উপনির্বাচনে অংশ নেবে না বিএনপি

আগের সংবাদ

গাইবান্ধায় নদীগর্ভে বাড়িঘর ও বিদ্যালয়

পরের সংবাদ

সড়ক-মহাসড়কে চাঁদাবাজি

পুলিশের আরো দায়িত্বশীল ভূমিকা চাই

সম্পাদকীয়

প্রকাশিত হয়েছে: জুলাই ৫, ২০২০ , ৮:৩৮ অপরাহ্ণ

পরিবহন চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে পুলিশ কঠোর অবস্থানের মধ্যেও চাঁদাবাজি চলছে। করোনা ভাইরাস সংক্রমণের মধ্যেও কৌশল পাল্টেছে বেপরোয়া চাঁদাবাজরা। দেশের সড়ক-মহাসড়কগুলোতে ‘কৌশলে চাঁদাবাজি’ চলার সংবাদ উদ্বেগজনক। এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন গতকাল ভোরের কাগজে প্রকাশিত হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, সড়ক-মহাসড়কে চাঁদাবাজি বন্ধে পুলিশ গত ১ জুন থেকে অভিযান শুরু করে। ১৮ জুন পর্যন্ত পুলিশের অভিযানে ১১৪ জন গ্রেপ্তার এবং এসব ঘটনায় ৫১টি মামলা হয়েছে। তবে এরপরও সড়কে চাঁদাবাজি অব্যাহত রয়েছে। সড়কে গাড়ি থামিয়ে এবং স্ট্যান্ডে দাঁড়িয়ে কিছু অসাধু ব্যক্তি বিভিন্ন পরিবহন থেকে অবৈধভাবে এ চাঁদা উত্তোলন করছে। দেশের উত্তরবঙ্গের সড়ক-মহাসড়কে সবচেয়ে বেশি চাঁদাবাজির ঘটনা ঘটছে। এখনো এই জোনেই পরিবহন সেক্টরে সবচেয়ে বেশি চাঁদাবাজি হচ্ছে। মহাসড়কের কোনো কোনো স্থানে পৌরকর ও মসজিদ উন্নয়নের নামে প্রতিদিন আদায় করা হচ্ছে মোটা অঙ্কের অর্থ। প্রতিবেদন অনুযায়ী, চাঁদাবাজির এ চিত্র শুধু মহাসড়কগুলোর; দেশের প্রতিটি জেলা-উপজেলার অভ্যন্তরের বিভিন্ন সড়কে চাঁদাবাজির ব্যাপকতা নাকি আরো বেশি। যেখানে পুলিশ চাঁদাবাজি বন্ধে তৎপর সেখানে উল্টো চিত্রও দেখা যাচ্ছে বিভিন্ন মহাসড়কে। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে হাইওয়ে, শিল্প পুলিশসহ চাঁদাবাজির অভিযোগ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিরুদ্ধে পাওয়া যাচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে পরিবহন মালিকরা কার্যত অসহায়। নানা অজুহাতে মামলা হয় পণ্যবাহী পরিবহনের বিরুদ্ধে। গাড়ি ঠিক থাকলেও মামলাসহ হয়রানির নজির অহরহ। অর্থাৎ টাকা না দিলেই এসব হয়রানি নীরবে সহ্য করতে হয়। টাকা দিলে মামলাও হয় না, হয়রানিও নেই। সড়ক-মহাসড়কে চাঁদাবাজি বন্ধে গত ২৯ মে আইজিপির সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন, বাংলাদেশ বাস-ট্রাক ওনার্স এসোসিয়েশনের সব নেতা উপস্থিত ছিলেন। তারা আইজিপিকে অবৈধ চাঁদা বন্ধে ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ জানান। আইজিপি পরিবহনে চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে অভিযান চালানোর কথাও পরিবহন নেতাদের জানিয়ে দেন। এরপর আমরা কিছু অভিযানও দেখতে পেলাম। কিন্তু নানাভাবে চাঁদাবাজি এখনো চলছে বলে গণমাধ্যমে খবর আসছে। পরিবহন খাতের চাঁদাবাজির বিষয়টি একেবারে ওপেন সিক্রেট। দীর্ঘদিন ধরে এ খাতে শত শত কোটি টাকার চাঁদা আদায় করছে বিভিন্ন সংগঠন, যা নিয়ে বিভিন্ন সময়ে ব্যাপক আলোচনা হয়েছে। ২০১৯ সালে পুলিশের এক প্রতিবেদনে বলা হয় শুধু মহাসড়কে ২০১৮ সালে ৮৭ কোটি টাকার চাঁদা আদায় করা হয়। ২১৫টি সংস্থা ও সংগঠন মহাসড়কে চলাচলকারী যানবাহন থেকে দিনে গড়ে ২৪ লাখ টাকা চাঁদা তোলে। বলার অপেক্ষা রাখে না, দেশে অধিকংশ চাঁদাবাজির ঘটনা ঘটছে ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মী ও ক্যাডার বাহিনীর ছত্রছায়ায়। কাজেই রাজনৈতিক নেতৃত্বের উদ্যোগ ও আন্তরিকতা ছাড়া শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষে চাঁদাবাজি নির্মূল করা সম্ভব নয়। সারাদেশের সড়ক-মহাসড়কে চাঁদাবাজির সঙ্গে যুক্তদের গ্রেপ্তার ও আইনের আওতায় এনে বিচারের মুখোমুখি করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি সরকারকে দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিতে হবে।

এসআর