স্ত্রীকে অপমানের বদলা নিতে কামান নিক্ষেপ!

আগের সংবাদ

ভারত-চীন উত্তেজনা চরমে, আরো ১৫ হাজার সেনা মোতায়েন

পরের সংবাদ

‘ভক্তরা জানে আমি একটু অন্যরকম’

রাব্বানী রাব্বি

প্রকাশিত হয়েছে: জুলাই ৪, ২০২০ , ১২:১৬ অপরাহ্ণ

সংগীতশিল্পী সালমা। একজন মানবাধিকারকর্মী হিসেবেও কাজ করছেন তিনি। সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের পাশে দাঁড়াতে গড়ে তুলেছেন সাফিয়া ফাউন্ডেশন। করোনার এই সময়টাতে কী করছেন সালমা, কীভাবে সময় কাটছে তার, এমনকি সংগীত নিয়ে কী পরিকল্পনা- সেসব জানতে মুঠোফোনে যোগাযোগ হয় তার সঙ্গে। সাক্ষাৎকার রাব্বানী রাব্বি

ঘরবন্দি সময়ে আপনাকে কোনো গানে পাওয়া যাচ্ছে না কেন?
জানুয়ারিতেই ‘তোমার অপেক্ষায়’ শিরোনামে হাবিবের সুর-সংগীতায়োজনে আমার একটি গান এসেছে। মার্চ থেকে শুরু হলো ঘরবন্দি জীবন। এই সময়টাতে আমি সাফিয়া ফাউন্ডেশনের হয়ে মানবসেবা করছি। গান গাইতে ইচ্ছা করেনি। অনেকেই তো গান করেছেন। তাই আমি আর এই সময়ে এই পথে হাঁটিনি। আমার কাছে ব্যক্তিগতভাবে মনে হয়েছে, দুর্যোগকালীন একবেলা যদি কারো মুখে খাবার তুলে দিতে পারি সেটাই অন্যতম একটা কাজ করলাম।

আমরা শুনেছি যে এই সময়টাতে আপনি অসহায়দের পাশে দাঁড়াচ্ছেন…
করোনার এই সাধারণ ছুটির তিন মাস আমরা আমাদের ফাউন্ডেশন থেকে নিম্নবিত্ত ও শিশুদের জন্য কাজ করেছি। প্রায় ১০ হাজার মানুষকে সহায়তা দিয়েছি। কাজ এখনো চলছে। সামনেও আমরা কিছু করব।

নতুন গান প্রকাশের ব্যাপারে কিছু ভেবেছেন?
হ্যাঁ, নতুন কিছু গান আমার হাতে রয়েছে। এখন যেহেতু লকডাউন উঠে যাচ্ছে, মানুষও ঘরে বসে এক প্রকার বিরক্ত হয়ে উঠেছেন; তাই ভাবছি দুয়েকটা গান অনলাইনে উপহার দিব। সত্যি বলতে কী, এর আগে আমরা যেভাবে গান নিয়ে কাজ করেছি, সেভাবে এখন কাজ করার ইচ্ছেটা অনেকটা কমে গেছে।

কেন?
দেখুন, আমরা যতই কাজ করি; আমাদের তো বাস্তবতা চিন্তা করতে হবে। বর্তমানে মৃত্যুর ভয় আমাদের প্রতিনিয়ত তাড়া করে বেড়াচ্ছে, তার মধ্যে কি আর গান গাওয়া যায়? মনের খোড়াকের জন্য হয়তোবা গুনগুন করে আমার বাসায় গান তৈরি করছি। কিন্তু আমরা কেউই জানি না নিজেরা কি কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত কিনা, বা আমার সঙ্গে কী ঘটছে? বাসায় আমার ছোট শিশু আছে, সে নিরাপত্তা পাচ্ছে কিনা বা আমি কতটুকু নিরাপদ। ওই যে মনের শান্তি, মনে শান্তি থাকলে সবই ভালো লাগে।

সংগীতশিল্পী সালমা

কিন্তু আপনার ভক্তরা তো এই সময়ে হয়তো গানের অপেক্ষায় ছিলেন?
আমার ভক্তরা জানে যে, আমি একটু অন্যরকম। তারা যেহেতু আমাকে ভালোবাসে, তারাও বুঝতে পারেন যে সালমা কেমন।

সামনে যে গানগুলো প্রকাশ করবেন, সেগুলো হয়তো সিঙ্গেল আকারে প্রকাশ করবেন। অ্যালবামে যেমন আট-নয়টি গান থাকত, এখন অনলাইনে এভাবে একসঙ্গে বেশকিছু গান প্রকাশের ইচ্ছে করে না?
অ্যালবামের যুগ তো এখন চলে গেছে। আমার মনে হয় যুগের সঙ্গে তাল মেলানোই ভালো। আগে অ্যালবামে আট-নয়টি গান থাকলেও সবগুলো গানের কদর তেমন হতো না। এখন একটি গান প্রকাশ করলেও তা মানুষের কাছে পৌঁছাচ্ছে, কদরও হচ্ছে। আগের চাইতে এটা একটা ভালো দিক।

এখন কোথায় আছেন? কীভাবে সময় কাটাচ্ছেন?
আমি ঢাকাতেই আছি। ঘরে রান্নাবান্না করছি। স্বামীর পছন্দের খাবার তৈরি করছি। দুজন মিলে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা করছি। কখনো আমি গুনগুন করে গান গাইছি। আমার স্বামী লেখালেখি করে। ও যখন বই পড়ে, তার পাশে বসে আমি বইপড়া শুনি। বাচ্চাদের সঙ্গে দাবা খেলি, লুডু খেলি। ওদের সঙ্গে মিউজিক লাইভ করি। বাগানে গাছের পরিচর্যা করি। এভাবেই সময় চলে যাচ্ছে।

করোনার কারণে মিউজিক ইন্ডাস্ট্রি যে বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে, তা নিয়ে যদি কিছু বলতেন?
আমরা তো জানতাম না যে, হুট করে বিপদে পড়ব। গতবারের সিজনটা কোনো মতো চলে গেছে। এবারে কোভিড-১৯ এমনভাবে আসছে যে, অনেকের ২০-২২টা শো ছিল এই সময়টায় কিন্তু একটা শো-ও করতে পারেনি। অন্যান্য সেক্টরের মতো এই খাতেও ধস নেমেছে। ইন্ডাস্ট্রিতে অনেকেই আছেন। এদের মধ্যে যাদের অর্থনৈতিক অবস্থা ভালো তাদের উচিত একজোট হয়ে অসচ্ছল শিল্পীদের পাশে দাঁড়িয়ে এই বিপদের মোকাবিলা করা। আর যদি মনে করা হয়, সবার অবস্থাই খারাপ তাহলে তো এভাবে বসে থাকলে কিছুই হবে না।

ভক্তদের উদ্দেশে এই সময়ে কী বলতে চাইবেন?
এই সময়ে ঘরে বসে অনেকেই নানানভাবে হতাশ হচ্ছেন কিংবা ভয় পাচ্ছেন। বাঁচা-মরার একটা চিন্তা থাকছে। আসলে পৃথিবীতে কোনো কিছুতে ভয় পেয়ে পিছিয়ে গেলে চলবে না, এর মাঝেই আমাদের বেঁচে থাকার যুদ্ধ করতে হবে এবং এ যুদ্ধে জয়ী হতে হবে। একটা বিষয় মনে রাখতে হবে, করোনাযুদ্ধে বেঁচে থাকতে হবে এবং এর জন্য যা যা নিয়ম মেনে চলা উচিত আমরা সেগুলো যথাযথভাবে মেনে চলব। বেঁচে থাকলে অনেক কিছু করা যাবে। আর ভক্তদের প্রতি আবেদন থাকবে, যাদের অর্থনৈতিক অবস্থা ভালো, তারা দরিদ্রদের মাঝে যতটুকু পারেন সামর্থ্যানুযায়ী অর্থ বিলিয়ে দিন।

এসআর