কারিগরি শিক্ষায় বয়সের সিদ্ধান্ত বাতিলের আহ্বান

আগের সংবাদ

১৪ জুলাই বগুড়া-১ ও যশোর-৬ আসনে ভোট

পরের সংবাদ

৮ বছর পর নাড়িছেঁড়া ধন ফিরে পেলেন মা

পটুয়াখালী প্রতিনিধি

প্রকাশিত হয়েছে: জুলাই ৪, ২০২০ , ৬:০১ অপরাহ্ণ

নিখোঁজ হওয়ার দীর্ঘ আট বছর পরে পটুয়াখালী ইসলামী আন্দোলনের সেক্রেটারি আর আই এম অহিদুজ্জামানের সহযোগিতায় পরিবারকে ফিরে পেয়েছে মাইদুল ইসলাম সুজন (১৮)। শুক্রবার (৩ জুলাই) রাতে সদর থানা থেকে তাকে বাড়ি নিয়ে যায় মা বিলকিস বেগমসহ পরিবার।

জানা গেছে, ২০১২ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি দুপুরে মাইদুল ইসলাম সুজন (১০) মামার বাসা থেকে মাদ্রাসায় যাওয়ার পথে হারিয়ে যায়। এরপর অনেক খোঁজাখুঁজি করে না পেয়ে সে সময় ঢাকার তুরাগ থানায় মা বিলকিস বেগম একটি জিডি করেন।

অহিদুজ্জামান জানান, বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) আমার এক ছোট ভাইয়ের মাধ্যমে শহরে কলাতলা এলাকার প্রিয়জন কম্পিউটারে মাইদুলের সন্ধান পাই। মাইদুল বলে, তার বাবার নাম মতিউর রহমান মুন্সি, মায়ের নাম বিলকিস, টেপুরা। এরপর আমতলী থানার হলুদিয়া ইউনিয়নের টেপুরার সাবেক ইউপি সদস্য মোহাম্মদ আবু সালেহ্ ভাইকে মুঠোফোনে আমি বিষয়টি জানাই। পরে তিনি সকল তথ্য উপাত্ত বিশ্লেষণ করে ছেলেটিকে সনাক্ত করেন।

তিনি (ইউপি সদস্য মোহাম্মদ আবু সালেহ্) জানান, ২০১২ সাল থেকে আমতলী থানার হলুদিয়া ইউনিয়নের টেপুরা গ্রামের সকলে ছেলেটিকে খোঁজ করতে ছিল। সকল স্থানে খোঁজ করেও যখন পাইনি তখন তারা হতাশ হয়ে খোঁজ করা বন্ধ করে দেয়। পরে শুক্রবার (৩ জুলাই) দুপুরে মাইদুলকে নিয়ে তার বাড়ি উপস্থিত হই। এরপর ছেলের মা, নানী ও মামারা দেখে মাইদুলকে সনাক্ত করেন। এসময় ওই বাড়িতে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

তিনি আরও জানান, মাইদুলের খোঁজ পাওয়ার বিষয়টি আমি তাৎক্ষণিকভাবে পটুয়াখালী জেলা পুলিশের অভিভাবক চৌকস পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মইনুল হাসান পিপিএম ও ওসি আখতার মোরশেদ অবহিত করি। পরে পুলিশের মাধ্যমে মাইদুল তার পরিবারের কাছে ফিরে যায়। এসময় আমাকে জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাহফুজ রহমান ফুলেল শুভেচ্ছা জানান।

মাইদুলকে ফিরে পেয়ে মা বিলকিস বেগম আনন্দ অশ্রুসিক্ত নয়নে বলেন, আমার স্বামী নেই। আমি এতো দিন মরার মতো বেঁচে ছিলাম। আল্লাহর কাছে লাখ কোটি শুকরিয়া। আল্লাহর অশেষ রহমতে আমার নাড়িছেঁড়া ধন আমি ফেরত পাইছি।

মাইদুলের মামা জসিম উদ্দিন মুন্সি বলেন, দীর্ঘ বছর পরে আমরা ভাগিনা ফিরে পেয়ে আজ আনন্দিত। এরপর আল্লাহর কাছে আমাদের আর চাওয়া পাওয়ার কিছু নেই। মাইদুলকে যে আর ফিরে পাবো আমরা কোন দিন আশাও করি নাই। আজ আল্লাহর কাছে লাখ কোটি শুকরিয়া যে আল্লাহ আমাদের নেয়ামত দান করছে।

বরগুনা জেলার আমতলী থানার হলুদিয়া ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য ও দক্ষিণ কাঁঠালিয়া তাজেম আলী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মোহাম্মদ আবু সালেহ্ বলেন, বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) রাতে পটুয়াখালী ইসলামী আন্দোলনের সেক্রেটারি আর আই এম অহিদুজ্জামানের মাধ্যমে সংবাদ পাই, আমার ওয়ার্ডের এক ছেলে দীর্ঘদিন যাবৎ নিখোঁজ ছিলো তাকে পটুয়াখালীতে পাওয়া গেছে। পরে তার দেয়া তথ্য অনুযায়ী, ওই এলাকায় খোঁজ নিলে মাইদুলের ছোট নানা হলদিয়া টেপুরা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককের কাছ থেকে সার্বিক তথ্য নেই। এরপর সঠিক তথ্য দেওয়ায় আমি বিষয় টি জানাই। শুক্রবার দুপুর ১ টায় সেই মাহিন্দ্র ক্ষণ আসে যার ফলে দির্ঘ ৮ বছর পরে টেপুরার এক মা তার সন্তান ফিরে পেয়েছে। টেপুরাবাসী আনন্দিত।

পিআর