করোনায় আক্রান্ত মাশরাফির স্ত্রী

আগের সংবাদ

এ অবসরে আমি স্মৃতিকথা লিখছি

পরের সংবাদ

চীন-ভারত সন্ধি!

গালওয়ান থেকে সেনা অপসারণ প্রক্রিয়া শুরু

কাগজ ডেস্ক :

প্রকাশিত হয়েছে: জুলাই ৭, ২০২০ , ১০:০৬ পূর্বাহ্ণ

চরম উত্তেজনার মধ্যেই এক বিরল নজির স্থাপন করল বিবদমান দুই শক্তিধর দেশ, চীন ও ভারত। অনেকটা নাটকীয়ভাবেই লাদাখ সীমান্তের গালওয়ান উপত্যকায় মোতায়েন সেনাদের কিছুটা পিছিয়ে নিয়েছে উভয়েই। গত মাসে এই এলাকাতেই দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে প্রাণ হারান ২০ ভারতীয় সেনা, আহত হন অন্তত ৭৬ জন। সেবার চীনের কতজন হতাহত হয়েছিলেন তা নিশ্চিত করেনি বেইজিং। সেনা সূত্রের বরাতে গত রবিবার ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানায়, গালওয়ান উপত্যকার আশপাশের এলাকা থেকে সেনা সদস্যদের অন্তত এক কিলোমিটার পিছিয়ে নেয়া হয়েছে। সরানো হয়েছে কিছু অস্থায়ী স্থাপনাও।

ওই এলাকায় ভারত ও চীনা সেনাদের মধ্যে একটি ‘বাফার জোন’ তৈরি করা হয়েছে। তবে, এটি দীর্ঘস্থায়ী সমাধানের প্রাথমিক ধাপ কিনা তা জানতে আরো কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে। এর আগে সীমান্তে উত্তেজনার পরিপ্রেক্ষিতে লাদাখে সেনা মোতায়েন জোরদার করে দুদেশই। উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে উভয়পক্ষই ব্যাপক রণপ্রস্তুতি শুরু করে। জানা গেছে, পেট্রোলিং পয়েন্ট-১৪ থেকে দুদেশের সেনাই কিছুটা পিছিয়েছে। সরকারি সূত্র দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে জানায়, রবিবার রাত থেকেই গালওয়ানে নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর প্রতিরক্ষার জন্য যেসব স্থাপনা তৈরি করেছিল চীনা সেনাবাহিনী, তা সরানো হয়েছে। আপাতত পুরো এলাকা পরিষ্কার করা হয়েছে। চীনা সেনাদের সরিয়ে নিতে বেশ কয়েকটি গাড়ি ওই এলাকায় আনা হয়েছে। এরপরই উভয় পক্ষের সেনা প্রত্যাহার প্রক্রিয়াটি শুরু হয়।

পুরো প্রক্রিয়াটি এখনো চলমান এবং উভয় পক্ষের কতজন সেনা সরানো হয়েছে তা এখনো নিশ্চিত নয়। এই সেনা প্রত্যাহার কতটা দীর্ঘমেয়াদি, তা জানতে আরো কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে বলে মনে হচ্ছে।

তবে নিরাপত্তাবিষয়ক ভারতীয় এক সিনিয়র কর্মকর্তা বলেন, সেনা সরানোর কাজ বাস্তবে কতটা হলো তা খতিয়ে দেখতে ভারতীয় সেনাবাহিনীর একটি দল নিয়ন্ত্রণরেখার বেশ কিছু পয়েন্টে যাবে। তবে গালওয়ানে চীনা সেনাদের প্রত্যাহার ও স্থাপনা ধ্বংসের কয়েকটি প্রমাণ পাওয়া গেছে। গত তিন দিন ধরেই সেনা প্রত্যাহারের প্রক্রিয়াটি নজরে পড়েছে। বিরূপ প্রকৃতির কারণে গালওয়ান নদীর পানি বাড়ছে এখন। ফলে প্রক্রিয়াটি কিছুটা বিলম্বিত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সম্প্রতি গালওয়ান উপত্যকায় চীনের বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণের চিত্র ধরা পড়ে স্যাটেলাইটের ছবিতে। বিপরীতে, যুদ্ধবিমান, হেলিকপ্টারসহ সেনা মোতায়েন বাড়িয়ে তুলতে দেখা যায় ভারতের পক্ষ থেকেও। উত্তেজনা প্রশমনে কয়েক দফায় বৈঠকও করেন চীন-ভারতের শীর্ষ সেনা কর্মকর্তারা। যদিও সেই বৈঠক থেকে তেমন কোনো ফলপ্রসূ সমাধান মেলেনি। এর মধ্যেই গত শুক্রবার লাদাখে ভারতীয় সেনাঘাঁটিতে হাজির হন দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি সেখানে ভারতীয় সেনাদের উৎসাহিত করতে চীনের বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে আগ্রাসী বক্তব্য রাখেন।

ডিসি