাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। বর্তমানে করোনা ভাইরাস সৃষ্ট পরিস্থিতি মোকাবিলায় আমাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। এ অবস্থায় বন্যার প্রাদুর্ভাব যে মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা হয়ে দেখা দেবে, তা বলাই বাহুল্য। এ অবস্থায় বন্যা-পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবিলায় করণীয় নিয়ে গুরুত্ব দেয়া উচিত। বাংলাদেশ ও উজানের অববাহিকায় ভারি বর্ষণ হচ্ছে এবং নদ-নদীর পানি বাড়ছে। ব্রহ্মপুত্র-যমুনায় দুই সপ্তাহ ধরে তা অব্যাহত থাকতে পারে। ধারাবাহিক পানি বাড়ার কারণে আগামী ১০ দিনে ব্রহ্মপুত্র-যমুনা অববাহিকার বিভিন্ন স্থানে পানি বিপদসীমা অতিক্রম করবে। এর ফলে কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, জামালপুর, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ, টাঙ্গাইল, মানিকগঞ্জ, পাবনা জেলার নিম্নাঞ্চলে স্বল্প থেকে মধ্যমেয়াদি বন্যা হতে পারে। এর প্রভাব পড়তে পারে ঢাকায়ও। ঢাকার আশপাশের বুড়িগঙ্গা, তুরাগ ও শীতলক্ষ্যা নদীর পানি ইতোমধ্যে বেড়েছে। দোহার ও মুন্সীগঞ্জের নিম্নাঞ্চলে বন্যার প্রভাব পড়েছে। আসন্ন বন্যায় ঢাকার নিম্নাঞ্চল ও নারায়ণগঞ্জ প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা অনেক বেশি। এখন থেমে থেমে দেশের প্রায় সর্বত্র প্রতিদিন কম-বেশি বৃষ্টিপাত হচ্ছে। এদিকে পানি বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি শুরু হয়েছে নদীভাঙন। হঠাৎ নদীর পানি বেড়ে যাওয়ায় তা নদীর কূল উপচে চরাঞ্চলের নিম্নাঞ্চলে প্রবেশ করছে। এতে ফসলি জমি তলিয়ে যাচ্ছে। পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় নদী পাড়ের মানুষের মধ্যে শঙ্কা ক্রমেই বাড়ছে। চরাঞ্চলে যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে। সেখানকার ঘরবাড়ি পানির নিচে। দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ পানি ও খাবার সংকট। ডায়রিয়াসহ পানিবাহিত রোগের লক্ষণ এখনো দেখা না গেলেও অচিরেই আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। নদী খনন ও শুষ্ক মৌসুমে পরিকল্পিতভাবে সংস্কার কাজ না করাসহ ওয়াপদা ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের গাফিলতির জন্য তাদের এমন অনাকাক্সিক্ষত দুর্ভোগ বলে মনে করছেন ক্ষতিগ্রস্তরা। বছর বছর ভেঙে যাওয়া নদীতীর রক্ষা বাঁধগুলোর সংস্কার করা কিংবা স্থায়ীভাবে বাঁধের কাজ না করায় তাদের এই চরম খেসারত দিতে হচ্ছে। দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে নদ-নদীর পানি উপচে বন্যার পদধ্বনি কেবল নয়, এমন পরিস্থিতি আমাদের জন্য দুর্ভাবনার। সামনে ভয়াবহ বন্যার যে আশঙ্কা করা হচ্ছে তা আমলে নিয়েই সরকারের এখন থেকে পরিস্থিতি মোকাবিলায় ব্যবস্থা নেয়া উচিত। বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এড়ানো আমাদের সাধ্যাধীন নয়। তবে যথাযথ প্রস্তুতি নিলে মানুষের দুর্ভোগ, ক্ষয়ক্ষতি নিশ্চয় নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। নদী ভরাট হওয়ার কারণে যেমন বেড়েছে ভাঙন, তেমনি সামান্য ঢলে দুকূল উপচে আকস্মিক বন্যা ঘটায়। নদ-নদীর নাব্য রক্ষা করে একদিকে যেমন বন্যার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব, তেমনি সম্ভব ভাঙন ঠেকানো। আমরা জানি ড্রেজিং নিয়ে সরকারের ‘মহাপরিকল্পনা’ রয়েছে। কিন্তু বাস্তবায়নের খুব বেশি অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না। বন্যার সময় বাঁধ একটা বড় আশ্রয়স্থল। যেভাবে বাঁধ ভাঙছে, তাতে সব বাঁধকে এখন নিরাপদ আশ্রয় মনে করা যাচ্ছে না। তারপর রয়েছে খাদ্য সংকট। আমরা আশা করছি, বন্যার্তদের জন্য পর্যাপ্ত খাদ্য সহায়তা দেয়ার সংস্থান করবে সরকার। বিশুদ্ধ পানি, ওষুধপত্র এবং চিকিৎসাসেবাও প্রস্তুত রাখা দরকার।

এমআই