মেসি-রোনালদো জুটির সম্ভাবনা উড়িয়ে দিলেন সেতিয়েন

আগের সংবাদ

নন-এমপিওর টাকা নিচ্ছেন সরকারি শিক্ষকেরাও

পরের সংবাদ

চরম ক্ষোভ-হতাশা

হ য ব র ল ভাবে চলছে যশোর শিক্ষাবোর্ড

আলমগীর কবীর, যশোর

প্রকাশিত হয়েছে: জুলাই ৪, ২০২০ , ১০:০৪ অপরাহ্ণ

যশোর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডে চেয়ারম্যান হিসেবে প্রফেসর ড. মোল্লা আমীর হোসেন যোগদানের পর হ-য-ব-র-ল (বিশৃঙ্খল) ভাবে চলছে বোর্ডের সকল কার্যক্রম। এ নিয়ে বোর্ডে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মাঝে বিরুপ প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। এমনকি তিনি যোগদানের পর মাত্র ৫ মাসের মধ্যে তার মনোনীত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাউকে কাউকে তৃতীয় দফায়ও বদলি করেছেন। অভিযোগ রয়েছে তার মনোনীত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সুবিধা দিতেই তিনি এমনটা করেছেন।

জানা গেছে, চেয়ারম্যান হিসেবে যোগদানের এক সপ্তাহের মাথায় তিনি এক অফিস আদেশে সেকশন অফিসার মো. মোজাম্মেল হোসেনকে চেয়ারম্যানের দপ্তর থেকে বিদ্যালয় নিবন্ধন শাখায় বদলি করেন। তার স্থলে সেকশন অফিসার মো. হারুন অর রশিদকে চেয়ারম্যানের একান্ত সচিব হিসাবে ভারপ্রাপ্ত দায়িত্ব দেয়া হয়। কাজে অদক্ষ হওয়া সত্ত্বেও তাকে রেখে পুনরায় সেকশন অফিসার মোজাম্মেল হোসেনকে বিদ্যালয় নিবন্ধন শাখার দায়িত্বসহ একান্ত সচিবের সহকারী হিসেবে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেয়া হয়। চাকরির ক্ষেত্রে দক্ষতাসহ সিনিয়র হয়েও তাকে জুনিয়ারের অধীনস্থ করা হয়েছে। শুধু মোজাম্মেল হোসেনকে নয়, অফিস ই-ম্যানেজনেন্ট অজুহাতে কাজ নেই দাবি করে রেকর্ড সাপ্লায়ার মশিয়ার রহমান ও দেলোয়ার হোসেনকে দারোয়ান পদে পদায়ন করা হয়। তবে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, তারা শ্রমিক কর্মচারী লীগ ও সিবিএ নেতা হওয়ায় তাদেরকে সরিয়ে তার মনোনীত এমএলএসএস পদের দুই জনকে রেকর্ড সাপ্লাইয়ারের স্থলে পদায়ন করা হয়েছে।

এছাড়া গত বছরের ৭ আগস্ট সিলেকশন কমিটির সভার সিদ্ধান্ত মোতাবেক ২৪ সেপ্টম্বর ২০১৯ তারিখে প্রশা-৫/১০৪ (৩)/১০৮৩ (৩২) স্মারকে উচ্চমান সহকারী মো. মোমিন উদ্দীন ও আব্দুল আলীমকে সেকশন অফিসারের ভারপ্রাপ্ত দায়িত্ব প্রদান করে পদায়ন হয়। কিন্তু চেয়ারম্যান মোল্লা আমীর হোসেন যোগদানের প্রথম সপ্তাহে মো. মোমিন উদ্দীনকে একক সিদ্ধান্তে সেকশন অফিসার ভারপ্রাপ্ত পদ প্রত্যাহার করে পুনরায় উচ্চমান সহকারী হিসেবে হিসাব শাখায় পদায়ন করা হয়। অথচ আব্দুল আলীমকে জুনিয়র হওয়া সত্ত্বেও চেয়ারম্যানের মনোনীত হওয়ায় তাকে স্বপদে বহাল রেখেছেন। এ ধরনের একাধিক অভিযোগ রয়েছে চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মোল্লা আমীর হোসেনের বিরুদ্ধে।

এসব ঘটনায় সিবিএ নেতা কর্মীরা পত্রিকা দপ্তরে লিখিতভাবে অভিযোগ করেন যে সিবিএ নেতা ও শ্রমিক কর্মচারীলীগ করার কারণে তাদের মর্যাদা ক্ষুণ্ন করতে চেয়ারম্যান তার মদদপুষ্ঠ পক্ষের সাথে আঁতাত করে এ ধরনের কাজ করছেন। সিবিএ নেতাদের দাবি দপ্তর পরিবর্তন হতেই পারে, তবে বোর্ডে কিছু গুরুত্বপূর্ণ সেকশন রয়েছে, যেখানে চেয়ারম্যান একক সিদ্ধান্তে নিজের মনোনীত অদক্ষ লোক পদায়ন করছেন। এতে করে দক্ষ কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মনোবল ভেঙ্গে পড়ছে, ব্যাহত হচ্ছে বোর্ডের সকল কার্যক্রমের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা। এতে করে কর্মকর্তাদের মধ্যে বিরুপ প্রভাব পড়ছে।

তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, প্রফেসর ড. মোল্লা আমির হোসেন এ বছরের ২৯ জানুয়ারি যশোর বোর্ডে চেয়ারম্যান হিসেবে যোগদান করেন। এরপর ১ মার্চ তিনি ঘটা করে সব ধরনের কাজের ডিজিটালাইজড সিস্টেমের আপডেট ভার্সন উদ্বোধন করেন। কিন্ত অনলাইন কাজে অভিজ্ঞ কর্মকর্তা কর্মচারীগণ তার মনোনীত না হওয়ায় অদক্ষ ও অনভিজ্ঞ ব্যক্তিদের দিয়ে কার্যক্রম পরিচালনার ব্যর্থ চেষ্টা করছেন। আর এতে করে সব ধরনের আবেদন তিন কার্যদিবসের মধ্যে নিষ্পত্তি হওয়ার কথা থাকলেও দীর্ঘ চারমাসের মধ্যে এসব আবেদন নিষ্পত্তি হয়নি।

বোর্ড চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মোল্লা আমীর হোসেন

অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, ম্যানেজিং কমিটি নিষ্পত্তির জন্যে গত ৯ ফেব্রুয়ারি ২১৬৫৩ ও ২১৬৫২, ৬ ফেব্রুয়ারী ২১৬২৩, ১৫ জানুয়ারি ২১৪১৭, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২১৮০৯ নম্বর আইডিতে আবেদন জমা হয়। এ রিপোর্ট লেখা সময় পর্যন্ত এ আবেদনগুলো নিষ্পত্তি করতে পারেনি চেয়ারম্যান সৃষ্ট জটিলতায়। এছাড়া, ৩ ফেব্রুয়ারি লাউজানি এনএম মাধ্যমিক বিদ্যালয় এডহক কমিটি অনুমোদনের জন্য ২১৫৮২ নম্বর আইডিতে আবেদন করেন। কিন্ত তিন দিনে নয় তা পাঁচ মাস পরে গত ২ জুলাই নিষ্পত্তি করা হয়।

চেয়ারম্যানের বক্তব্য অনুযায়ী, সব ধরনের আবেদন তিন কার্যদিবসের মধ্যে নিষ্পত্তি হওয়ার কথা থাকলেও দীর্ঘ সময়েও তিনি আবেদন নিষ্পত্তি করতে পারেননি। এ ধরনের শত শত আবেদন পড়ে রয়েছে। কেবল ম্যানেজিং কমিটি নিষ্পত্তির আবেদন না, স্বীকৃতি নবায়নের আবেদনও একইভাবে পড়ে আছে বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।

একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, চেয়ারম্যান তার চেয়ার টিকিয়ে রাখতে লোক দেখানোর জন্যে একেক সময় একেক কাজ সামনে আনছেন। যার কোনো বাস্তবায়ন নেই।

করোনা সংকট উপলক্ষে কর্মকর্তা-কর্মচারী নেতাদের নিয়ে গঠিত করোনা সাহায্য কমিটির সভাপতি ও উপ-পরিচালক (হি ও নি) মো. এমদাদুল হক স্বাক্ষরিত রেজুলেশন থেকে জানা গেছে, যশোর জেলা প্রশাসকের তহবিলে দুই লক্ষ টাকা অনুদানের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। অথচ চেয়ারম্যান কাউকে কিছু না জানিয়ে একক সিদ্ধান্তে আট লাখ টাকা দিয়েছেন। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

তাদের বক্তব্য, বোর্ডের কেউ যদি বিপদে পড়েন তাহলে তাদের কিভাবে সহযোগিতা করবেন তিনি। আর তাছাড়া অনুদানের ওই টাকাতো কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাছ থেকে নেয়া হয়েছে। তাহলে চেয়ারম্যান একক সিদ্ধান্তে ব্যয় করেন কীভাবে?’ সবমিলিয়ে বোর্ড চেয়ারম্যান মোল্লা আমীরের কর্মকান্ডে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

অভিযোগের ব্যাপারে যশোর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডেও চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মোল্লা আমীর হোসেন বলেন, করোনার কারণে অর্ধেক জনবল নিয়ে কাজ করছি। যে কারণে অনেক কাজ ঠিকঠাকভাবে করতে পারছি না।

যশোর শিক্ষা বোর্ড এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ)‘র সাধারণ সম্পাদক ও যশোর জেলা শ্রমিক লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারন সম্পাদক মো. আসাদুজ্জামান বাবলু বলেন, চেয়ারম্যান মহোদয়ের নেয়া একক সিদ্ধান্তে বদলিসহ সকল কার্মকাণ্ড পরিচলনা করায় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে অসন্তোষ বিরাজ করছে। অনলাইনে অদক্ষ জনবল দিয়ে কাজ করানোয় ঠিকঠাকেো কাজ হচ্ছে না। যদি উনি সিবিএ‘সহ কর্মকর্তাদের সাথে আলোচনা করে সিদ্ধান্তসমূহ গ্রহণ করতেন তবে এ ধরনের সমস্যা সৃষ্টি হতো না। অফিসের সকল কাজে গতিশীলতা আসতো।

পিআর