বনানীতে চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন লতিফুর রহমান

আগের সংবাদ

থমকে গেছে রোহিঙ্গা ফেরানোর প্রক্রিয়া

পরের সংবাদ

করোনার পিক নিয়ে ধোঁয়াশা

প্রকাশিত: জুলাই ২, ২০২০ , ৯:৩৭ পূর্বাহ্ণ আপডেট: জুলাই ২, ২০২০ , ১২:৪৬ অপরাহ্ণ

বর্তমানে চলমান দুর্যোগে সবার দৃষ্টি ‘করোনার পিক’ (সর্বোচ্চ সংক্রমণ)-এর দিকে। কখন চূড়ায় পৌঁছাবে সংক্রমণ? কারণ এরপরই ধীরে ধীরে কমে আসতে শুরু করবে করোনার ভয়াবহতা। বিশ্বের করোনার আক্রান্ত বিভিন্ন দেশেও দেখা গেছে পিকে পৌঁছানোর পর ধীরে ধীরে সংক্রমণ কমে এসেছে।

বাংলাদেশে করোনা কখন পিকে পৌঁছাবে এ নিয়ে স্পষ্ট করে এখনো কিছু বলতে পারছেন না বিশেষজ্ঞরা। এ নিয়ে তাদের মধ্যে রয়েছে দুধরনের মতামত। উভয় মতের পক্ষেই আছে যুক্তি ও তথ্য। একদল বিশেষজ্ঞ মনে করছেন, বাংলাদেশের করোনা পরিস্থিতির এখনো পিক সিজন শুরু হয়নি এবং করোনা সংক্রমণ ধাপে ধাপে বাড়তে থাকবে। আমাদের নিয়ম মানার ওপর পিক কবে আসবে সেটি নির্ধারিত হবে। অপরপক্ষ মনে করছেন, এখন বাংলাদেশে করোনার পিক সিজন চলছে। বিশ্বের করোনা সংক্রমণের যে ট্রেন্ড, সেই ট্রেন্ডের সঙ্গে তুলনা করে তারা মনে করেন, জুলাই মাসেই দেশের করোনার সংক্রমণ ধীরে ধীরে কমতে শুরু করবে।

এমন পরিস্থিতিতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, মহামারি করোনা ভাইরাসের প্রকোপ তো শেষ হয়নি, শেষ হওয়ার কাছাকাছিও যায়নি। বরং ভাইরাসটির সংক্রমণের ভয়াবহ ধাপটি সামনে অপেক্ষা করছে। অবস্থা এমন চলতে থাকলে করোনা সংক্রমণের সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতির শঙ্কা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

যারা মনে করছেন এখনো দেশে করোনার সর্বোচ্চ সংক্রমণ শুরু হয়নি তাদের যুক্তি হলো করোনা সংক্রমণ ঠেকানোর জন্য একমাত্র পথ লকডাউন, বেশি সংখ্যায় নমুনা পরীক্ষা করা, শনাক্তদের আলাদা করা এবং শনাক্তদের সংস্পর্শে যারা এসেছে তাদেরও আলাদা করা। কিন্তু বাংলাদেশ সেপথে হাটছে না। বরং করোনার সঙ্গে বসবাসের নীতি গ্রহণ করেছে। এখন দৈনিক যে পরিমাণ নমুনা পরীক্ষা করা হচ্ছে তা যে একেবারেই অপ্রতুল এ বিষয়ে কারো সংশয় নেই। যার ফলে বাংলাদেশে সামাজিক সংক্রমণ ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ছে, আর সংক্রমণের হার প্রতিনিয়ত বাড়ছে। যতক্ষণ পর্যন্ত কঠোর লকডাউন কার্যকর না হবে, সংক্রমিতদের এবং তাদের সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আলাদা না করা যাচ্ছে সেপর্যন্ত সংক্রমণ কমার কোনো সম্ভাবনাই নেই।

দেশে করোনার পিক-টাইম কখন আসবে তা এখনি বলা যাবে না বলে মনে করেন পাবলিক হেল্থ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া) সাবেক উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. মোজাহেরুল হক। তিনি ভোরের কাগজকে বলেন, ২০১৮ সালের সংক্রমণ দমন আইনটিও বলবৎ করতে আমরা ব্যর্থ হয়েছি। অপরদিকে দেশের মানুষও সচেতন নয়। ফলে সংক্রমণ বাড়ছে।

রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) উপদেষ্টা ও সাবেক বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডা. মুশতাক হোসেন জানান, প্রাকৃতিকভাবে এই ভাইরাসের প্রকোপ কমার সুযোগ নেই। স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করে নিয়ন্ত্রণ করতে পারলেই ভাইরাস থেকে মুক্তি মিলবে। অন্যথায় সব মানুষ আক্রান্ত হবে। করোনা সংক্রমণে পিক-টাইম বলে কিছু নেই। এটা খোঁজারও কোনো যৌক্তিকতা নেই। নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে যেদিন সংক্রমণ কমাতে পারব, সেদিনই মনে করতে হবে আমরা পিক সময় পার করেছি।

গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ও ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী এক অনুষ্ঠানে বলেছেন, করোনার পিক-টাইম আসবে জুলাই মাসে। আগামী দিনগুলোতে যখন করোনার পিক-টাইম আসবে তখন তা গ্রামগঞ্জে আরো ছড়িয়ে পড়বে। সেজন্য একটা সুস্থ স্বাস্থ্য ব্যবস্থা দরকার। করোনা সমস্যাটা কীভাবে সমাধান করবে সেই চিন্তা সরকারের মধ্যে নেই। আসলে সরকার একটা অন্ধকার ঘরে কালো বিড়াল খুঁজে বেড়াচ্ছে।

যারা বলছেন জুলাইয়ে বাংলাদেশ সংক্রমণ কমতে শুরু করবে তাদের যুক্তি হলো বাংলাদেশে বেশি সংখ্যক নমুন পরীক্ষা হয়নি এবং উপসর্গহীন বা মৃদু উপসর্গের রোগীর সংখ্যা বেশি। তাই হয়তো অনেকেই আক্রান্ত হয়েও কোনো চিকিৎসা ছাড়াই আপনা আপনি সুস্থ হয়ে উঠেছেন। অনেক বেশি মানুষ আক্রান্ত হয়েছে। এখন আস্তে আস্তে এই হার কমতে থাকবে। যারা আক্রান্ত হয়েছেন তারাও সুস্থ হয়ে উঠবেন।

আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন বাংলাদেশের অণুজীববিজ্ঞানী অধ্যাপক ড. বিজন কুমার শীল মনে করেন, আমরা করোনা সংক্রমণের পিক-টাইম অতিক্রম করছি, কিংবা পিক-টাইমের খুব কাছাকাছি রয়েছি। গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের র‌্যাপিড ডট ব্লট কিট উদ্ভাবন দলের প্রধান এই বিজ্ঞানী মনে করেন, ইতোমধ্যে বেশসংখ্যক মানুষ করোনা ভাইরাসের সংস্পর্শে এসেছেন। অনেকের মধ্যেই উপসর্গ ছিল না। কিংবা মৃদু লক্ষণ ছিল। তারপর তিনি সুস্থ হয়ে গেছেন। এসব রোগীর সংস্পর্শে যারা এসেছিলেন তাদের শরীরে ভাইরাসের বিরুদ্ধে এন্টিবডি তৈরি হয়েছে। ড. বিজন কুমার শীল বলেন, এই পরিবেশে ভাইরাসের পরিমাণ কমে আসবে। ধীরে ধীরে ভাইরাস যখন আর কোনো হোস্ট পাবে না, তখন ভাইরাস আর থাকবে না, চলে যাবে।

রাজশাহী জেলার স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের সভাপতি ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. চিন্ময় দাস ভোরের কাগজকে বলেন, করোনা মোকাবিলায় আমরা বারবার ঝুঁকিপূর্ণ পথে হাঁটছি। এতে করে সংক্রমণের চ‚ড়ায় কখন উঠে সংক্রমণ কার্ভটি নিচে নামবে তা অনুমান করা খুবই কঠিন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সহযোগী অধ্যাপক ও কোভিড-১৯ বিষয়ক সমন্বিত নিয়ন্ত্রণ কক্ষের যুগ্ম সদস্য সচিব ডা. রিজওয়ানুল করিম জানান, সামাজিক ও শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখা এবং ঘরে থাকার মতন প্রক্রিয়াগুলো মেনে চলা দিন দিন আমাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়ছে। পুরোপুরি না পারলেও ন্যূনতম ৬০-৭০ ভাগ সময় নিয়মগুলো যদি আমরা মেনে চলতে পারি তাহলে এই রোগের সংক্রমণ কমিয়ে আনা সম্ভব।

ডিসি

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়