বার্সার ঘাম ঝরিয়ে দ্বিতীয় বিভাগে এসপায়নল

আগের সংবাদ

পানি কমে বেড়েছে ভাঙন, তীব্র খাদ্যসংকটে

পরের সংবাদ

সামাজিক দূরত্ব, স্বাস্থ্যবিধি না মানলে সংক্রমণ বাড়ার আশঙ্কা

করোনায় কুরবানির পশুরহাটে জনসমাগম নিয়ে শঙ্কা

প্রীতম দাশ, চট্টগ্রাম অফিস

প্রকাশিত হয়েছে: জুলাই ৯, ২০২০ , ১০:১৪ পূর্বাহ্ণ

করোনা সংকটের সময়ে আসন্ন কুরবানির ঈদ উপলক্ষে চট্টগ্রামে বসছে পশুর হাট। চট্টগ্রাম মহানগর ও জেলায় এলাকায় প্রতি বছর দুই শতাধিক স্থানে পশুরহাট বসানো হয়। এসব পশুরহাটে চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলা ছাড়াও দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে বেপারীরা পশু নিয়ে আসেন। ব্যাপক লোকসমাগমও হয়। কিন্তু এবার করোনার কারণে কুরবানির হাটগুলোতে জনসমাগম নিয়ে শঙ্কিত স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। হাটগুলোতে জনসমাগমের পরিমাণ কমানো না গেলে এবং সামাজিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি না মানলে করোনা সংক্রমণের মাত্রা আরো বাড়ার আশঙ্কা করছেন তারা। এদিকে কুরবানির পশুরহাটে স্বাস্থ্যবিধি না মেনে পশু কেনাবেচা করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে জেল জরিমানাসহ কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানিয়েছে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন। নগরে সিটি করপোরেশনের তত্ত্বাবধানে বসা পশুরহাটগুলোতে সরকারি নির্দেশনা প্রতিপালন করতে জেলা প্রশাসন ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে নিয়মিত অভিযান পরিচালনার করবে। চট্টগ্রাম মহানগর এলাকার কুরবানির হাটগুলো তদারকি করে সিটি করপোরেশন এবং উপজেলায় হাট তদারকির দায়িত্ব উপজেলা প্রশাসনের। সংশ্লিষ্টরা এসব তথ্য জানিয়েছেন।

অন্যদিকে, পশুরহাটে নিরাপত্তা নিশ্চিতের পাশাপাশি ব্যাপক লোকসমাগম ঠেকাতে এবং সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিতে পুলিশ কাজ করবে। জনস্বাস্থ্য অধিকার রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক মুক্তিযোদ্ধা ডা. মাহফুজুর রহমান ভোরের কাগজকে বলেন, ধর্মীয় কাজে কাউকে বাধা দেয়া যাবে না। কিন্তু এ পরিস্থিতিতে মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানো জরুরি। করোনাকালে যতটুকু সম্ভব হাটে না গিয়ে কুরবানির পশু কেনা যায় কিনা তা ভেবে দেখা দরকার। হাটগুলোতে জনসমাগমের পরিমাণ কমানো না গেলে এবং সামাজিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি মানা না হলে করোনা সংক্রমণের মাত্রা আরো দ্রুত বেড়ে যাবে।
এ বিষয়ে চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. সেখ ফজলে রাব্বি বলেন, কুরবানির হাটে স্বাস্থ্যবিধি মানার বিষয়টি নিয়ে সিটি করপোরেশন এবং সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। আগামী কয়েকদিনে মধ্যে কেন্দ্রীয়ভাবে নির্দেশনা আসতে পারে। তাছাড়া সিটি করপোরেশন এলাকার বিষয়গুলো তদারকি করবে সিটি করপোরেশন স্বাস্থ্য বিভাগ।

চট্টগ্রাম মহানগর ও জেলার বিভিন্ন এলাকার কুরবানির পশুরহাটে নিরাপত্তা নিশ্চিতে কাজ করে পুলিশ। প্রতি বছর নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করলেও এবার বাড়তি যোগ হয়েছে করোনা। করোনার কারণে পশুরহাটে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করতেও কাজ করবে পুলিশ। চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) ও জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও কুরবানির পশুরহাটে নিরাপত্তা নিশ্চিতের পাশাপাশি সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিতের কৌশল নিয়ে ভাবছেন। বিষয়টি নিয়ে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা শিগগির পশুরহাটের ইজারাদারসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন। সিএমপি কমিশনার মো. মাহাবুবর রহমান বলেন, কুরবানির পশুরহাটে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ কাজ করবে। পুলিশের পক্ষ থেকে সব ধরনের প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে। নিরাপত্তার পাশাপাশি পশুরহাটে সামাজিক দূরত্ব যাতে বজায় থাকে তা নিয়ে কাজ করবে পুলিশ। কুরবানির পশুরহাটে নিয়মিত জীবাণুনাশক স্প্রে ও সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে ইজারাদারকে নির্দেশনা দেয়া হবে। জেলা পুলিশ সুপার এস এম রশিদুল হক বলেন, ক্রেতা-বিক্রেতার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জেলার প্রতিটি পশুরহাটে পুলিশ মোতায়েন থাকবে। পশুরহাটের প্রবেশমুখে জীবাণুনাশক রাখার জন্য ইজারাদারকে নির্দেশনা দেয়া হবে। এছাড়া হাটে আগত ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়কে মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক করা হবে। সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিতের পাশপাশি পশুরহাটে চাঁদাবাজি, জালনোট রোধে কঠোর থাকবে পুলিশ। নিয়মিত পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকে গোয়েন্দা পুলিশও তৎপর থাকবে।

অন্যদিকে কুরবানির পশুর হাটে স্বাস্থ্যবিধি না মেনে পশু কেনাবেচা করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে জেল জরিমানাসহ কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার ঘোষণা দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। চট্টগ্রামের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ড. বদিউল আলম বলেন, ভিড় কমাতে পশুরহাটে একটি পশু কিনতে দুইজনে বেশি আসতে পারবেন না। হাটে বেশিক্ষণ অবস্থান করা যাবে না। প্রশাসনের একার পক্ষে পশুরহাটের মতো একটি জায়গায় স্বাস্থ্যবিধি পুরোপুরি প্রতিপালন করা সম্ভব নয়। এজন্য যারা হাটে কুরবানির পশু কিনতে বা বেচতে আসবেন, তারা যেন নিজেরা স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলেন। অন্যথায় আইন প্রয়োগ করা হবে। তিনি বলেন, নগরের সব পশুরহাটে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করবে। কোথাও অনিয়ম বা স্বাস্থ্যবিধি না মানার প্রমাণ পেলে দায়ীদের জেল-জরিমানা করা হবে।

চসিকের প্রধান নির্বাহী মোহাম্মদ সামসুদ্দোহা বলেন, আমরা বেশকিছু পরিকল্পনা নিয়েছি। বাজারে প্রবেশ ও বের হওয়ার জন্য আলাদা আলাদা পথ থাকবে। হাত ধোয়ার ব্যবস্থা থাকবে। সামাজিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার ওপর জোর দেয়া হবে। ক্রেতা-বিক্রেতা সবাইকে অবশ্যই মাস্ক পরতে হবে। পরিবারের বয়স্ক এবং ছোটদের যেন বাজারে নিয়ে না যান।

চট্টগ্রাম জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, চট্টগ্রামে এবার সম্ভাব্য কুরবানির পশুর চাহিদা ধরা হয়ছে সাত লাখ ৩১ হাজার। এর বিপরীতে স্থানীয়ভাবে উৎপাদন হয়েছে ৬ লাখ ৮৯ হাজার ২২টি। এর মধ্যে গরু ৪ লাখ ৬৪ হাজার ৫৭২টি, মহিষ ৫৭ হাজার ১৩১টি, ছাগল ও ভেড়া ১ লাখ ৬৭ হাজার ২১০টি এবং অন্যান্য ১০৯টি। আর গত বছর ৭ লাখ ৩০ হাজার ৭৮৯টি পশু জবাই হয়েছিল। এর মধ্যে আশপাশের জেলা থেকে এক থেকে দেড় লাখ পশু চট্টগ্রামে আসে।

ডিসি