করোনায় শিশুসাহিত্যিক আলম তালুকদারের মৃত্যু

আগের সংবাদ

বাজারে আসছে জেমস বন্ডের সেই গাড়ি

পরের সংবাদ

পাহাড়ে শান্তি কি আসবে না

সম্পাদকীয়

প্রকাশিত হয়েছে: জুলাই ৮, ২০২০ , ৭:৪৯ অপরাহ্ণ

বান্দরবানে পাহাড়ি একটি আঞ্চলিক সংগঠনের ৬ নেতাকে গুলি করে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। আহত হয়েছেন আরো ৪ জন। হতাহতরা সবাই পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (জেএসএস) এম এন লারমা গ্রুপের সদস্য। গত মঙ্গলবার ভোরে বান্দরবানের বাঘমারা বাজার পাড়ায় এ ঘটনা ঘটে। পার্বত্য চট্টগ্রামে সহিংসতা নতুন নয়। গত দেড় বছরে আঞ্চলিক দলগুলোর সংঘাতে সেখানে অর্ধশতাধিক মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এর সঙ্গে জড়িত মূলত জনসংহতি সমিতির দুটি অংশ এবং ইউপিডিএফ ও ইউপিডিএফ-গণতান্ত্রিক। পাহাড়ি অধিবাসীদের মধ্যেই এ পক্ষগুলোর কমবেশি সমর্থন রয়েছে। তারা কেউ পার্বত্য শান্তিচুক্তির পক্ষে, কেউ বিপক্ষে। আদিবাসী ও সেটলারদের মধ্যেও বিবাদ-সংঘাতের ঘটনা ঘটে। গত মঙ্গলবারের ঘটনায় নিহতদের মধ্যে জেএসএস এম এন লারমা গ্রুপের বান্দরবান শাখার সভাপতি রতন কান্তি তঞ্চঙ্গ্যা রয়েছেন। কারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে, সে ব্যাপারে পুলিশ এখনো সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য পায়নি। তবে এম এন লারমা গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক উবা মং দাবি করেছেন, জনসংহতি সমিতির সন্তু গ্রুপই ঘটনাটি ঘটিয়েছে। এর আগে চাঁদাবাজি এবং এলাকার কর্তৃত্ব নিয়ে খুন ও অপহরণের ঘটনা ঘটলেও দিনের আলোতে অস্ত্র হাতে গ্রামে ঢুকে ৬ জনকে হত্যার ঘটনা এটাই প্রথম। গ্রামবাসী আশঙ্কা করছেন, এ ঘটনার প্রতিশোধ হিসেবে আরো পাল্টা সহিংসতা হতে পারে। আইনশৃঙ্খলার অবনতি হতে পারে। নিহত রতন কান্তি তঞ্চঙ্গ্যা তৎকালীন শান্তিবাহিনীর একজন দুর্র্ধর্ষ গেরিলা ছিলেন। অস্ত্র সমর্পণের মাধ্যমে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার পর জনসংহতি সমিতির রাজনীতির পাশাপাশি ব্যবসা-বাণিজ্যে জড়িয়ে পড়েন তিনি। পরে জনসংহতি সমিতি বিভক্ত হয়ে পড়লে তিনি সংস্কার গ্রুপে যোগ দেন। এরপর থেকে এলাকার কর্তৃত্ব নিয়ে তার সঙ্গে সন্তু গ্রুপের শত্রুতা শুরু হয়। কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার ইঙ্গিত হিসেবে খুনের ঘটনাটি ঘটতে পারে বলে স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন। কিছুদিন পরপরই অশান্ত হয়ে উঠছে পার্বত্যাঞ্চল। রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান পার্বত্য জেলায় পাহাড়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে ঘটছে প্রাণহানি। পার্বত্যাঞ্চলে পার্বত্য শান্তিচুক্তি বাস্তবায়ন ও পূর্ণ স্বায়ত্তশাসন আন্দোলনের নামে সক্রিয় আঞ্চলিক সংগঠনগুলো নিজেরাই পারস্পরিক দ্বন্দ্বে লিপ্ত থাকছে সবসময়। আধিপত্য প্রতিষ্ঠার জন্য প্রতিনিয়ত চলছে বন্দুকযুদ্ধ ও অপহরণের ঘটনা। ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর তৎকালীন আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ঐকমত্যের সরকার ও পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির মধ্যে শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এই চুক্তির আওতায় সে সময়কার বিচ্ছিন্নতাবাদী শান্তি বাহিনীর ২ হাজার সশস্ত্র কর্মী অস্ত্র সমর্পণ করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসেন। অবসান ঘটে অব্যাহত রক্তপাতের। দুঃখজনক ব্যাপার, আধিপত্য বিস্তার নিয়ে এখনো এক গ্রুপ আরেক গ্রুপের দিকে সব সময় বন্দুক তাক করে থাকছে। প্রায়ই শোনা যাচ্ছে পাহাড়ি জনপদে অপহরণ, রক্তাক্ত সংঘর্ষ, জমি দখলের খবর। পার্বত্যাঞ্চলে শান্তি বজায় রাখতে সরকারকে বিশেষ উদ্যোগ নিতে হবে। আঞ্চলিক গ্রুপগুলোর সন্ত্রাসী তৎপরতা নিয়ন্ত্রণ করে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা দিতে হবে। পার্বত্য শান্তিচুক্তির বাস্তবায়ন ত্বরান্বিত করে এর সুফল দৃশ্যমান করতে হবে পার্বত্যবাসীর কাছে।

এসআর