মাস্টার, না সহকারী ময়ূরী চালাচ্ছিল কে

আগের সংবাদ

ঢাবির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ

পরের সংবাদ

হলি আর্টিজানে নৃশংসতার চার বছর পার

কাগজ প্রতিবেদক

প্রকাশিত হয়েছে: জুলাই ১, ২০২০ , ৯:৩১ পূর্বাহ্ণ

রাজধানীর গুলশানের হলি আর্টিজান রেস্টুরেন্টে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়ঙ্কর জঙ্গি হামলার চার বছর পূর্ণ হলো আজ। ২০১৬ সালের এই দিনে (১ জুলাই) গুলশানের ওই রেস্টুরেন্টে পাঁচজন সশস্ত্র জঙ্গি নৃশংস হামলা চালায়। এতে দুই পুলিশ কর্মকর্তা ও দেশি-বিদেশি নাগরিকসহ ২২ জন নিহত হন। পরের দিন ২ জুলাই সকালে সেনাবাহিনীর প্যারা কমান্ডো ব্যাটালিয়নের ‘থান্ডারবোল্ট’ অভিযানে পাঁচ জঙ্গি এবং রেস্টুরেন্টের এক কর্মচারী নিহত হন। গ্রেপ্তার করা হয় সন্দেহভাজন এক জঙ্গিকে।

হামলার ঘটনায় গুলশান থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। পরে মামলাটি ডিবিতে স্থানান্তর করা হয়। এরপর দুই বছরের বেশি সময় ধরে তদন্তের পর পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম এন্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের পরিদর্শক হুমায়ুন কবির ২০১৮ সালের ২৩ জুলাই ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে এ মামলার অভিযোগপত্র দেন। হামলার তদন্তে মোট ২১ জনকে চিহ্নিত করা হলেও জীবিত অবস্থায় গ্রেপ্তার আট আসামির (বাকি ১৩ জন বিভিন্ন সময় বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন) বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয় ওই বছরের ২৬ নভেম্বর। পরে একই বছরের ৩ ডিসেম্বর এ মামলার বিচার শুরু হয়।

বিশ্বে চাঞ্চল্য তৈরি করা ওই ঘটনায় রাষ্ট্রপক্ষে সর্বশেষ সাক্ষ্য দেন তদন্ত কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির। এতে তিনি বলেন, হলি আর্টিজানে হামলার আগে জঙ্গিরা বাংলাদেশে বড় ধরনের হামলার পরিকল্পনা করে। এর অংশ হিসেবে ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে গাইবান্ধার বোনারপাড়া বাজার এলাকার কলেজ মোড়ে একটি বাসায় মিটিং করে প্রথমে তারা হলি আর্টিজানে হামলার পরিকল্পনা করে।

এরপর রাষ্ট্রপক্ষে ২১১ জন সাক্ষীর মধ্যে ১১৩ জনের সাক্ষ্য এবং আত্মপক্ষ সমর্থনে আসামিদের বক্তব্য শোনার পর উভয় পক্ষের আইনজীবীদের যুক্তিতর্ক শুনানি হয়। পরে গত বছরের ২৭ নভেম্বর নজিরবিহীন এ জঙ্গি হামলায় নব্য জেএমবির সাত সদস্যের ফাঁসির রায় দেয় ঢাকার সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিচারক মজিবুর রহমান। ওই সাতজন হলেন, জাহাঙ্গীর হোসেন ওরফে রাজীব গান্ধী, আসলাম হোসেন ওরফে র‌্যাশ, আব্দুস সবুর খান, রাকিবুল হাসান রিগ্যান, হাদিসুর রহমান, শরিফুল ইসলাম ওরফে খালেদ ও মামুনুর রশিদ রিপন। মৃত্যু নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তাদের ফাঁসিতে ঝুলিয়ে রেখে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার আদেশ দেয়া হয় রায়ে। তবে, অপরাধে সংশ্লিষ্টতা প্রমাণিত না হওয়ায় এ মামলায় বিচারের মুখোমুখি করা আরেক আসামি মিজানুর রহমান ওরফে বড় মিজানকে খালাস দেয়া হয় রায়ে।

প্রসঙ্গত, রোজার ঈদের মাত্র এক সপ্তাহ আগে যেদিন ওই হামলা হয়, সেদিন ছিল শুক্রবার। পিস্তল, সাব মেশিনগান আর ধারাল অস্ত্র হাতে পাঁচ তরুণ রাত পৌনে ৯টার দিকে ওই ক্যাফেতে ঢুকে শুরু করে নৃশংসতা। জবাই ও গুলি করে ইতালির নয়, জাপানের সাত, ভারতের এক, একজন বাংলাদেশি বংশোদ্ভুত আমেরিকান নাগরিক এবং দুজন বাংলাদেশিকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। হামলা ঠেকাতে গিয়ে নিহত হন দুই পুলিশ কর্মকর্তা। সেই থেকে দিনটি বাংলাদেশের কাছে একটি কালো অধ্যায় হয়ে রয়েছে। যদিও এ হামলার পরে আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর একের পর এক অভিযানে উপড়ে ফেলা হয় জঙ্গিবাদের শিকড়।

ডিসি