অধ্যাপক ডা. এ কে এম নুরুল আনোয়ার আর নেই

আগের সংবাদ

ওয়ান ব্যাংকের ৪শ কোটি টাকার বন্ড অনুমোদন

পরের সংবাদ

পেশাজীবী হিসেবে ‘গৃহকর্মী’দের মর্যাদা কোথায়?

ড. রাহমান নাসির উদ্দিন

প্রকাশিত হয়েছে: জুলাই ৫, ২০২০ , ৮:৩০ অপরাহ্ণ

আসমাদের দীর্ঘশ্বাসে সমাজের বাতাস ভারী হয়ে উঠছে। বাতাস থেকে অক্সিজেন নিতে গেলে আসমাদের দীর্ঘশ্বাসের স্বাদও আমাদের নিতে হবে, যদি না আমরা শ্রমের মর্যাদা এবং শ্রমিকের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত না করি। গৃহকর্মী নির্যাতনের দ্রুত বিচারই সমাজে এ নির্যাতনের পরিমাণ ক্রমান্বয়ে কমাতে পারে। কেননা যে সমাজ নির্মমতার বিচার করে না, সে সমাজ প্রকারান্তরে নির্মমতা লালন করে। আর যে সমাজ নির্মমতা লালন করে, সে সমাজ ‘মানুষের সমাজ’ নয়।

করোনাকালে সংবাদপত্রের সম্পাদকীয় এবং উপসম্পাদকীয় পাতাও মোটা দাগে ‘করোনাক্রান্ত’। করোনার নানাদিক নিয়ে বেশুমার লেখা ছাপা হচ্ছে কিন্তু চাপা পড়ে যাচ্ছে অনেক গুরুত্বপূর্ণ এবং গুরুতর বিষয়। সম্প্রতি উত্তরায় ১৪ বছরের এক গৃহকর্মী আসমার ওপর যে অমানবিক এবং অমানুষিক নির্যাতন হয়েছে, সেটা মিডিয়ার হাত ধরে রাষ্ট্র হওয়ায় কিছু কিছু মিডিয়া করোনাক্রান্ত স্টোরির বাইরেও যত্ন দিয়ে কভার করেছে। প্রকাশিত সংবাদ অনুযায়ী, উত্তরার এক শিল্পপতি দম্পতির নির্মম নির্যাতনের শিকার হয়ে গত ৩ জুলাই উত্তরা (পশ্চিম) থানায় একটি মামলা দায়ের করেন ১৪ বছর বয়সী নির্যাতিত গৃহকর্মীর মা। নির্যাতনের বিবরণ দেয়া হয় এভাবে, ‘বিগত ১ বছর ধরে সেখানে কাজ করছিল শিশুটি [আসমা]। কাজের ভারে ক্লান্তসহ নানা অজুহাতে শিশুর ওপর নির্যাতন চালাত শিল্পপতি দম্পতি। বেশ কয়েকবার রান্না করার গরম তেল হাতে ও মুখে নিক্ষেপ করেন গৃহকর্ত্রী শাহজাদী।… মাঝে মাঝে টেবিলে খাবার দিতে দেরি হলে শিশুর গালে সিগারেটের ছেঁকা দেয়া হতো।’ কথাগুলো তীব্রভাবে বীভৎসতর কিন্তু আমি জানি আমাদের ‘সবকিছু গা সয়ে যাওয়া’ শিক্ষিত-শহুরে-নাগরিক মধ্যবিত্তের জন্য এটা কোনো নতুন ‘বয়ান’ নয়। গরম পানি গায়ের ওপর ঢেলে দেয়া, গরম তেল মুখে/গায়ে ছুড়ে মারা, গরম খুন্তির ছেঁকা দেয়া, জ্বলন্ত সিগারেটের ছেঁকা দেয়া, হাতের কাছে যা পাওয়া যায় তা দিয়ে বেধড়ক পিটুনি, হাত-পা বেঁধে বাথরুমে আটকে রাখা প্রভৃতি ‘গৃহকর্মী’র জীবনের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত! এবং আমরাও শুনে অভ্যস্ত। ফলে সংবাদপত্রের আর দশটা খবরের মতো আসমার নির্যাতনের ঘটনাও নিরুদ্বেগ একটি খবর হিসেবে ছাপা হয়েছে। এ কারণেই এ ঘটনা আমাদের মধ্যে ভিন্ন কোনো মাত্রার অনুভ‚তির জন্ম দেয়নি। আর যারা একটু ‘সমাজ ও জাতিকে উদ্ধার করার জন্য বিপ্লবী’ সাজার কসরত করেন, তাদের মধ্যে যে খানিকটা বিকার তৈরি হয়েছিল, সেটা তারা ‘ফেসবুকের দেয়ালে’ তিনলাইনে চালান দিয়ে নির্বাক হয়ে যান। ফলে সমাজে ঘটে যাওয়া কোনো অন্যায় এবং অত্যাচার আমাদের মধ্যে তেমন কোনো আর বিকার তৈরি করে না। উত্তরার ঘটনা আদতে কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরঞ্চ এ রকম শত শত অপ্রকাশিত ঘটনার এবং অব্যক্ত বেদনার একটা নমুনা ও নজির মাত্র। সাধারণ সময়েই গৃহকর্মীরা যখন নিয়মিতভাবে এ রকম নির্যাতনের শিকার হয়, তখন এ করোনাকালে গৃহকর্মীরা কেমন আছেন এ প্রবন্ধে তার একটু হদিস করার চেষ্টা করা হয়েছে।
গৃহকর্মী বলতে আমরা কাকে বুঝি?- এর উত্তর পাওয়া যাবে ২০১৫ সালে বাংলাদেশের মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত ‘গৃহকর্মী সুরক্ষা ও কল্যাণনীতি’ নীতিমালায়। এ নীতিমলার ৫.২ ধারায় বলা হয়েছে, “গৃহকর্মী (Domestic Worker) বলতে এমন কোনো ব্যক্তিকে বোঝাবে যিনি নিয়োগকারীর গৃহে মৌখিক বা লিখিতভাবে খণ্ডকালীন অথবা পূর্ণকালীন নিয়োগের ভিত্তিতে গৃহকর্ম সম্পাদন করেন। এক্ষেত্রে মেস বা ডরমিটরিও ‘গৃহ’ হিসেবে বিবেচিত হবে।” নীতিমালার ৫.১ ধারায় গৃহকর্মের সংজ্ঞা দেয়া হয়েছে, ‘গৃহকর্ম (Domestic Worker) বলতে রান্না ও রান্না সংশ্লিষ্ট আনুষঙ্গিক কাজে সহায়তা, বাজার করা, গৃহ বা গৃহের আঙিনা বা চত্বর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা এবং গৃহের অন্যান্য কাজ, যা সাধারণত গৃহস্থালি কাজ হিসেবে স্বীকৃত। এছাড়া পোশাক-পরিচ্ছদ ধোয়া, গৃহে বসবাসরত শিশু, অসুস্থ, প্রবীণ কিংবা প্রতিবন্ধী ব্যক্তির যত্ন ইত্যাদি কাজও গৃহকর্ম হিসেবে বিবেচিত হবে। তবে নিয়োগকারীর ব্যবসার সঙ্গে সম্পর্কিত বা মুনাফা সৃষ্টি করে এমন কাজ এর অন্তর্ভুক্ত হবে না।’ নীতিমালা অনুযায়ী গৃহকর্মীর জন্য গৃহস্থালির প্রায় সব ধরনের কাজকর্ম হিসাব-নিকাশ করে নথিভুক্ত করা হয়েছে কিন্তু গৃহকর্মীর সুরক্ষার বিষয়ে এ নীতিমালায় তেমন কোনো উল্লেখযোগ্য এবং উদাহরণযোগ্য প্রয়োগ আমরা খুব একটা দেখি না। ফলে সমাজের গৃহকর্মীর অধিকার এখনো পর্যন্ত সুরক্ষিত হয়নি। আর হয়নি বলেই উত্তরায় ঘটনার মতো নির্মম নির্র্যাতনের শিকার হতে হয় এ দেশের গৃহকর্মের কাজে নিয়োজিত হাজারো গৃহকর্মীকে। এ নীতিমালার প্রস্তাবনাটি অত্যন্ত চমৎকার এবং প্রশংসাযোগ্য যেখানে বলা হয়েছে, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আজীবন শ্রমজীবী মানুষের মর্যাদা ও অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য সংগ্রাম করেছেন। স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশের সংবিধানে শ্রম ও শ্রমজীবী মানুষের অধিকার ও মর্যাদার প্রতিফলন ঘটানোর মাধ্যমে জাতির পিতা তাঁর আদর্শের বাস্তবায়ন নিশ্চিত করেছেন। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ২০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী কর্মক্ষম প্রতিটি নাগরিকের জন্য কর্মের অধিকার হচ্ছে- তার অধিকার, কর্তব্য এবং মর্যাদার বিষয় এবং শ্রমিকের প্রাপ্য পরিশোধের মূলনীতি হলো- ‘শ্রমিকের সামর্থ্য অনুযায়ী কর্মসম্পাদন এবং সম্পাদিত কাজ অনুযায়ী শ্রমের মূল্য [মজুরি] পরিশোধ’। সুতরাং বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক আদর্শ এবং বাংলাদেশের সংবিধানে সুংরক্ষিত ‘মজুর’ এবং ‘মজুরি’র যে অধিকার যদি সেটার যথাযথ বাস্তবায়ন হতো তাহলে বাংলাদেশে লাখ লাখ গৃহকর্মীর জীবনের এ দুর্দশা নেমে আসত না। সমাজের আসমাদের গরম তেলে ছিটা এবং জ্বলন্ত সিগারেটের ছেঁকা নিয়ে গৃহকর্মের কাজ করতে হতো না।
করোনাকালে গৃহকর্মীদের একটা বড় অংশ কাজ হারিয়ে রীতিমতো ‘পথে’ বসে গেছে। অনেক বাড়ি লকডাউন করার কারণে অনেক গৃহকর্মী (যারা খণ্ডকালীন) বাসায় গিয়ে কাজ করতে পারে না। আবার যারা স্থায়ী বা পূর্ণকালীন গৃহকর্মী হিসেবে বিভিন্ন বাসাবাড়িতে কাজ করত, তাদের অনেককেই এক মাসের বেতন দিয়ে ছাঁটাই করে দেয়া হয়েছে। আবার অনেককে বাসায় রেখে দেয়া হয়েছে মার্চ মাস থেকে এবং তাদের বাসা থেকে বের হতে দেয়া হয় না। তাদের পরিবার-পরিজন থেকে বিচ্ছিন্ন করে রাখা হয়েছে। অনেককে বলা হয়েছে, ‘একবার বাসার বাইরে গেলে আর ফিরে আসার দরকার নেই।’ তখন চাকরি বাঁচানোর জন্য বাধ্য হয়ে চার দেয়ালের ভেতরে এসব গৃহকর্মী আটকে আছে। এ রকম অনেকের পরিবার-পরিজন বাস করে বস্তিতে বা ঢাকা-চট্টগ্রামের বিভিন্ন ঝুপড়িতে। তাদের অনেকেরই স্বামী-সন্তান আছে কিন্তু এ বিপদের দিনেও বিচ্ছিন্ন হয়ে দিনাতিপাত করছে। বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাটিজের এক গবেষণায় বলা হয়েছে, ঢাকা শহরে প্রায় ১৩ লাখ গৃহকর্মী কাজ করে, যার বেশিরভাগই অস্থায়ী বা খণ্ডকালীন। এবং অস্থায়ী গৃহকর্মীরা বেশিরভাগই করোনা ভাইরাসের কারণে কাজ হারিয়েছে। তাদের অনেকে বস্তিতে থাকে কিন্তু বাসা ভাড়া দিতে পারছে না। কাজ হারিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে। ইতোমধ্যে অনেকেই ঢাকা এবং চট্টগ্রাম ছেড়ে গ্রামের বাড়িতে চলে গেছে কিন্তু সেখানেও অত্যন্ত মানবেতর জীবনযাপন করছে, কারণ তাদের হাতে কাজ নেই এবং আয়-রোজগারের ব্যবস্থা নেই। তাই গুরুত্ব বিবেচনায় গৃহকর্মীদের জন্য সরকারি উদ্যোগে একটি সামাজিক নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা জরুরি হয়ে উঠেছে। এসব শ্রমজীবী-নিম্নবিত্তের মানুষ এমনিতেই সমাজের তলানিতে বাস করে; যদি সরকারি কোনো পৃষ্ঠপোষকতা না পায় তাহলে তারা সহসাই অতলে তলিয়ে যাবে! তবে এখানে স্বীকার্য যে, করোনাকালে অনেক পরিবার অনেক গৃহকর্মীকে যথাযথ দেখাশোনা করছে এবং করোনার হাত থেকে নিজেদের জীবন বাঁচানোর পাশাপাশি গৃহকর্মীদেরও সমান সুরক্ষা দিচ্ছে। বরঞ্চ সাধারণ সময়ের চেয়ে বাড়তি মজুরি, বাড়তি সুযোগ-সুবিধা এবং বাড়তি যত্নআত্তিও করছে। যদি শুধু নেতিবাচক বিষয়গুলো উপস্থাপন করি, তাহলে যারা এ মহামারিকালে মহত্তে¡র পরিচয় দিচ্ছে, তাদের প্রতি অন্যায় হয়ে যাবে। তবে এটা লেখা বাহুল্য যে, এ সংখ্যা সমগ্রকের চেয়ে তুলনামূলকভাবে অনেক কম। এবং সে কারণেই এ করোনাকালেও আসমারা নির্মম নির্যাতনের শিকার হয়।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশে গৃহকর্মীর সংখ্যা কত, তারও কোনো সঠিক পরিসংখ্যান নেই। ২০১২ সালে প্রকাশিত ‘ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড ইউনিয়ন কনভেনশন’-এর তথ্য অনুযায়ী শুধু ঢাকা এবং চট্টগ্রাম গৃহকর্মীর সংখ্যা প্রায় ২০ লাখ। কিন্তু ২০১৬ সালে বিবিসি প্রদত্ত এক পরিসংখ্যান অনুযায়ী বাংলাদেশে গৃহকর্মীর সংখ্যা প্রায় ২০ লাখ। ২০১২ সালে ২০ লাখ হলে ২০১৬ সালেও ২০ লাখ হয় কীভাবে? ২০১৯ সালের বাংলাদেশ পরসিংখ্যান ব্যুরোর হিসাব অনুযায়ী, বাংলাদেশে মোট গৃহকর্মীর সংখ্যা প্রায় ২৫ লাখ। মতান্তরে কেউ কেউ বলছেন, বাংলাদেশে গৃহকর্মীর সংখ্যা প্রায় ৩৫-৪০ লাখ। এটা একটা অদ্ভুত ব্যাপার যে, গৃহকর্মকে যদি আমরা একটা পেশা হিসেবে নিই, তাহলে এ বিষয়ে কোনো সঠিক তথ্য আমাদের জানা নেই কেন? কতজন গৃহকর্মী ঢাকা, চট্টগ্রামসহ বড় বড় শহরগুলোতে কাজ করে? কীভাবে তারা শহরে অভিবাসন করে? কোথায় থাকে? কত শতাংশ ‘কাজের’ বাসায় থাকে আর কত শতাংশ বস্তিসহ অন্যান্য নিজস্ব বাসস্থানে থাকে? গৃহকর্মীদের জেন্ডার-অনুপাত কেমন? এ সম্পর্কিত একটা পরিপূর্ণ ডাটাবেজ থাকা উচিত বলে আমি মনে করি। সবচেয়ে বড় বাধা হচ্ছে, আমাদের সামাজিক মনস্তত্ত¡ কেননা আমরা ‘গৃহকর্ম’কে এখনো অত্যন্ত নিম্নমানের পেশা হিসেবে বিবেচনা করি। ‘চাকর-বাকর’ একটা পাবলিক ডিসকোর্স হিসেবে সমাজে জারি আছে, যা গৃহকর্মীকে এক ধরনের নিম্নস্তরের মানুষ হিসেবে সমাজে উপস্থাপন করে। ‘কাজের বেটি’, ‘কাজে মেয়ে’, ‘কাজের লোক’ কিংবা বুয়া বা বান্দা বুয়া, ছুটা বুয়া প্রভৃতি সমাজে এখনো নিম্ন সামাজিক মর্যাদার ক্যাটাগরি হিসেবে জারি আছে। কিন্তু ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, উকিল, মোক্তার, ব্যাংকার, শিক্ষক, ব্যবসায়ী প্রভৃতি যেমন একেকটি পেশা এবং পেশাজীবী ক্যাটাগরি, গৃহকর্মও সে রকম একটি পেশা এবং গৃহকর্মীরাও একটি পেশাজীবী শ্রেণি। সমাজের মনস্তত্তে¡ যতদিন না পর্যন্ত এ মর্যাদাবোধ জন্ম না নেবে, ততদিন পর্যন্ত আসমারা নির্মম নির্যাতনের শিকার হবে এবং আমাদের ‘গা-সওয়া সমাজ’ সেটা নির্বিকারে সহ্য করে যাবে।
পরিশেষে বলব, ১৯৪৮ সালে জাতিসংঘের সর্বজনীন মানবাধিকার ঘোষণার অনুচ্ছেদ ১ অনুযায়ী, ‘প্রতিটি নাগরিক জন্মগতভাবে স্বাধীন এবং মর্যাদা ও অধিকারের ক্ষেত্রে ধর্ম, গোত্র, গাত্রবর্ণ, জেন্ডার, ভাষা, রাজনৈতিক বা ভিন্নমত, জাতীয় অথবা সামাজিক উৎস (ঙৎরমরহ), সম্পদ, জন্ম বা অন্যান্য স্ট্যাটাস-নিরক্ষেপভাবে সমান। অনুচ্ছেদ ১২ অনুযায়ী কোনো ব্যক্তির পরিবার, গৃহ ও পত্র যোগাযোগ- এসব ক্ষেত্রে স্বেচ্ছাচারিতামূলক হস্তক্ষেপ বা বিঘ্ন সৃষ্টি করা এবং তার সম্মান ও মর্যাদায় আঘাত করা যাবে না।’ ২০১৫ সালে বাংলাদেশের তৈরি করা ‘গৃহকর্মী সুরক্ষা ও কল্যাণ নীতি’ নীতিমালার প্রস্তাবনায়ও জাতিসংঘের সর্বজনীন মানবাধিকার সনদের এ অনুচ্ছেদগুলো উল্লেখ করা হয়েছে এবং এ অনুচ্ছেদগুলোর আলোকে ‘গৃহকর্মী সুরক্ষা ও কল্যাণ নীতি’ নীতিমালা তৈরি করা হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে আমরা এর প্রয়োগ খুব কমই দেখি। এজন্যই বলে ‘কাজীর গরু কিতাবে আছে, গোয়ালে নাই’। আসমাদের দীর্ঘশ্বাসে সমাজের বাতাস ভারী হয়ে উঠছে। বাতাস থেকে অক্সিজেন নিতে গেলে আসমাদের দীর্ঘশ্বাসের স্বাদও আমাদের নিতে হবে, যদি না আমরা শ্রমের মর্যাদা এবং শ্রমিকের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত না করি। গৃহকর্মী নির্যাতনের দ্রুত বিচারই সমাজে এ নির্যাতনের পরিমাণ ক্রমান্বয়ে কমাতে পারে। কেননা যে সমাজ নির্মমতার বিচার করে না, সে সমাজ প্রকারান্তরে নির্মমতা লালন করে। আর যে সমাজ নির্মমতা লালন করে, সে সমাজ ‘মানুষের সমাজ’ নয়।

ড. রাহমান নাসির উদ্দিন : নৃবিজ্ঞানী ও অধ্যাপক, নৃবিজ্ঞান বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।

[email protected]

এসআর