করোনা উপসর্গ নিয়ে খালেদা জিয়ার উপদেষ্টার মৃত্যু

আগের সংবাদ

বানের পানিতে ভেসে গেছে কোটি টাকার বালি পাথর

পরের সংবাদ

অভিনয়ে চার দশক পেরিয়ে মানস বন্দ্যোপাধ্যায়

বিনোদন প্রতিবেদক

প্রকাশিত হয়েছে: জুলাই ৩, ২০২০ , ৪:০৬ অপরাহ্ণ

বাংলাদেশের নাট্যাঙ্গনের বরেণ্য অভিনেতা মানস বন্দ্যোপাধ্যায় অভিনয় জীবনের চার দশকেরও বেশি সময় অতিক্রম করছেন। দীর্ঘ এই চার দশকেরও বেশি সময়কালে তিনি অনেক দর্শকপ্রিয় টিভি নাটক, মঞ্চ নাটক, সিনেমা এবং বিজ্ঞাপনে কাজ করেছেন। ফরিদপুরের ‘সুনিয়ম নাট্যচক্র’র সাথে সম্পৃক্ত থেকে অভিনয় জীবনে পথ চলা শুরু। এই দলের হয়ে প্রথম তিনি বিপ্লব বালা’র নির্দেশনায় ‘সাজানো বাগান’ নাটকে প্রথম অভিনয় করেন। প্রায় চার/পাঁচ বছর এই দলের হয়ে অভিনয় করেছেন তিনি। পরবর্তীতে ঢাকায় এসে প্রথম খ ম হারুনের প্রযোজনায় ‘সানাই নয়’ নাটকে অভিনয় করেন যাতে তার বিপরীতে ছিলেন তারানা হালিম। নাটকে তাকে দেখে অনেকে ভেবেছিলেন তিনি কুমার বিশ্বজিৎ। পরবর্তীতে আল মনসুরের প্রযোজনায় ‘লাইলী মজনু’ নাটকে অভিনয় করে সাড়া ফেলেছিলেন তিনি। এতে মজনু চরিত্রে মানস এবং লাইলী চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন প্রয়াত দিতি। এই নাটকের জনপ্রিয়তার রেশ ধরেই পরিচালক ইবনে মিজান মানস বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে নির্মাণ করেছিলেন ‘পুণর্মিলন’ সিনেমাটি। এতে তার বিপরীতে ছিলেন নূতন। নাটকে মানস বন্দ্যোপাধ্যায় আরো সাড়া ফেলেছিলেন জিয়া আনসারীর প্রযোজনায় ‘প্রতিশ্রুতি’, বরকত উল্যাহ’র প্রযোজনায় ‘ঢাকায় থাকি’, শেখ রিয়াজ উদ্দিন বাদশা’র প্রযোজনায় ‘টং ঘর’সহ আরো বেশকিছু নাটকে অভিনয় করে। নারায়ণ ঘোষ মিতা’র ‘সাহেব’, খান আতাউর রহমানের ‘হিসাব নিকাশ’ দেলোয়ার জাহান ঝন্টুর ‘ভাইয়ের আদর’, মতিন রহমানের ‘মন মানেনা’ সিনেমা’সহ আরো বেশকিছু সিনেমাতে অভিনয় করেও প্রশংসিত হন তিনি। অভিনয় জীবনের শুরুতে ‘আনোয়ার শার্টিং স্যুটিং’ ও ‘রবিন ব্লু’র বিজ্ঞাপনে মডেল হিসেবে কাজ করেও বেশ আলোচনায় এসেছিলেন তিনি। দেখতে দেখতে মানস বন্দ্যোপাধ্যায় তার অভিনয় জীবনের চার দশক অতিক্রম করেছেন। পেশাগতভাবে ১৯৭৮/৭৯ সালে ‘সানাই ঘর’এ অভিনয়ের মধ্যে দিয়েই তার অভিনয় জীবন শুরু হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোক প্রশাসন বিভাগ থেকে মানস বন্দ্যোপাধ্যায় অনার্স মাস্টার্স সম্পন্ন করেন।

দীর্ঘ চার দশকেরও বেশি সময়ে অভিনয় জীবনের পথচলা প্রসঙ্গে মানস বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন,‘ সত্যি বলতে কী দীর্ঘদিনের অভিনয় জীবনের পথচলায় দর্শকের ভালোবাসাই যেন পরম পাওয়া। দর্শক আমার অভিনয় দেখেই তাদের ভালোবাসার বহি:প্রকাশ ঘটিয়েছেন, এখনো দর্শকের ভালোবাসাতেই সিক্ত হচ্ছি। অভিনয়ের বাইরেতো জীবনে আর কিছুই করিনি, করার চেষ্টাও করিনি। কিন্তু এই দেশে অভিনয়ের সাথে সম্পৃক্ত শিল্পীদের যথাযথভাবে মূল্যায়ণ করা হয়না। মরনের পর শিল্পীদের মরনোত্তর সম্মাননা দেয়া হয়, অথচ বেঁচে থাকতে শিল্পী তার প্রাপ্য সম্মান পায়না। বিষয়টি ইদানীং খুব পীড়া দিচ্ছে প্রতিনিয়ত আমাকে। তারপরও আমি অভিনেতা, এটাই আমার গর্ব, এটাই আমার অহংকার।’

ডিসি