করোনায় রিহ্যাব পরিচালকের মৃত্যু

আগের সংবাদ

বুধবার থেকে স্বাভাবিক লেনদেনে ফিরবে পুঁজিবাজার

পরের সংবাদ

আগামীকালের খাবারের নিশ্চয়তা নেই ওদের

প্রকাশিত: জুলাই ৭, ২০২০ , ৪:২৪ অপরাহ্ণ আপডেট: জুলাই ৭, ২০২০ , ৪:২৪ অপরাহ্ণ

আজ দুপুরে খাবার জুটেছে কাল জুটবে কিনা তার নিশ্চয়তা নেই। করোনা ভাইরাসের প্রভাবে এভাবেই দিন কাটছে পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলায় আশ্রায়ণ প্রকল্প গুলোতে বসবাসকরা দিন এনে দিন খাওয়া দেড় হাজার পরিবারের।

করোনার প্রভাবে স্থবির হয়ে পরা জনপদে অনেকটাই বেকার হয়ে পরেছে নিম্ন আয়ের খেটে খাওয়া এই মানুষগুলো। একদিন কাজ না করলেই পরিবার নিয়ে না খেয়ে থাকতে হয় তাদের। পরিবার পরিজন নিয়ে কি ভাবে এই প্রতিকূল সময় পাড়ি দেবে প্রতিমুহুর্ত সে চিন্তায় দিন কাটছে তাদের।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, উপজেলার ৬ ইউনিয়নে (নবগঠিত মৌডুবী ইউনিয়ন সহ) ১৬ টি আশ্রয়ণ রয়েছে। ১৯৯৭ সন থেকে পর্যায়ক্রমে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে আশ্রয়ণগুলো নির্মিত হয়। সেই সময় থেকে দেড় হাজারের মতো বাস্তুভিটাহীন পরিবার এইসব আশ্রয়ণে বসবাস করে। এরা সবাই হতদরিদ্র দিন আনে দিন খাওয় শ্রমজীবী মানুষ। যেদিন কাজ থাকেনা, সেদিন পেটের খোরাক জোগার করতে ধারদেনা করতে হয় তাদের। করোনার প্রভাবে এখন সবাই কর্মহীন হয়ে পরায়, মানবেতর জীবনযাপন করছে আশ্রয়ণের এই পরিবারগুলো।

রাঙ্গাবালী সদর ইউনিয়নের কাজিরহাওলা, বড়বাইশদিয়ার মধুখালী, চরগঙ্গা আশ্রয়ণ ঘুরে দেখা গেছে, ৪ আশ্রয়নে বর্তমানে শতাধিক পরিবার বসবাস করছে।ঘরগুলো বাস অযোগ্য। মেরামত না করায় টিনগুলো জং ধরে খুলে খুলে পরছে। সামান্য বৃষ্টি হলে ঘরের মেঝে ভেসে যায় পানিতে। ঝড় হলেতো কথাই নেই। এর মধ্যই জোড়াতালি দিয়ে ছেলেমেয়ে নিয়ে বসবাস করছে হতদরিদ্র পরিবারগুলো। পরিবার প্রধানরা সবাই দিনমজুর। কাঁকড়া ধরা, মাছ ধরা, কাঠমিস্ত্রী, রাজমিস্ত্রী, জেলেসহ বিভিন্ন কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করে। একদিন কাজ না করলে ভাগ্যে খাবার জোটেনা তাদের। বর্তমানে করোনার প্রাদুর্ভাবে দেশের এই সংকটময় মুহুর্তে মালিকরা তাদের কাজকর্ম স্থগিত রাখায় বেকার হয়ে পরেছে ওইসব মানুষ। অনেক কষ্টে দিন কাটছে তাদের।

মধুখালী আশ্রয়নের মোঃ সোনা মিয়া, আঃ জব্বার, সুলতান জোমাদ্দার, রোকেয়া বেগম, কাজলি বেগমসহ অনেকে বলেন, ১৭ বছর ধইরা আমরা এহানে (এখানে) থাহি (থাকি)। বর্তমানে কাজকাম নাই, কিছুই পাইনা। আইজ দুপুরে খাইছি, কাইল কি খামু এ্যহনো (এখনো) জানিনা। খুব করুন অবস্থায় আছি। সব ঘরের চাল দিয়া পানি পড়ে। ভিজা কাঁথা গায় দিয়া থাহি।
চরগঙ্গায় থাকা হোচেন মুন্সী, বজলু মিয়াসহ অনেকে বলেন, অনেক বছর ধইরা আমরা আশ্রয়ণে থাহি। এ্যাহোন (এখন) কোন কাম পাইনা। খুব করুন অবস্থায় আছি। সাহায্য না পাইলে কোন উপায় দেহিনা। ৫ নং ওয়ার্ডের মেম্বর মোঃ সোনা মিয়া বলেন, হত দরিদ্র পরিবার গুলোকে ৩ বার ১০ কেজি করে চাল ও অন্যান্য খাদ্য সামগ্রী দেয়া হয়েছে। তবে চাহিদার তুলনায় তা পর্যাপ্ত নয়।

প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পি আই ও) জানান, মেরামত না করায় ঘরগুলো খুলে পরছে। মেরামতের জন্য উর্ধতন কতৃপক্ষকে জানান হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাশফাকুর রহমান বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। আমার কাছে লিখিত ভাবে জানালে সংশ্লিষ্ট। কতৃপক্ষের সাথে আলাপ করে যথাযথ ব্যাবস্থা গ্রহণ করবো।

ডিসি

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়