গরুর হাটে বেপরোয়া বিচরণ

আগের সংবাদ

চলে গেলেন প্লেব্যাক সম্রাট এন্ড্রু কিশোর

পরের সংবাদ

জরুরি সেবায় ফোন

ট্রেন থামিয়ে অন্তঃসত্ত্বাকে হাসপাতালে, অতঃপর…

প্রকাশিত: জুলাই ৬, ২০২০ , ৭:২৭ অপরাহ্ণ আপডেট: জুলাই ৬, ২০২০ , ৭:৩০ অপরাহ্ণ

ট্রেনযাত্রী এক অন্তঃসত্ত্বা নারীর প্রসব বেদনা শুরু হলে জরুরি ভিত্তিতে স্টপেজ ছাড়াই ট্রেন থামিয়ে তাকে হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করেছে ওই ট্রেনের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা ও জতীয় জরুরি সেবা ‘৯৯৯’ কর্তৃপক্ষ।

রবিবার (৫ জুলাই) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে ঢাকা থেকে ছেড়ে যাওয়া কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেসে ট্রেনের যাত্রী কামরুন্নাহার (৩২) এর রাত সাড়ে ১২ টা নাগাদ প্রসব বেদনা শুরু হলে ট্রেনটি স্টপেজ ছাড়াই নাটোরে থামিয়ে ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে এম্বুলেন্স করে নাটোর হাসপাতালে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়।

রেল সূত্রে জানা গেছে, কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস ট্রেনটি নাটোর স্টেশনে কোন স্টপেজ না থাকা সত্বেও ওই নারী যাত্রীর প্রসব বেদনা ওঠার পর টিটি ও নিরাপত্তা কর্মীদের তৎপরতায় গার্ড ও ড্রাইভাই জাতীয় জরুরি সেবার নির্দেশে দ্রুত তাকে হাসপাতালে পাঠানোর জন্য ট্রেনটি নাটোর স্টেশনে থামিয়ে দেন। এরপর জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ থেকে পাঠানো অ্যাম্বুলেন্সে করে রাত ২টার দিকে ওই নারীকে নাটোর জেলা সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে তিনি একটি পুত্র সন্তানের জম্ম দেন।

এ বিষয়ে প্রসূতির স্বামী নাছির মোল্লা জানান, তিনি তার স্ত্রী কামরুন্নাহার (৩২) কে নিয়ে ঢাকার কমলাপুর থেকে গতকাল রবিবার (৫ জুলাই) রাত ৮টা ৪৫ মিনিটে নওগাঁর উদ্দেশে কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস ট্রেনে যাত্রা করেন। পথে তার স্ত্রীর প্রসব বেদনা এবং রক্তপাত শুরু হয়। রেল কতৃপক্ষ ও জরুরি সেবা বিভাগ ৯৯৯ এর সহায়তায় নাটোর সদর হাসপাতালে ভর্তি হলে রাত ২টা ৩০ মিনিটে তার স্ত্রী একটি ছেলে সন্তানের জন্ম দেন। নবজাতক ও তার মা দু’জনই বর্তমানে সুস্থ আছেন। নাছির মোল্লা তার স্ত্রী ও সন্তানের সংকটময় মুহূর্তে সহায়তা করার জন্য রেলওয়ে ও ৯৯৯ এর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে জাতীয় জরুরি সেবা থেকে জানান হয়, গতকাল রবিবার দিবা গত রাত ১২টা ২০ মিনিটে বাংলাদেশ পুলিশ পরিচালিত ‘জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে একটি ফোন আসে। কলার নিজেকে কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেসের অ্যাটেনডেন্ট মোহাম্মদ আলী (৩১)বলে পরিচয় দেন। তিনি জানান, কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস ট্রেনটি কমলাপুর থেকে রাতে ছেড়ে এসেছে, কুড়িগ্রাম যাচ্ছে। তার ট্রেনে একজন নারী যাত্রী প্রসব বেদনায় কাতরাচ্ছেন এবং তার রক্তপাত হচ্ছে। তিনি ইতোমধ্যে ট্রেনে কোনও ডাক্তার যাত্রী আছেন কিনা খোঁজ নিয়েছেন। কিন্তু ট্রেনে কোনও ডাক্তার যাত্রী ছিল না। ট্রেনটি বর্তমানে পাবনা বাইপাস অতিক্রম করছে। ট্রেনটির পরবর্তী স্টেশন বগুড়ার শান্তাহার পৌঁছাতে আরও দুই-আড়াই ঘণ্টা সময় লাগবে। কিন্তু সেই পর্যন্ত ওই নারীকে এভাবে নেওয়া যাবে না। তাহলে যেকোনও দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে। তাকে দ্রুত হাসপাতালে নিতে হবে। কিন্তু ধারে কাছে কোনো হাসপাতাল নেই। তিনি জরুরি সেবার কাছে সহযোগিতা চান।

তারা আরো জানান, জাতীয় জরুরি সেবা থেকে অ্যাটেন্ডারকে প্রশ্ন করা হয়, সামনে আর কোন স্টেশন রয়েছে? তখন তিনি জানান, কিছুক্ষণের মধ্যে ট্রেনটি নাটোর স্টেশন অতিক্রম করবে। ট্রেনটি যদিও নাটোর স্টেশনে থামার কথা নয়, তবুও অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা হলে তারা রেলের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে ট্রেনটি নাটোর স্টেশনে থামানোর ব্যবস্থা করবেন বলে জানিয়ে দেওয়া হয়।

৯৯৯ নম্বর থেকে তাৎক্ষণিক নাটোর সদর হাসপাতালে যোগাযোগ করে রেল স্টেশনে অ্যাম্বুলেন্স পাঠানোর ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ করা হয় এবং নাটোর সদর হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্স চালকের সঙ্গে ট্রেন অ্যাটেনডেন্টের কথা বলিয়ে দেওয়া হয়। রাত পৌনে ২টায় ট্রেনটি নাটোর স্টেশনে থামে এবং প্রসূতি রোগীকে দ্রুত নাটোর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

এমএইচ

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়