যে কারণে ভারতীয়দের কাছে ক্ষমা চাইবেন মোদী!

আগের সংবাদ

উজ্জ্বল নক্ষত্রের বিদায়

পরের সংবাদ

পুঁজি হারিয়ে পথে বসার দশা

তরুণ উদ্যোক্তাদের স্বপ্নভঙ্গ

ঝর্ণা মনি

প্রকাশিত হয়েছে: জুলাই ৭, ২০২০ , ৯:৫২ পূর্বাহ্ণ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগ থেকে সম্মানসহ স্নাতকোত্তর করে কোম্পানিতে কিছুদিন চাকরি করার পর প্রায় দেড় বছর আগে চাকরি ছেড়ে দেন জয়নুল আবেদীন জয়। স্বপ্ন ছিল অনেক বড় উদ্যোক্তা হওয়ার। আর সেই নেশা থেকেই পেশার পরিবর্তন। একক প্রচেষ্টায় দাঁড় করান নিজের একটি গার্মেন্টস ব্যাক আপ ফ্যাক্টরি। ২০ লাখ টাকার মতো পুঁজি দিয়ে শুরু হওয়া ব্যবসায় গত সেপ্টেম্বরে বিনিয়োগ করেন আরো প্রায় ৬০ লাখ টাকা। ধীরে ধীরে প্রতিষ্ঠানকে বড় করার স্বপ্ন নিয়েই এগুচ্ছিলেন তিনি, তখনই করোনা ভাইরাসে বিপর্যস্ত বিশ্ব। হোঁচট খেয়েছে স্বপ্ন।

ওয়ার্ল্ড এসএমই ফোরামের তথ্যানুযায়ী, দেশে ৭০ লাখ ৮১ হাজার শিল্পের মধ্যে ৬০ লাখ ৮০ হাজার কুটিরশিল্প, ক্ষুদ্রশিল্প ১ লাখ ১০ হাজার, ছোট শিল্প ৮ লাখ ৫০ হাজার, মাঝারি শিল্প ৭১ হাজার ও ৫২ হাজার বৃহৎ শিল্প রয়েছে। কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে পঞ্চম স্থানে থাকা বাংলাদেশ এসএমই শিল্পসংখ্যায় বিশে^ সপ্তম স্থানে রয়েছে। দেশে এসএমই খাতে কর্মসংস্থানের পরিমাণ ৭৩ লাখ। যাদের অধিকাংশই তরুণ উদ্যোক্তা বলে উঠে এসেছে দেশের শ্রমশক্তি জরিপে। করোনা ভাইরাসের কারণে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মুখে পড়েছেন তরুণ উদ্যোক্তারা।

তরুণ উদ্যোক্তা জয়নুল আবেদীন জয় ভোরের কাগজকে বলেন, কোভিড-১৯ শুরুর আগে কিছু ক্রেতার কাছে যাওয়া শুরু করেছিলাম। কিন্তু মার্চ থেকে অনেক গার্মেন্টস ফ্যাক্টরি বন্ধ হয়ে গেছে। অন্যদিকে যারা আছেন তাদের বিজনেস ভলিউম অনেক কম। স্বাভাবিকভাবেই আমার টার্নওভার প্রায় ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ কমে গেছে। এছাড়া করোনার কারণে প্রায় ২ মাস প্রোডাকশন বন্ধ ছিল। সবমিলিয়ে ক্ষতির অঙ্কটা আমার মতো নতুন উদ্যোক্তার জন্য অনেক বড়। জয় বলেন, এক্ষেত্রে যদি আমদানি প্রক্রিয়াটা একটু সহজীকরণ এবং ব্যাংকিং সুবিধা বিশেষ করে এলসি নেগোসিয়েশনের নিয়ম-কানুনগুলো সহজিকরণ করা হয় তাহলে তরুণ উদ্যোক্তারা উপকৃত হবে।

গাজীপুরে গার্মেন্টস এন্ড বায়িং ফ্যাক্টরি রয়েছে কুমিল্লার তরুণ উদ্যোক্তা সঞ্জয় চক্রবর্তীর। করোনা সংকটে দিশাহারা তিনি। সঞ্জয় ভোরের কাগজকে বলেন, ছোট ছোট ব্যবসায়ীদের জীবন করোনা রোগীর মতো বাঁচতেও পারে। আবার মরতেও পারে। আমরা টিকে থাকার জন্য লড়াই করছি।

এদিকে করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত শিল্প ও সার্ভিস সেক্টরের প্রতিষ্ঠানগুলোকে টিকিয়ে রাখতে স্বল্প সুদে ৩০ হাজার কোটি টাকার ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল ঋণ সুবিধা দিয়েছে সরকার। কুটির শিল্পসহ ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের জন্য ২০ হাজার কোটি টাকার একটি স্বল্প সুদের ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল ঋণ সুবিধা চালু করা হয়েছে। ব্যাক-টু-ব্যাক ঋণপত্রের আওতায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বাড়ানোর লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক এক্সপোর্ট ডেভেলপমেন্ট ফান্ডের আকার ৩ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার থেকে ৫ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করেছে এবং সুদের হার কমিয়েছে। এ ব্যাপারে অর্থনীতিবিদ ও সিপিডির গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম ভোরের কাগজকে বলেন, দুর্যোগকালে শর্তগুলো শিথিল করে এসএমই খাতে দ্রুত প্রণোদনা দেয়া শুরু করা প্রয়োজন। এ খাতে বরাদ্দ মাত্র ২০ হাজার কোটি টাকা, যা ৬/৭ শতাংশ মানুষকে কভার করবে। এই খাতে আরো বরাদ্দ বাড়ানো প্রয়োজন ছিল বলে আমি মনে করি।

জানতে চাইলে অর্থনীতিবিদ ড. নাজনীন আহমেদ ভোরের কাগজকে বলেন, এই দুর্যোগে দেশীয় শিল্প, তরুণ উদ্যোক্তাদের বাঁচানো খুব জরুরি। কারণ আগামী অর্থনীতিকে বাঁচানোর জন্য অভ্যন্তরীণ শিল্পে বিনিয়োগ বেশি প্রয়োজন। এতে মানুষ বাঁচবে, দেশ বাঁচবে।

ডিসি