রাত পোহালেই কঠোর নিয়ন্ত্রণে ওয়ারী

আগের সংবাদ

পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী করোনায় আক্রান্ত

পরের সংবাদ

ঊর্ধ্বমুখী সংক্রমণে পরীক্ষা কমবে কেন?

সম্পাদকীয়

প্রকাশিত হয়েছে: জুলাই ৩, ২০২০ , ৮:৩৫ অপরাহ্ণ

করোনার ঊর্ধ্বমুখী সংক্রমণে দেশে পরীক্ষার সংখ্যা যখন বাড়ানো প্রয়োজন, ঠিক এ সময়ে পরীক্ষার সংখ্যা কমে গেছে। কমিয়ে দেয়া হয়েছে নমুনা সংগ্রহ। পাশাপাশি রয়েছে পরীক্ষায় ফি আরোপ। ফলে উপসর্গ থাকলেও অনেক সন্দেহভাজন রোগী পরীক্ষা করাতে পারছেন না। বর্তমানে অধিকাংশ মানুষ অর্থনৈতিক দৈন্যতার মধ্যে দিনাতিপাত করছে। এমতাবস্থায় করোনা নমুনা পরীক্ষায় সরকারিভাবে ফি আরোপ অমানবিক। বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা বলে আসছে, এই ভাইরাস নিয়ন্ত্রণের প্রধান কাজ হচ্ছে পরীক্ষা। এরপরও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বাস্তবতা কেন অনুধাবন করছে না- সেটা আমাদের বোধগম্য নয়। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর করোনা শনাক্তকরণ পরীক্ষার কিটের সংগ্রহ, বিতরণ ও মজুত সম্পর্কে এখন আর কোনো তথ্য প্রকাশ করছে না। একটি জাতীয় দৈনিকের খবরে জানা গেছে, বর্তমানে দেশের ৬৬টি নমুনা পরীক্ষা কেন্দ্রে ৯টি জেলায় অন্তত ১২টি পরীক্ষা কেন্দ্রে কিটের সংকট রয়েছে। তাছাড়া অধিকাংশ কেন্দ্রে ৩-৪ দিন পরীক্ষা চালানোর মতো কিট মজুত রয়েছে। উল্লেখ্য, ৬৪ জেলার মধ্যে ৪৩ জেলায় ল্যাব নেই। ২১ জেলায় ল্যাব রয়েছে। যেসব জেলা-উপজেলায় ল্যাব নেই- সেসব জেলায় সংগৃহীত নমুনা পাশের জেলা বা ঢাকায় পাঠানো হয়। দেশে বর্তমানে যেসব পিসিআর ল্যাব রয়েছে- সেগুলোতে প্রয়োজনীয় কিট ও দক্ষ জনবল থাকলে প্রতিদিন ৩০ হাজার নমুনা পরীক্ষা করা সম্ভব। কিন্তু প্রতিদিন পরীক্ষা হচ্ছে ১৫-১৬ হাজার। গত ১৯ থেকে ২৫ জুন পর্যন্ত ৯৮ হাজার ২৭২টি নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। পরীক্ষার অপেক্ষায় রয়েছে ১৮ হাজার ৯৬৫টি নমুনা। একদিকে কিট ও দক্ষ জনবল সংকটে পরীক্ষার ধীরগতি অন্যদিকে ফি নির্ধারণে সাধারণ মানুষের মাঝে আগ্রহ কম। পূর্বের সম্পাদকীয়তে আমরা বলেছিলাম, করোনা পরীক্ষার ফি নির্ধারণ দরিদ্র মানুষ পরীক্ষার সুযোগ কম নেবে। এতে সংক্রমণ ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এই দুঃসময়ে দেশের বহু মানুষ কর্মহীন। জীবন-জীবিকা কঠিন হয়ে যাওয়ায় বড় শহর থেকে মানুষ গ্রামে ফেরত যাচ্ছে। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, ৪৩ শতাংশ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে বাস করছে। তিন বেলা আহারে যাদের কষ্ট হচ্ছে সেখানে টাকা দিয়ে পরীক্ষা করানোকে তারা কতটা গুরুত্ব দেবে। এছাড়া রয়েছে নমুনা সংগ্রহে নানা ধরনের বিশৃঙ্খলা। যেসব হাসপাতাল বা বুথে পরীক্ষা করা হচ্ছে সেখানকার পরিবেশ নিয়েও রয়েছে নানা প্রশ্ন। কোথাও গাদাগাদি করে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে ঘণ্টার পর ঘণ্টা। আবার কোথাও একই ঘরের মধ্যে নমুনা পরীক্ষা করতে যাওয়া সবাইকে বসিয়ে রাখা হচ্ছে। সংক্রমণের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা যখন অব্যাহত রয়েছে, তখন পেছন ফিরে তাকিয়ে দেখা উচিত, আমরা কোন কোন ক্ষেত্রে কী কী ভুল করছি, সীমাবদ্ধতাগুলো কী ছিল। পৃথিবীরজুড়ে চেষ্টা চলছে এই মহামারি মোকাবিলার জন্য। সবাই দিনে দিনে উন্নতি করছে। আমরা কেন পিছিয়ে পড়ছি? এই মহাদুর্যোগের সময় রাষ্ট্রকে তার নাগরিকের পাশে দাঁড়াতে হবে, প্রান্তিক মানুষকে সুরক্ষা দেয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। সরকারের করোনা পরীক্ষার ফি নেয়ার সিদ্ধান্তের বিষয়টি নতুন করে ভাবতে হবে। কিট সংকট সমাধানের বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনায় আনতে হবে।

এসআর