শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে ইন্টারনেট দেয়ার আহ্বান

আগের সংবাদ

মালামাল ডাস্টবিনে ফেলা ভবন মালিককে গ্রেপ্তার দাবি

পরের সংবাদ

নয়া মেরুকরণ

ইরান-চীনের মিত্রতা কেন আরো জোড়ালো হচ্ছে

ইয়াহইয়া নকিব

প্রকাশিত হয়েছে: জুলাই ৬, ২০২০ , ৪:৩৪ অপরাহ্ণ

বর্তমান করোনা পরিস্থিতিতে বিশ্বব্যবস্থায় নানা পরিবর্তন পরিলক্ষিত হচ্ছে। বৈশ্বিক এ মহামারি নিয়ে রাজনৈতিক ও ভৌগলিক অনেক ধরণের মেরুকরণ ও দেখা যাচ্ছে। সম্প্রতি চীনের থেকে এ ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ায় চীনের ওপর বৈশ্বিক চাপ বাড়াচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। অন্যদিকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অর্থায়ন বাতিল করায় সংস্থাটির সাথে সম্পর্ক বাড়াচ্ছে চীন। অন্যদিকে ইরানের কমান্ডার কাসেম সোলাইমানীকে হত্যার পর ইরানের সাথে এক ধরণের ছায়া যুদ্ধে জড়িয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফলে একটা প্রচলিত কথা শত্রুর শত্রুর সাথে মিত্রতার একটা রুপায়ন দেখা যাচ্ছে।

ভারতের সাথে সীমান্ত বিরোধের সুযোগে যুক্তরাষ্ট্র দক্ষিণ চীন সাগরে ২টি বিমানবাহী রণতরী পাঠিয়ে চীনের বিরুদ্ধে একটি অবস্থান তৈরীর চেষ্টা করছে। আর আগে থেকে ভিয়েতনাম, জাপান ও ফিলিপাইনের সাথে জলপথে জামেলা ছিল চীনের। এ অঞ্চলে সামনে দিনগুলোতে অবস্থান ধরে রাখতে হলে জলপথে শক্তিশালি অবস্থান রাখতে হবে তা ভলো করেই জানা ছিল যুক্তরাষ্ট্রের। এখন ভারতের সীমান্ত ইস্যুতে শক্তি বাড়িয়ে নিয়েছে তারা। ফলে এক ধরণের চাপে রয়েছে চীন।

অন্যদিকে সোলাইমানীকে হত্যার পর থেকেই সামরিক কৌশল নিয়ে নিজেদের মধ্যেই দ্বিধায় আছে ইরান। নতুন করে ইরানের পারমানু কেন্দ্রে সাইবার হামলার মাধ্যমে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। আর এ ধরণের হামলার সক্ষমতা যুক্তরাষ্ট্র আর ইসরাইল ছাড়া কারো নাই বলে মনে করা হয়। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে ইরানের চলমান ছায়া যুদ্ধ আরো দীর্ঘ সময় চলবে বলে সহজেই অনুমেয়। অন্যদিকে বাণিজ্যে যুদ্ধে চীনকে সহজে কাবু করতে না পারলেও অন্তর্জাতিক ইস্যুতে চীনকে কোনঠাসা করতে চায় যক্তরাষ্ট্র। তবে করোনা ইস্যুতে বিভিন্ন দেশে চীনের সহযোগিতার মনোভাব অনেক দেশকে চীনের কাছাকাছি নিয়ে এসেছে। সযেটা যুক্তরাষ্ট্র মেনে নেবে না। তাই যে কোন ভাবে চীনকে বিশ্বের জন্য ক্ষতিক্ষর প্রমাণে ব্যস্ত ট্রাম্প প্রশাসন।

আবার যুক্তরাষ্ট্রের অব্যাহত অর্থনৈতিক অবরোধে নাকাল অবস্থা ইরানের। চীনও ব্যবসা-বাণিজ্যে ঝাঁকুনি খেয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক যুদ্ধে। ফলে এ অবস্থা থেকে ঘুরে দাড়াতে নিজেদের কৌশল নির্ধাারণে আরো বেশি সম্পর্ক জোরদার করছে চীন-ইরান। ব্যবসা বাণিজ্যে অবস্থান ঠিক করতে ইরান এ সময়ে চীনের সাথে ২৫ বছরের কৌশলগত সম্পর্ক জোরদারের চুক্তি করছে। এখন পর্যন্ত ইরানের প্রধান তেল ক্রেতা দেশ চীন। ফলে সামনে দেশ দুটির মধ্যে বাণিজ্য ও কৌশলগত সম্পর্ক আরো বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

জলবায়ু, জ্বালানী ও করোনা ইস্যুতে ইউরোপের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের একটি দূরত্ব সৃষ্টি হয়ে।আর এ সুযোগে ইউরোপের সাথে সম্পর্ক বাড়াচ্ছে চীন। আর ইরানের সাথেও যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে পরমাণু চুক্তি থেকে বেড়িয়ে যাওয়াটাও ভালোভাবে নেয়নি ইউরোপ। ফলে সামনের দিনগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে চীন-ইউরোপ-ইরানের নতুন কৌশলগত সম্পর্ক সৃষ্টির সম্ভবনা তৈরী হয়েছে। যা যুক্তরাষ্ট্র-রাশিয়ার বাইরে আরেকটি বৈশ্বিক মেরুকরণ সৃষ্টি করতে পারে।

নকি