বার্সেলোনায় থাকছেন মেসি

আগের সংবাদ

জীবনের গল্প বাকি রেখে চলে গেলেন এন্ড্রু কিশোর

পরের সংবাদ

ফুটবলারদের সঙ্গে তামাশা করল আরকিউব ফাউন্ডেশন

খেলা ডেস্ক

প্রকাশিত হয়েছে: জুলাই ৬, ২০২০ , ১০:৩০ অপরাহ্ণ

বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) সহায়তায় ফুটবলারদের সঙ্গে একপ্রকার তামাশাই করল আরকিউব ফাউন্ডেশন নামের একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। করোনা ভাইরাসের কারণে খেলা না থাকায় আর্থিক সংকটে পড়া বয়সভিত্তিক ফুটবলারদের হাতে মাত্র ১ হাজার টাকা করে আর্থিক অনুদান তুলে দিয়েছে সংগঠনটি। আর এ কাজে তাদের পাশে ছিল দেশের ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থা বাফুফে।

বর্তমানে করোনাকালে আর্থিক দৈন্যদশায় রয়েছে ফুটবলাররা। অনেকেই বেছে নিয়েছেন ভিন্ন পেশা। পরিবারের সদস্যদের মুখে খাবার তুলে দিতে না পারায় অনেক ফুটবলার আত্মহত্যার মতো পথ বেছে নিতে চেয়েছেন! যেখানে ফুটবলারদের স্বার্থ সংরক্ষণে সর্বদা সর্বোচ্চ সচেষ্ট থাকার কথা দেশের ফুটবলের নিয়ন্ত্রণ সংস্থাটির। অথচ এই করোনাকালে তাদের স্বার্থ রক্ষায় পুরোপুরি ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে বাফুফে। দুস্থদের মাঝে খাবার বিতরণ ছাড়া বাফুফের উল্লেখযোগ্য কোনো কর্মকান্ডই চোখে পড়েনি। উল্টো বয়সভিত্তিক ফুটবলারদের হাতে মাত্র ১ হাজার টাকা করে তুলে দিয়ে নেতিবাচক খবরের শিরোনাম হয়েছে। রবিবার বাফুফে ভবনে জনাকীর্ণ এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ১০০ জন বয়সভিত্তিক ফুটবলারদের (পুরুষ ৭০ ও নারী ৩০ জন) হাতে মাত্র এক হাজার টাকা ও হ্যান্ড স্যানিটাইজার তুলে দেয়া হয়। অনুষ্ঠানে ফাউন্ডেশনটির সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ রেজাউল করিম এবং বাফুফের সদস্য ও পাইওনিয়ার ফুটবল লিগ কমিটির ডেপুটি চেয়ারম্যান অমিত খান শুভ্র ও বাফুফে সাধারণ সম্পাদক আবু নাঈম সোহাগ উপস্থিত ছিলেন।

ফুটবলারদের হাতে সামান্য কটি টাকা তুলে দেয়াকে দেশের ফুটবলের জন্য লজ্জার উল্লেখ করে সাবেক তারকা ফুটবলার হাসানুজ্জামান খান বাবলু বলেন, ‘আমি জানি না, করোনা ভাইরাসের এই দুর্যোগে একজন মানুষের ১ হাজার টাকা দিয়ে কি হয়! বয়সভিত্তিক ফুটবলারদের দাম কি মাত্র ১ হাজার টাকা? যেটা কিনা আবার উপহার নেয়া হয়েছে একটি ফাউন্ডেশন থেকে। কীভাবে এমন লজ্জাজনক ঘটনাই ঘটাল বাফুফে। তাও আবার ফলাও করে প্রচার করে।

তিনি আরো বলেন, ‘আমি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখতে পেলাম, হাসান আল মামুন নামের এক ফুটবলার বিষ খেতে চেয়েছিল আর্থিক অনটন সইতে না পেরে। পরবর্তীতে সে অটোরিকশা চালিয়ে পরিবারের মুখে অন্ন দিচ্ছে। হাসান আল মামুনকে আমরা ৫ হাজার টাকা দিয়েছি। অথচ বাফুফের কোনো হেলদোল নেই। দেশের ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থাটি ফুটবলারদের কোনো খোঁজ রাখছে না। সাবেক ফুটবলারদের সংগঠনও করোনাকালীন ২৫ জন কোচ ও ফুটবলারকে ১০ থেকে ২০ হাজার টাকা করে দিয়েছি। মারা যাওয়ার আগে সাবেক ফুটবলার মনুকে দেড় লাখ টাকা দিয়েছি আমরা। ফিফা থেকে করোনার জন্য কোটি কোটি টাকা পেয়েও মাত্র ১ হাজার টাকা করে অন্যদের কাছ থেকে নিয়ে ফুটবলারদের দিতে হয় বাফুফেকে। এরচেয়ে লজ্জার আর কিছুই নেই আমাদের।’

এদিকে মাত্র ১ হাজার করে টাকা দেয়াকে ভালোভাবে মেনে নিতে পারেননি ফুটবলাররাও। নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক বয়সভিত্তিক দলের একাধিক ফুটবলার বলেন, আমাদের ডেকে এনে অপমান করা হয়েছে। বাফুফের কাছে আমরা মোটেও আশা করেনি।

অনুদান হিসেবে দেয়া ১ হাজার টাকা দিয়ে একজন ফুটবলারের পকেট খরচও হবে না। তার পরিবারকে সাহায্য করা তো দূরের কথা। এক হাজার টাকা অনুদানের সঙ্গে হ্যান্ড সেনিটাইজার ও গøাভস বিতরণ করেছে বাফুফে। অথচ করোনাকালীন সময়ে ফিফার কাছ থেকে পেয়েছে কোটি কোটি টাকা।

যদিও বাফুফে এই দায় চাপাতে চাইছেন আরকিউব ফাউন্ডেশনের ঘাড়ে। বাফুফে সাধারণ সস্পাদক আবু নাঈম সোহাগ বলেন, ‘এটা আমাদের কোনো অনুষ্ঠান ছিল না। আরকিউব ফাউন্ডেশন ফুটবলারদের সহায়তা করতে চেয়েছে। আমরা শুধু পাশে থেকে তাদের সহায়তা করেছি।’

সেই সঙ্গে ফেডারেশন কর্তারা অনুদানের অঙ্কটা না বলে সুরক্ষাসামগ্রীর কথাটাই বেশি বলেছেন। এছাড়া গত বছরও বিদেশ থেকে শিরোপা জিতে আসার পর অনেক প্রতিষ্ঠান মারিয়া মান্ডাদের শুধু ফুলেল শুভেচ্ছা জানানোয় অনেক সমালোচনা হয়েছিল। জাতীয় দলের কিছু ফুটবলার ছাড়া বাকি সবারই এখন কষ্টের জীবন কাটছে। তারপরও টনক নড়েনি বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের। আর্থিক দৈন্যদশায় থাকা ফুটবলারদের জন্য আলাদা কোনো পরিকল্পনা করেনি বাফুফে।

এমএইচ