করোনার ভেতর-বাহির

আগের সংবাদ

রাজধানীর প্রতি ওয়ার্ডে বিনামূল্যে করোনা টেস্টের দাবি

পরের সংবাদ

কুরবানির হাটে যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মানা কি সম্ভব?

সম্পাদকীয়

প্রকাশিত হয়েছে: জুলাই ৭, ২০২০ , ১০:১২ অপরাহ্ণ

স্বাস্থ্যবিধি মেনে কুরবানির পশুর হাট বসানো কি সম্ভব? যেখানে কাঁচাবাজার কিংবা শপিংমলগুলোতেই স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা যাচ্ছে না, সেখানে পশুর হাটে সম্ভব হবে কি? এমন পরিস্থিতিতে পশু কেনাবেচা করলে মানুষের ভিড়ে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ আরো বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। এই প্রেক্ষাপটে ভার্চুয়াল পশুর হাটই উত্তম বিকল্প ব্যবস্থা হতে পারে। ইতোমধ্যে করোনা পরিস্থিতিতে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের আওতায় বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের অধীনে উদ্ভাবন ও উদ্যোক্তা উন্নয়ন একাডেমি প্রতিষ্ঠাকরণ প্রকল্পের (আইডিইএ) আগে ফুড ফর ন্যাশন নামের একটি প্ল্যাটফর্ম গঠন করা হয়েছে। এরই আলোকে আইডিইএ প্রজেক্টের স্টার্টআপ বাংলাদেশ ব্যানারে ডিজিটাল হাটের এই উদ্যোগটি গ্রহণ করে প্রকল্পটি। এই হাটে ক্রেতারা ঘরে বসেই গরুর ছবি ও ভিডিও দেখার ও লাইভ ওজন জানার সুযোগ পাবেন। একই সঙ্গে গরু চাষি, খামারি বা ব্যাপারীদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের সুযোগ পাবেন। এরপর নির্দিষ্ট স্থান থেকে অথবা হোম ডেলিভারির ভিত্তিতে অর্থের বিনিময়ে গরু সংগ্রহ করতে পারবে। এটিই হবে সরকারি উদ্যোগে দেশের সবচেয়ে বড় কুরবানির পশুর ডিজিটাল হাট। এছাড়া বিভিন্ন সংগঠন বা প্ল্যাটফর্ম যুক্ত হচ্ছে। আমরা মনে করি, যত বেশি অনলাইনে কুরবানির পশু কেনাবেচা হবে, মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি তত কমবে। জানা গেছে, এবার ঢাকার দুই সিটি মিলিয়ে পশুর হাট বসবে মোট ২৪টি। এর মধ্যে উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকায় ১০টি এবং দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় হবে ১৪টি। সারাদেশের জেলা-উপজেলায়ও পশুর অস্থায়ী হাট বসানোর অনুমতি দেয়া হয়েছে। বাস্তবে অনুমোদনের বাইরেও কুরবানিতে আরো অনেক হাট বসে। সব মিলিয়ে এই হাটের সংখ্যা সারাদেশে ৫ হাজারের কম হবে না। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, গ্রামীণ অর্থনীতির সঙ্গে কুরবানির পশুর হাটের একটা যোগ আছে। বাংলাদেশের চামড়া শিল্পও অনেকটা নির্ভরশীল কুরবানির ওপরে। পরিকল্পনা করে করোনায় অর্থনীতি সচল রাখা যেতে পারে। কিন্তু এভাবে হাটবাজার খুলে দিলে শেষ পর্যন্ত অর্থনীতিও বাঁচবে না, মানুষও বাঁচবে না। শুধু পশুর হাট নয়, প্রচলিত পদ্ধতিতে পশু কুরবানিও স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়াবে। কিন্তু ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের এখনো এ বিষয়ে কোনো পরিকল্পনা নেই। এখনো সময় আছে, তাই পরিকল্পনা করে কুরবানির পশুর অনলাইন বাজার শক্তিশালী করতে হবে। করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধে ইতোপূর্বে যে কার্যক্রমগুলো গৃহীত হয়েছে, তার কোনোটাই আমরা সফলভাবে বাস্তবায়ন করতে পারিনি। কুরবানির বাজারে বিষয়টি নিয়ে হেলাফেলা করার আর কোনো সুযোগ নেই। তাই কুরবানির হাটে যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি ও সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে হবে। এজন্য যত্রতত্র হাট বসানো যাবে না। যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে সীমিত পরিসরে হাট বসানোর ব্যবস্থা করতে হবে। একই সঙ্গে অনলাইনভিত্তিক হাটের ব্যবস্থাকে গুরুত্ব দিতে হবে।

এমআই